ঢাকা ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

৫ শর্তে আটকে আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা ও টানা দুই মাস যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হলেও তা এখন খাদের কিনারায়। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পাঁচটি মৌলিক শর্ত নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের আলোচনার টেবিলে বাধা হয়ে দাঁড়ানো প্রধান ৫টি শর্ত নিচে তুলে ধরা হলো:

১.যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই বিধিনিষেধ কেবল নির্দিষ্ট কয়েক বছরের জন্য হতে পারে, কোনোভাবেই তা স্থায়ী হবে না।

২.বর্তমানে ইরানের হাতে থাকা ৪০০ কেজি (৮৮০ পাউন্ড) উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই মজুত পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রাখতে হবে। ইরান এই প্রস্তাবকে শুরুতেই নাকচ করে দিয়েছে।

৩.অবরোধ প্রত্যাহার ইস্যুতে দুই পক্ষই নিজ অবস্থানে অনড়। ইরানের দাবি, তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ না তোলা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। অন্যদিকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি—চূড়ান্ত চুক্তির আগে কোনো অবরোধ তোলা হবে না।

৪. একটি দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান বিদেশে তাদের আটকে থাকা প্রায় ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার অর্থ ফেরত দেওয়ার শর্ত দিয়েছে। একইসঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে তারা।

৫.সবচেয়ে বড় চমক এসেছে ক্ষতিপূরণের দাবিতে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাদের যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার বিনিময়ে দেশ দুটিকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২৭ হাজার কোটি (২৭০ বিলিয়ন) ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পাঁচ শর্তের মারপ্যাঁচে শান্তি আলোচনা এখন কার্যত অচলাবস্থায়। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতি এবং ইরানের অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

৫ শর্তে আটকে আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

আপডেট সময় ০৫:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা ও টানা দুই মাস যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হলেও তা এখন খাদের কিনারায়। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পাঁচটি মৌলিক শর্ত নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের আলোচনার টেবিলে বাধা হয়ে দাঁড়ানো প্রধান ৫টি শর্ত নিচে তুলে ধরা হলো:

১.যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই বিধিনিষেধ কেবল নির্দিষ্ট কয়েক বছরের জন্য হতে পারে, কোনোভাবেই তা স্থায়ী হবে না।

২.বর্তমানে ইরানের হাতে থাকা ৪০০ কেজি (৮৮০ পাউন্ড) উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই মজুত পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রাখতে হবে। ইরান এই প্রস্তাবকে শুরুতেই নাকচ করে দিয়েছে।

৩.অবরোধ প্রত্যাহার ইস্যুতে দুই পক্ষই নিজ অবস্থানে অনড়। ইরানের দাবি, তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ না তোলা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। অন্যদিকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি—চূড়ান্ত চুক্তির আগে কোনো অবরোধ তোলা হবে না।

৪. একটি দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান বিদেশে তাদের আটকে থাকা প্রায় ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার অর্থ ফেরত দেওয়ার শর্ত দিয়েছে। একইসঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে তারা।

৫.সবচেয়ে বড় চমক এসেছে ক্ষতিপূরণের দাবিতে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাদের যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার বিনিময়ে দেশ দুটিকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২৭ হাজার কোটি (২৭০ বিলিয়ন) ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পাঁচ শর্তের মারপ্যাঁচে শান্তি আলোচনা এখন কার্যত অচলাবস্থায়। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতি এবং ইরানের অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে।