মানিকগঞ্জে রপ্তানিমুখি একটি গার্মেন্টসসহ দুটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত দুটি বড় ডাকাতির রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে আন্তঃজেলা সক্রিয় ডাকাত চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ লুণ্ঠিত মালামালও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঈদুল ফিতরের ছুটির সুযোগে বন্ধ থাকা দুটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে একই কায়দায় সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় চক্রটি জড়িত ছিল। এর আগে এ মামলায় আরও একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে শিবালয় উপজেলার গোয়ালখালী এলাকার আসতিয়া পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলে। গত ২০ মার্চ গভীর রাতে ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল গেটের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে হাত-পা বেঁধে মেশিন রুমে আটকে রাখে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরে নগদ টাকা, কম্পিউটার, বৈদ্যুতিক মোটর, কাটিং মেশিনসহ প্রায় ১৪ লাখ ২৩ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ঘিওর উপজেলার পুখুরিয়া এলাকায় অবস্থিত রপ্তানিমুখি এডভান্স এ্যাটায়ার লিমিটেড কারখানায়। ২৩ মার্চ রাত দেড়টার দিকে ২০-২২ জনের আরেকটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কারখানায় ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে। তারা অফিস কক্ষ তছনছ করে নগদ টাকা, ডিভিআর, কম্পিউটার এবং বিদ্যুৎ স্টেশনের মূল্যবান যন্ত্রাংশসহ প্রায় দেড় কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এ দুই ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলমের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মহরম আলীর তত্ত্বাবধানে ডিবির একাধিক টিম অভিযান শুরু করে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ সদর, ঢাকা জেলার আশুলিয়া এবং গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মাসুদ রানা (৩৪), সাজেদুল ইসলাম ওরফে সাজিদ (৩০), সাগর প্রামাণিক (২৭), আক্তার হোসেন (৩৫), আলামিন ওরফে আল আমীন (৪০), আবু বক্কর সিদ্দিক (৩৫), বিল্লাল হোসেন (৩৫) ও আব্দুস সালাম (৫৫)।
অভিযানে উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার, মনিটর, ডিভিআর, বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ, বিপুল পরিমাণ তামার তার ও পাইপ, কপার ক্যাবল, বাসবারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম। এছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত কাটার, ড্রিল মেশিন, হাতুড়ি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতিও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের তথ্য মিলছে। তারা জেলার অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদ : 
























