নিউজ ডেস্ক:
জামায়াত নেতাদের দায়মুক্ত করবার জন্য বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা দিয়েছিলেন। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় জানিয়েছেন এ দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, “এর মাধ্যমে জামায়াত নেতাদের সম্মানিত করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।”
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দশম দিনে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সংসদে থাকা জামায়াত নেতাদের উদ্দেশে মীর শাহে আলম বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া আপনাদের নেতাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা দিয়েছিল সেই কথাটা তো আপনারা একবারও বললেন না। আপনাদেরকে দায়মুক্ত করবার জন্য জাতীয় পতাকা দিয়ে সরকারের অংশ করে জাতির কাছে আপনাদেরকে যে সম্মানিত করেছে, সে কথা তো আপনারা বলেন না। আপনাদেরকে যে শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়ার অভ্যাসটি সেটি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আজকের এই মহান সংসদে আমি দাঁড়িয়ে একটি কথা বলতে চাই—আপনি (স্পিকার) ওই চেয়ারে বসে আছেন মানে ১৯৭১ বসে আছে। আপনি হচ্ছেন— বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীর বিক্রম। আপনাকে দেখলেই অনেকের ভালো লাগবে, অনেকের হয়তো ভালো লাগবে না। কিন্তু, আপনি ১৯৭১ সালকে রিপ্রেজেন্ট করছেন। এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে এই ক্রেডিট বিএনপির। এই কারণেই মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু মহান স্বাধীনতার ঘোষণাই করেননি, উনি যুদ্ধ করেছেন এবং যুদ্ধ করে এই দেশটাকে স্বাধীন করার ব্যাপারে ভূমিকা রেখেছেন।”
তিনি বলেন, “আমাদের আনন্দের বিষয় বহু মুক্তিযোদ্ধা আমাদের সামনে বসে আছেন। জয়নাল আবেদিন ফারুক, মনিরুল হক চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলসহ অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের মত প্রথিতযশা সুনামধন্য মুক্তিযোদ্ধা। আজকে গয়েশ্বর, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ অনেক প্রথিতযশা স্বনামধন্য মুক্তিযোদ্ধা সরকারি দলের বেঞ্চে উপস্থিত, যেটি বিরোধী দলের মধ্যে খুঁজে পাওয়ার কোনও সুযোগ নাই।
“আজকে আমরা যেমন ৭১ কে ধারণ করি, ১৯৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে ধারণ করি। ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সম্মুখ সারির নেতারা আজকে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়ে আমাদের এই সরকারি দলের বেঞ্চে বসে আছেন আমানুল্লাহ আমান, খাইরুল কবির খোকন, আবুল খায়ের, বকুলসহ অনেকের কথা বলতে পারি আজকে।”
বিরোধীদলের উদ্দেশে মীর শাহে আলম বলেন, “তাদের নাম কিন্তু ইতিহাসের আলোচনায় নাই। আজকে বিএনপি এমন একটি সংগঠন যারা তিনটি আন্দোলনকে ধারণ করে এবং তিনটি আন্দোলনের ট্রফি তাদের ঘরে ১৯৭১, ১৯৯০ এবং জুলাই-আগস্ট। আজকে যদি আওয়ামী লীগের কথা বলি— আওয়ামী লীগ ৭১ বলতে পারবে, ৯০ বলতে পারবে, জুলাই-আগস্টের ট্রফি কিন্তু তাদের ঘরে নাই। আজকে বিরোধী দলের বন্ধুরা জুলাই-আগস্ট বলতে পারবেন, কিন্তু ৭১ এবং ৯০ এ ট্রফি কিন্তু তাদের ঘরে নাই। একমাত্র দল বিএনপি যাদের ঘরে তিনটি ট্রফি রয়েছে।”

নিজস্ব সংবাদ : 




























