ঢাকা ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নিউইয়র্কে “জাস্টিস ফর জুলাই মুভমেন্ট” উপলক্ষ্যে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় Logo ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর Logo এত বজ্রপাত জানলে তো সুনামগঞ্জে বিয়েই করতাম না: স্পিকার Logo সরকারের লক্ষ্য মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া: প্রধানমন্ত্রী Logo মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র আপিলেও বাতিল Logo সরকারি কর্মকর্তাদের মানের বেতন সাংবাদিকদের জন্যও হওয়া উচিত : হুইপ Logo যুদ্ধ ও অস্থিরতায় বিশ্বজুড়ে বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণ সামরিক ব্যয় Logo আ. লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন Logo বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী Logo ইউনূসের ‘ভিভিআইপি’ মর্যাদা ৬ মাস কমল, ১০ আগস্ট পর্যন্ত এসএসএফ নিরাপত্তা

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি চীনের

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, তাঁর দেশ নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে ওয়াশিংটনের এই ধরনের একতরফা নিষেধাজ্ঞার চর্চাকে চীন সর্বদা বিরোধিতা করে আসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রিয়াজ উল খালিকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দুই পরাশক্তির বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরান সংশ্লিষ্ট নতুন কিছু নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। এই পদক্ষেপে চীনের একটি বড় স্বাধীন শোধনাগারসহ—যাকে সাধারণত ‘টি-পট’ রিফাইনারি বলা হয়—প্রায় ৪০টি অতিরিক্ত প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

বিশেষ করে শানডং প্রদেশের এই শোধনাগারগুলো এবং হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি কোম্পানির বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে অবৈধ তেল বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট দাবি করেছেন যে, ইরানের তেল বাণিজ্যের রাশ টেনে ধরার লক্ষ্যেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চীন এই নিষেধাজ্ঞাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ এবং ‘লং-আর্ম জুরিসডিকশন’ বা দীর্ঘমেয়াদী আইনি এখতিয়ার বহির্ভূত আচরণ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মুখপাত্র লিন জিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে এই ভুল পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বেইজিং তার কোম্পানিগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

চীন মনে করে, আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র বারবার চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করছে। এই উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে যখন অস্থিরতা বিরাজ করছে, তখন চীনের তেল শোধনাগারগুলোর ওপর এই আঘাত বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার কূটনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করল। বেইজিং স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা এই ধরনের ‘অবমাননাকর’ আচরণ মুখ বুজে সহ্য করবে না এবং প্রয়োজনে পাল্টা আইনি বা অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেবে।

মূলত ইরানের তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হিসেবে চীনের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন এই কৌশলী পথ বেছে নিয়েছে। এখন দেখার বিষয় হলো, আগামী ১৪ মে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত বৈঠকে এই নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি বাণিজ্যের বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা হয়।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

নিউইয়র্কে “জাস্টিস ফর জুলাই মুভমেন্ট” উপলক্ষ্যে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি চীনের

আপডেট সময় ০৫:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, তাঁর দেশ নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে ওয়াশিংটনের এই ধরনের একতরফা নিষেধাজ্ঞার চর্চাকে চীন সর্বদা বিরোধিতা করে আসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রিয়াজ উল খালিকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দুই পরাশক্তির বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরান সংশ্লিষ্ট নতুন কিছু নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। এই পদক্ষেপে চীনের একটি বড় স্বাধীন শোধনাগারসহ—যাকে সাধারণত ‘টি-পট’ রিফাইনারি বলা হয়—প্রায় ৪০টি অতিরিক্ত প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

বিশেষ করে শানডং প্রদেশের এই শোধনাগারগুলো এবং হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি কোম্পানির বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে অবৈধ তেল বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট দাবি করেছেন যে, ইরানের তেল বাণিজ্যের রাশ টেনে ধরার লক্ষ্যেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চীন এই নিষেধাজ্ঞাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ এবং ‘লং-আর্ম জুরিসডিকশন’ বা দীর্ঘমেয়াদী আইনি এখতিয়ার বহির্ভূত আচরণ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মুখপাত্র লিন জিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে এই ভুল পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বেইজিং তার কোম্পানিগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

চীন মনে করে, আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র বারবার চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করছে। এই উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে যখন অস্থিরতা বিরাজ করছে, তখন চীনের তেল শোধনাগারগুলোর ওপর এই আঘাত বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার কূটনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করল। বেইজিং স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা এই ধরনের ‘অবমাননাকর’ আচরণ মুখ বুজে সহ্য করবে না এবং প্রয়োজনে পাল্টা আইনি বা অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেবে।

মূলত ইরানের তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হিসেবে চীনের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন এই কৌশলী পথ বেছে নিয়েছে। এখন দেখার বিষয় হলো, আগামী ১৪ মে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত বৈঠকে এই নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি বাণিজ্যের বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা হয়।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481