ঢাকা ০১:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝেই ভারত-আমিরাতের বড় প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি চুক্তি সই

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৪৪:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক সেই সময় প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও জাহাজ পরিবহনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা জোরদার করতে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

শুক্রবার (১৫ মে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আবুধাবি সফরের সময় এই ঐতিহাসিক চুক্তিগুলো সম্পন্ন হয়। এদিন আবুধাবিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুই দেশই কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর বিশেষ জোর দেন।

নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব চুক্তির আওতায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার প্রতিরক্ষা, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা, তথ্য আদান-প্রদান, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং যৌথ মহড়ার মতো বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উন্নত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশের শীর্ষ নেতা একমত হয়েছেন। ইরানকে কেন্দ্র করে পুরো অঞ্চলে যখন নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্ব উপকূলীয় এলাকা ফুজাইরাহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো। উল্লেখ্য, ফুজাইরাহ এলাকার একটি তেল শোধনাগারে সাম্প্রতিক হামলায় তিন ভারতীয় শ্রমিক আহত হয়েছিলেন।

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। চুক্তি অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ এলাকায় সংরক্ষিত অপরিশোধিত তেলের একটি অংশ ভারতের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। এর পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে, যা চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝে ভারতের জ্বালানি খাতকে বড় ধরনের স্বস্তি দেবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং গত ২৫ বছরের হিসেবে দেশটির সপ্তম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে বর্তমানে ৪৫ লাখেরও বেশি ভারতীয় নাগরিক বসবাস করছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই ছয় দিনের বিদেশ সফরের প্রথমভাগেই প্রবাসী ভারতীয়দের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন কৌশলগত সমীকরণ তৈরি করতে যাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝেই ভারত-আমিরাতের বড় প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি চুক্তি সই

আপডেট সময় ০১:৪৪:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক সেই সময় প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও জাহাজ পরিবহনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা জোরদার করতে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

শুক্রবার (১৫ মে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আবুধাবি সফরের সময় এই ঐতিহাসিক চুক্তিগুলো সম্পন্ন হয়। এদিন আবুধাবিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুই দেশই কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর বিশেষ জোর দেন।

নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব চুক্তির আওতায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার প্রতিরক্ষা, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা, তথ্য আদান-প্রদান, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং যৌথ মহড়ার মতো বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উন্নত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশের শীর্ষ নেতা একমত হয়েছেন। ইরানকে কেন্দ্র করে পুরো অঞ্চলে যখন নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্ব উপকূলীয় এলাকা ফুজাইরাহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো। উল্লেখ্য, ফুজাইরাহ এলাকার একটি তেল শোধনাগারে সাম্প্রতিক হামলায় তিন ভারতীয় শ্রমিক আহত হয়েছিলেন।

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। চুক্তি অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ এলাকায় সংরক্ষিত অপরিশোধিত তেলের একটি অংশ ভারতের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। এর পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে, যা চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝে ভারতের জ্বালানি খাতকে বড় ধরনের স্বস্তি দেবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং গত ২৫ বছরের হিসেবে দেশটির সপ্তম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে বর্তমানে ৪৫ লাখেরও বেশি ভারতীয় নাগরিক বসবাস করছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই ছয় দিনের বিদেশ সফরের প্রথমভাগেই প্রবাসী ভারতীয়দের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন কৌশলগত সমীকরণ তৈরি করতে যাচ্ছে।