ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo উপজেলায় অফিস পেয়ে এবার সরকারের কাছে গাড়ি চাইলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ Logo এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সমঝোতার অভিযোগ নাকচ করলেন অর্থমন্ত্রী Logo জামায়াত আমিরের সঙ্গে জার্মান রাষ্ট্রদূতের বৈঠক Logo ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা, শেষ মুহূর্তে অনিশ্চয়তা Logo ভুল প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা : সোনারগাঁয়ে কেন্দ্রসচিবকে অব্যাহতি Logo ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান Logo এক দিনের ব্যবধানে কমল তেলের দাম Logo জ্বালানি সংকটে অটোরিকশা ভালো সাপোর্ট দিচ্ছে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা Logo ইসরায়েলি বাহিনীকে ‘পৃথিবীর নিকৃষ্টতম’ বললেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত Logo ইরানে যুদ্ধ চান না সাবেক মার্কিন সেনারা, বিক্ষোভে গিয়ে আটক ৬০

এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সমঝোতার অভিযোগ নাকচ করলেন অর্থমন্ত্রী

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:০৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:
এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সরকারের সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপির রাজনীতিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যে কারো সঙ্গে কোন সমঝোতা করার কোন সুযোগ নেই। যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে সবার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মঙ্গলবার সংসদের বৈঠকে প্রশ্নোত্তরে এনসিপির সদস্য (কুমিল্লা-৪) হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে বিকাল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। এনসিপির এই এমপির অর্থ পাচার সংক্রান্ত চারটি প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

এর আগে হাসনাত আব্দুল্লাহ অর্থমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে গিয়ে বলেন, ইসলামী ব্যাংক ৯২ হাজার ১১৫ কোটি টাকা ঋণের ধারক (খেলাপি ঋণ)। এর মধ্যে এস আলম গ্রুপ একাই ৮০ হাজার কোটি টাকা খেলাপি। জনতা ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপ একাই ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে এখন খেলাপি। তিনি জানতে চান, এস আলম গ্রুপের ঋণ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে এই অর্থবছরে সরকারের বিশেষ কোন পরিকল্পনা আছে কিনা? এই ঋণ পরিশোধ না করে এস আলম গ্রুপকে কিভাবে আবার নতুন করে পুনর্বহাল করার চেষ্টা করা হচ্ছে? এটা নিয়ে সরকারের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের কোন সমঝোতা হয়েছে কিনা।

জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির অতীত রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যে কারো সঙ্গে কোনো সমঝোতার সুযোগ নেই। বিএনপি যতবারই সরকারে এসেছে ফাইনান্সিয়াল ডিসিপ্লিন নিয়ে কোন প্রশ্ন আসেনি, ম্যাক্রো স্ট্র্যাটেজি, ম্যাক্রো ইকোনমিক স্টেবিলিটি, শেয়ার বাজার লুটপাট নিয়ে কোন প্রশ্ন উঠেনি।

পাচার অর্থ পুনরুদ্ধারের আশা
পাচার হওয়া টাকা পুনরুদ্ধার করা যাবে এমন আশার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় সমঝোতার কোন সুযোগ নাই এবং যারাই ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে সবার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলা তরান্বিত করার চেষ্টা হচ্ছে। টাকা পুনরুদ্ধারের জন্য একদিকে জি টু জি (এক সরকারের সঙ্গে আরেক সরকারের) কাজ চলছে। অন্যদিকে প্রাইভেট রিকভারি ফার্মগুলোও কাজ করছে।

এস আলম ও বেক্সিমকো গ্রুপের অর্থ পাচার বিষয়ে আবুল হাসনাতের আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এস আলম ও বেক্সিমকো গ্রুপের অবৈধভাবে বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধারে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এস আলম গ্রুপের বিষয়ে বৃটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, সাইপ্রাস, জার্সি ও সিঙ্গাপুর) এবং বেক্সিমকো গ্রুপের বিষয়ে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে এমএলএআর (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্স রিকয়েস্ট) পাঠানো হয়েছে। এই দুটি গ্রুপের পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে ফৌজদারি কার্যক্রমের পাশাপাশি দেওয়ানি পদ্ধতিও অনুসরণ করা হচ্ছে। ৪টি স্বনামধন্য বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে তাদের সম্পদ অনুসন্ধানের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

