ঢাকা ০৬:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

নিজামীর মৃত্যুদণ্ড ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: জামায়াত আমির

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৪১:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও দলটির বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (৯ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

বিবৃতিতে শফিকুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলেমে দ্বীন ও সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ২০১৬ সালের ১০ মে দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে তার অবদান স্মরণ করেন এবং তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করে জান্নাতুল ফিরদাউসে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

জামায়াত আমির বলেন, শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী বাংলাদেশের জনগণের কাছে সুপরিচিত ও শ্রদ্ধাভাজন নাম। তিনি ছিলেন প্রজ্ঞাবান আলেমে দ্বীন, দূরদর্শী ইসলামী চিন্তাবিদ এবং আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ। সততা, প্রজ্ঞা, বিনয়, উদারতা ও নেতৃত্বগুণ তাকে অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে শৈশবকাল থেকেই মাওলানা নিজামী প্রতিটি স্তরে নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই তিনি ইসলামী আদর্শের প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মনিয়োগ করেন। একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশকে ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্রে রূপান্তরের লক্ষ্যেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী নিজ এলাকা থেকে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিপুল ভোটে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদে তার গঠনমূলক ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। ইসলামী শিক্ষার প্রসারে তার অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কওমী মাদ্রাসা শিক্ষার সরকারি স্বীকৃতির ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি অত্যন্ত সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফলে দেশের শিল্পখাত নতুন গতিশীলতা লাভ করে এবং লাভজনক খাতে পরিণত হয়।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল ব্যাপক। ২০০৬ সালের এক বৈশ্বিক জরিপে বিশ্বের প্রভাবশালী ৫০০ ব্যক্তিত্বের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। পরে ২০০৯ সালের আরেক বৈশ্বিক জরিপে বিশ্বের প্রভাবশালী ৫০ মুসলিম ব্যক্তিত্বের অন্যতম হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়। তিনি অসংখ্য মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠনে আলোর দিশা হিসেবে কাজ করবে। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সেমিনার, সভা ও সমাবেশে তার দাওয়াতি বক্তব্য মানুষের চিন্তা-চেতনায় গভীর প্রভাব সৃষ্টি করেছে।

বিবৃতিতে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর আদর্শ ও অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশকে ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর আন্দোলনে শরিক হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান জামায়াত আমির।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

নিজামীর মৃত্যুদণ্ড ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: জামায়াত আমির

আপডেট সময় ০৬:৪১:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

নিউজ ডেস্ক:
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও দলটির বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (৯ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

বিবৃতিতে শফিকুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলেমে দ্বীন ও সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ২০১৬ সালের ১০ মে দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে তার অবদান স্মরণ করেন এবং তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করে জান্নাতুল ফিরদাউসে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

জামায়াত আমির বলেন, শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী বাংলাদেশের জনগণের কাছে সুপরিচিত ও শ্রদ্ধাভাজন নাম। তিনি ছিলেন প্রজ্ঞাবান আলেমে দ্বীন, দূরদর্শী ইসলামী চিন্তাবিদ এবং আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ। সততা, প্রজ্ঞা, বিনয়, উদারতা ও নেতৃত্বগুণ তাকে অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে শৈশবকাল থেকেই মাওলানা নিজামী প্রতিটি স্তরে নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই তিনি ইসলামী আদর্শের প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মনিয়োগ করেন। একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশকে ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্রে রূপান্তরের লক্ষ্যেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী নিজ এলাকা থেকে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিপুল ভোটে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদে তার গঠনমূলক ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। ইসলামী শিক্ষার প্রসারে তার অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কওমী মাদ্রাসা শিক্ষার সরকারি স্বীকৃতির ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি অত্যন্ত সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফলে দেশের শিল্পখাত নতুন গতিশীলতা লাভ করে এবং লাভজনক খাতে পরিণত হয়।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল ব্যাপক। ২০০৬ সালের এক বৈশ্বিক জরিপে বিশ্বের প্রভাবশালী ৫০০ ব্যক্তিত্বের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। পরে ২০০৯ সালের আরেক বৈশ্বিক জরিপে বিশ্বের প্রভাবশালী ৫০ মুসলিম ব্যক্তিত্বের অন্যতম হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়। তিনি অসংখ্য মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠনে আলোর দিশা হিসেবে কাজ করবে। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সেমিনার, সভা ও সমাবেশে তার দাওয়াতি বক্তব্য মানুষের চিন্তা-চেতনায় গভীর প্রভাব সৃষ্টি করেছে।

বিবৃতিতে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর আদর্শ ও অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশকে ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর আন্দোলনে শরিক হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান জামায়াত আমির।