অবৈধভাবে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী আইনগত প্রক্রিয়া উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে এমএলএআর-এর জবাব পাওয়ার পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ, অপরাধলব্ধ অর্থ শনাক্তকরণ এবং দেশে-বিদেশের আদালতে অর্থ পাচারের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে উদ্ধার করা সম্ভব। বাংলাদেশের মতো যেসব দেশ থেকে অবৈধভাবে অর্থ পাচার হয়েছে তাদেরকেও এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আইনগত বা বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চলতি বা আগামী অর্থবছরে এস আলম গ্রুপ ও বেক্সিমকো গ্রুপের কী পরিমাণ অর্থ সম্পদ উদ্ধার সম্ভব তা যথাযথভাবে নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রচলিত আইনি ব্যবস্থায় সম্ভাব্য সকল ধরনের প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। এ জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

আবুল হাসনাতের অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দুর্নীতি ও বিদেশে অবৈধভাবে অর্থ পাচারের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামে পরিচালিত ৬৬২টি ব্যাংক হিসেবে মোট ২৪৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং বিও হিসাবে ৮১৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। তাদের অর্থ পাচারের বিষয়ে বাংলাদেশের আদালতে ২৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩টির চার্জশিট দাখিল করা হয়। আদালত এস আলম গ্রুপের চার হাজার ২৬৪ কোটি টাকা মূল্যের স্থায়ী সম্পদ, ২৬৮০টি ব্যাংক হিসাবের ছয় হাজার ৬৯২ কোটি ৩৪ লাখ ও ১৭১টি কোম্পানির ২৪ হাজার ৮১০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে একটি বাড়ি, ৬২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও তিন হাজার ২২২ কোটি ৭০ লাখ কোটি টাকা সমমূল্যের ১৪টি কোম্পানি ও ৬টি ট্রাস্ট ফান্ডের সম্পদ জব্দ করার জন্য আদালত রায় দিয়েছে। ওই আদেশ বাস্তবায়নে ৪টি দেশে এমএলএআর পাঠানো হয়েছে। ৪টি রেড নোটিশও জারি করা হয়েছে। এস আলম গ্রুপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো তাদের ঋণের অর্থ উদ্ধারের জন্য নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করে ৪টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানকে নো রিকভারি, নো ফি শর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এসব কর্যক্রমের মাধ্যমে এস আলম গ্রুপের বিদেশে অবৈধভাবে পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের পথ সুগম হয়েছে।

এই সদস্যের আরেকটি প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বড় বড় ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অর্থঋণ আদালত আইন এবং ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের কার্যক্রম চলমান। ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ খেলাপির হার কমিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে যাতে ঋণ খেলাপি না হয় সেই বিষয়ে কৌশলপত্র প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের জামায়াতের সদস্য নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কেইস চিহ্নিত করা হয়েছে। এই কেইসগুলোর ক্ষেত্রে দেশের আদালত ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার সম্পত্তি অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে।

ব্যাংক রেজুলেশন আইন সংশোধন করে উইন্ডো ওপেন করা হয়েছে
জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সাইফুল ইসলামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ব্যাংক রেজুলেশন আইনে সংশোধনের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাংকের যে সংশোধনী হয়েছে, এটা আমরা এই উইন্ডোটা একটু ওপেন করেছি। এখানে কেউ ফিরে আসার জন্য না। আমরা টাকা ব্যাংকে জমা হোক এটাই চাই। সুতরাং এটা একটা নিউ অপরচুনিটি, নিউ উইন্ডো। এক্সিস্টিং শেয়ার হোল্ডাররাও নিতে পারেন, যে কোন বিনিয়োগকারীও নিতে পারেন।’

এ সময় এস আলম গ্রুপকে ইঙ্গিত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপি কোনো ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে না। এটা বারবার প্রমাণ হয়েছে। এইবারও সে সুযোগ নেই।

এর আগে সাইফুল ইসলাম সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে। যারা ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণে টাকা নিয়ে গেছেন এখন খুব অল্প টাকা দিয়েই তারা ফেরত আসার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকে সম্ভবত ৮০ শতাংশ বিদেমি বিনিয়োগ ছিল। তারা সকলে ফেরত গেছে। তিনি জানতে চান, এ দুটো বিষয় সমন্বয় করবেন কীভাবে।

স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ বলেন, বর্তমানে (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সরকারের বৈদেশিক ঋণের ‍স্থিতি ৭৮ হাজার ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর এ পর্যন্ত ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।

সম্পূরক প্রশ্নে স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ৫২ দিনে ব্যাংক থেকে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে বর্তমান সরকার। সরকারের দ্রুত ঋণ বৃদ্ধির কারণে ইতিমধ্যে চলতি অর্থবছরে বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এমন পরিস্তিতিতে রাজস্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে এবার নতুন কোন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে কিনা জানতে চান।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, যে ঋণের কথা বলা হচ্ছে সেটা মূলত বিগত আমলের। বিএনপির অর্থনৈতিক নীতি হচ্ছে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ কমিয়ে আনা। আগামী বাজেটের পরে প্রমাণ পাওয়া যাবে যে সরকার স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ কীভাবে কমিয়ে আনছে। এটার প্রতিফলন আগামী দিনে দেখা যাবে, আগামী বাজেটেও দেখা যাবে।

ব্যবসায়ীরা এক্সিস্টেনশিয়াল থ্রেটে আছে
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা এক্সিস্টেনশিয়াল থ্রেটে আছে। ব্যাংকের রিপেমেন্ট করতে পারছে না। তার স্টাফদের বেতন দিতে পারছে না। ফ্যাক্টরিগুলো রিডান্ডেড হয়ে যাচ্ছে। এগুলো আগে থেকে ক্যারিওভার হয়ে আসছে। তো সেই ক্ষেত্রে ট্যাক্স জিডিপি যেটা আমরা রেখে এসছিলাম অনেক উপরে সেটা বিগত সরকারগুলো কমিয়ে কমিয়ে সাথে নিচে নেমেছে। আবার এটা আমরা যেখানে রেখে আসছিলাম ওখানে ঢুকতে হলে একটা সময় দিতে হবে।

বিএনপির সদস্য জালাল উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জনসাধারণ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই ২৪/৭ অনলাইন ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারে। ৪৬টি ব্যাংক নিজস্ব ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইন ব্যাংকিং সেবা প্রদান করেছে। ব্যাংকের অভ্যন্তরীন লেনদেনের ফিসমূহ নিজ নিজ ব্যাংকই নির্ধারণ করে থাকে এবং নির্ধারিত ফি সিডিউল অব চার্জেস-এ উল্লেখপূর্বক নিজ নিজ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়। আন্তঃব্যাংক লেনদেনের ফি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত হয়। লেনদেনের ফি পরিবর্তনের কোন পরিকল্পনা আপতত নেই।

বিএনপি দলীয় এমপি মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদারকরণের মাধ্যমে আর্থিক খাতের ভঙ্গুরতা কমানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে বহাল রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। চলতি মার্চ মাসে যা ৮ দশমিক ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমানে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে রিজার্ভ ৩৪ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ২০১ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলার।

স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৭৮ হাজার ৬৭ দশমিক ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এ পর্যন্ত ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।

বিএনপি দলীয় সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের পৃথক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৮-০৯ অর্থবছর হতে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত সরকার ৮৫ হাজার ৯৯২ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণে বৈদেশিক ঋণ নিয়েছে। একই সময়ে ২২ হাজার ৬৯৬ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণের আসল ও ৮ হাজার ৬৯৬ দশমিক ৮২ মিলিয়ন সুদ পরিশোধ করা হয়েছে।

জামায়াতরে এমপি আবদুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশে বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালিত (বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক) অনুমোদিত ব্যাংক ৪৪টি। দুর্দশাগ্রস্ত ৫টি ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম ২০২৫ প্রণয়নপূর্বক প্রাথমিকভাবে সুরক্ষিত আমানত হিসেবে প্রত্যেক অপ্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে। অবশিষ্ট টাকা স্কিম অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে। এছাড়া কিডনি ডায়ালাইসিস ও ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তিগণের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা ছাড় করা হচ্ছে। অন্যান্য গুরুতর রোগের (যেমন ব্রেইনটিউমার, হার্ট ও ফুসফুস সংক্রান্ত অপারেশন) ক্ষেত্রেও অর্থ ছাড়করণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এনসিপির সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কারও সঙ্গে কোন অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

উপজেলায় অফিস পেয়ে এবার সরকারের কাছে গাড়ি চাইলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সমঝোতার অভিযোগ নাকচ করলেন অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৭:০৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

নিউজ ডেস্ক:
এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সরকারের সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপির রাজনীতিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যে কারো সঙ্গে কোন সমঝোতা করার কোন সুযোগ নেই। যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে সবার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মঙ্গলবার সংসদের বৈঠকে প্রশ্নোত্তরে এনসিপির সদস্য (কুমিল্লা-৪) হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে বিকাল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। এনসিপির এই এমপির অর্থ পাচার সংক্রান্ত চারটি প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

এর আগে হাসনাত আব্দুল্লাহ অর্থমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে গিয়ে বলেন, ইসলামী ব্যাংক ৯২ হাজার ১১৫ কোটি টাকা ঋণের ধারক (খেলাপি ঋণ)। এর মধ্যে এস আলম গ্রুপ একাই ৮০ হাজার কোটি টাকা খেলাপি। জনতা ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপ একাই ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে এখন খেলাপি। তিনি জানতে চান, এস আলম গ্রুপের ঋণ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে এই অর্থবছরে সরকারের বিশেষ কোন পরিকল্পনা আছে কিনা? এই ঋণ পরিশোধ না করে এস আলম গ্রুপকে কিভাবে আবার নতুন করে পুনর্বহাল করার চেষ্টা করা হচ্ছে? এটা নিয়ে সরকারের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের কোন সমঝোতা হয়েছে কিনা।

জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির অতীত রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যে কারো সঙ্গে কোনো সমঝোতার সুযোগ নেই। বিএনপি যতবারই সরকারে এসেছে ফাইনান্সিয়াল ডিসিপ্লিন নিয়ে কোন প্রশ্ন আসেনি, ম্যাক্রো স্ট্র্যাটেজি, ম্যাক্রো ইকোনমিক স্টেবিলিটি, শেয়ার বাজার লুটপাট নিয়ে কোন প্রশ্ন উঠেনি।

পাচার অর্থ পুনরুদ্ধারের আশা
পাচার হওয়া টাকা পুনরুদ্ধার করা যাবে এমন আশার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় সমঝোতার কোন সুযোগ নাই এবং যারাই ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে সবার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলা তরান্বিত করার চেষ্টা হচ্ছে। টাকা পুনরুদ্ধারের জন্য একদিকে জি টু জি (এক সরকারের সঙ্গে আরেক সরকারের) কাজ চলছে। অন্যদিকে প্রাইভেট রিকভারি ফার্মগুলোও কাজ করছে।

এস আলম ও বেক্সিমকো গ্রুপের অর্থ পাচার বিষয়ে আবুল হাসনাতের আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এস আলম ও বেক্সিমকো গ্রুপের অবৈধভাবে বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধারে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এস আলম গ্রুপের বিষয়ে বৃটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, সাইপ্রাস, জার্সি ও সিঙ্গাপুর) এবং বেক্সিমকো গ্রুপের বিষয়ে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে এমএলএআর (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্স রিকয়েস্ট) পাঠানো হয়েছে। এই দুটি গ্রুপের পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে ফৌজদারি কার্যক্রমের পাশাপাশি দেওয়ানি পদ্ধতিও অনুসরণ করা হচ্ছে। ৪টি স্বনামধন্য বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে তাদের সম্পদ অনুসন্ধানের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

অবৈধভাবে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী আইনগত প্রক্রিয়া উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে এমএলএআর-এর জবাব পাওয়ার পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ, অপরাধলব্ধ অর্থ শনাক্তকরণ এবং দেশে-বিদেশের আদালতে অর্থ পাচারের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে উদ্ধার করা সম্ভব। বাংলাদেশের মতো যেসব দেশ থেকে অবৈধভাবে অর্থ পাচার হয়েছে তাদেরকেও এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আইনগত বা বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চলতি বা আগামী অর্থবছরে এস আলম গ্রুপ ও বেক্সিমকো গ্রুপের কী পরিমাণ অর্থ সম্পদ উদ্ধার সম্ভব তা যথাযথভাবে নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রচলিত আইনি ব্যবস্থায় সম্ভাব্য সকল ধরনের প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। এ জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

আবুল হাসনাতের অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দুর্নীতি ও বিদেশে অবৈধভাবে অর্থ পাচারের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামে পরিচালিত ৬৬২টি ব্যাংক হিসেবে মোট ২৪৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং বিও হিসাবে ৮১৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। তাদের অর্থ পাচারের বিষয়ে বাংলাদেশের আদালতে ২৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩টির চার্জশিট দাখিল করা হয়। আদালত এস আলম গ্রুপের চার হাজার ২৬৪ কোটি টাকা মূল্যের স্থায়ী সম্পদ, ২৬৮০টি ব্যাংক হিসাবের ছয় হাজার ৬৯২ কোটি ৩৪ লাখ ও ১৭১টি কোম্পানির ২৪ হাজার ৮১০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে একটি বাড়ি, ৬২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও তিন হাজার ২২২ কোটি ৭০ লাখ কোটি টাকা সমমূল্যের ১৪টি কোম্পানি ও ৬টি ট্রাস্ট ফান্ডের সম্পদ জব্দ করার জন্য আদালত রায় দিয়েছে। ওই আদেশ বাস্তবায়নে ৪টি দেশে এমএলএআর পাঠানো হয়েছে। ৪টি রেড নোটিশও জারি করা হয়েছে। এস আলম গ্রুপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো তাদের ঋণের অর্থ উদ্ধারের জন্য নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করে ৪টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানকে নো রিকভারি, নো ফি শর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এসব কর্যক্রমের মাধ্যমে এস আলম গ্রুপের বিদেশে অবৈধভাবে পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের পথ সুগম হয়েছে।

এই সদস্যের আরেকটি প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বড় বড় ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অর্থঋণ আদালত আইন এবং ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের কার্যক্রম চলমান। ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ খেলাপির হার কমিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে যাতে ঋণ খেলাপি না হয় সেই বিষয়ে কৌশলপত্র প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের জামায়াতের সদস্য নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কেইস চিহ্নিত করা হয়েছে। এই কেইসগুলোর ক্ষেত্রে দেশের আদালত ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার সম্পত্তি অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে।

ব্যাংক রেজুলেশন আইন সংশোধন করে উইন্ডো ওপেন করা হয়েছে
জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সাইফুল ইসলামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ব্যাংক রেজুলেশন আইনে সংশোধনের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাংকের যে সংশোধনী হয়েছে, এটা আমরা এই উইন্ডোটা একটু ওপেন করেছি। এখানে কেউ ফিরে আসার জন্য না। আমরা টাকা ব্যাংকে জমা হোক এটাই চাই। সুতরাং এটা একটা নিউ অপরচুনিটি, নিউ উইন্ডো। এক্সিস্টিং শেয়ার হোল্ডাররাও নিতে পারেন, যে কোন বিনিয়োগকারীও নিতে পারেন।’

এ সময় এস আলম গ্রুপকে ইঙ্গিত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপি কোনো ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে না। এটা বারবার প্রমাণ হয়েছে। এইবারও সে সুযোগ নেই।

এর আগে সাইফুল ইসলাম সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে। যারা ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণে টাকা নিয়ে গেছেন এখন খুব অল্প টাকা দিয়েই তারা ফেরত আসার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকে সম্ভবত ৮০ শতাংশ বিদেমি বিনিয়োগ ছিল। তারা সকলে ফেরত গেছে। তিনি জানতে চান, এ দুটো বিষয় সমন্বয় করবেন কীভাবে।

স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ বলেন, বর্তমানে (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সরকারের বৈদেশিক ঋণের ‍স্থিতি ৭৮ হাজার ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর এ পর্যন্ত ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।

সম্পূরক প্রশ্নে স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ৫২ দিনে ব্যাংক থেকে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে বর্তমান সরকার। সরকারের দ্রুত ঋণ বৃদ্ধির কারণে ইতিমধ্যে চলতি অর্থবছরে বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এমন পরিস্তিতিতে রাজস্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে এবার নতুন কোন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে কিনা জানতে চান।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, যে ঋণের কথা বলা হচ্ছে সেটা মূলত বিগত আমলের। বিএনপির অর্থনৈতিক নীতি হচ্ছে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ কমিয়ে আনা। আগামী বাজেটের পরে প্রমাণ পাওয়া যাবে যে সরকার স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ কীভাবে কমিয়ে আনছে। এটার প্রতিফলন আগামী দিনে দেখা যাবে, আগামী বাজেটেও দেখা যাবে।

ব্যবসায়ীরা এক্সিস্টেনশিয়াল থ্রেটে আছে
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা এক্সিস্টেনশিয়াল থ্রেটে আছে। ব্যাংকের রিপেমেন্ট করতে পারছে না। তার স্টাফদের বেতন দিতে পারছে না। ফ্যাক্টরিগুলো রিডান্ডেড হয়ে যাচ্ছে। এগুলো আগে থেকে ক্যারিওভার হয়ে আসছে। তো সেই ক্ষেত্রে ট্যাক্স জিডিপি যেটা আমরা রেখে এসছিলাম অনেক উপরে সেটা বিগত সরকারগুলো কমিয়ে কমিয়ে সাথে নিচে নেমেছে। আবার এটা আমরা যেখানে রেখে আসছিলাম ওখানে ঢুকতে হলে একটা সময় দিতে হবে।

বিএনপির সদস্য জালাল উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জনসাধারণ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই ২৪/৭ অনলাইন ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারে। ৪৬টি ব্যাংক নিজস্ব ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইন ব্যাংকিং সেবা প্রদান করেছে। ব্যাংকের অভ্যন্তরীন লেনদেনের ফিসমূহ নিজ নিজ ব্যাংকই নির্ধারণ করে থাকে এবং নির্ধারিত ফি সিডিউল অব চার্জেস-এ উল্লেখপূর্বক নিজ নিজ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়। আন্তঃব্যাংক লেনদেনের ফি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত হয়। লেনদেনের ফি পরিবর্তনের কোন পরিকল্পনা আপতত নেই।

বিএনপি দলীয় এমপি মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদারকরণের মাধ্যমে আর্থিক খাতের ভঙ্গুরতা কমানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে বহাল রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। চলতি মার্চ মাসে যা ৮ দশমিক ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমানে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে রিজার্ভ ৩৪ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ২০১ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলার।

স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৭৮ হাজার ৬৭ দশমিক ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এ পর্যন্ত ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।

বিএনপি দলীয় সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের পৃথক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৮-০৯ অর্থবছর হতে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত সরকার ৮৫ হাজার ৯৯২ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণে বৈদেশিক ঋণ নিয়েছে। একই সময়ে ২২ হাজার ৬৯৬ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণের আসল ও ৮ হাজার ৬৯৬ দশমিক ৮২ মিলিয়ন সুদ পরিশোধ করা হয়েছে।

জামায়াতরে এমপি আবদুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশে বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালিত (বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক) অনুমোদিত ব্যাংক ৪৪টি। দুর্দশাগ্রস্ত ৫টি ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম ২০২৫ প্রণয়নপূর্বক প্রাথমিকভাবে সুরক্ষিত আমানত হিসেবে প্রত্যেক অপ্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে। অবশিষ্ট টাকা স্কিম অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে। এছাড়া কিডনি ডায়ালাইসিস ও ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তিগণের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা ছাড় করা হচ্ছে। অন্যান্য গুরুতর রোগের (যেমন ব্রেইনটিউমার, হার্ট ও ফুসফুস সংক্রান্ত অপারেশন) ক্ষেত্রেও অর্থ ছাড়করণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এনসিপির সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কারও সঙ্গে কোন অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481