ঢাকা ১১:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নারীর ক্ষমতায়নে ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ Logo ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে স্কুলছাত্রের মৃত্যু Logo মাদক ব্যবসা ছাড়ুন, না হলে এলাকা ছাড়ুন : এমপি আবু তালিব Logo ইরান সংঘাতে না জড়াতে চীনকে অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প Logo প্রথমার্ধ শেষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র Logo পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে: পাকিস্তান হাইকমিশনার Logo শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে জাবিতে নবীনবরণ, ‘পাইলট প্রকল্প’ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার ইঙ্গিত Logo এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ বেড়েছে ৪১ শতাংশ Logo আমি ছাড়া কেউ মাজার ভাঙার বিরুদ্ধে কথা বলে না : রুমিন ফারহানা Logo পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ভারত, হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধের আশঙ্কা শত্রুর জন্য তৈরি হচ্ছে ‘ঐতিহাসিক নরক’, প্রস্তুত ইরানের ১০ লক্ষাধিক যোদ্ধা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:০৮:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ১০ লাখেরও বেশি যোদ্ধাকে প্রস্তুত করছে— এমন তথ্য প্রকাশিত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে জানা যায়, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি), বাসিজ বাহিনী এবং নিয়মিত সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই বিশাল বাহিনী সংগঠিত করা হয়েছে। দেশজুড়ে নিয়োগ কেন্দ্রগুলোতে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সামরিক সূত্রগুলোর দাবি, সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় এই বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত। তারা ইরানের ভূখণ্ডে শত্রুপক্ষের জন্য ‘ঐতিহাসিক নরক’ তৈরি করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। অভিজাত ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সেনারা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তারা ইতোমধ্যে অবস্থানরত মার্কিন মেরিন সেনাদের সঙ্গে যোগ দেবে বলে জানা গেছে।

তবে কূটনৈতিক অঙ্গনে পরিস্থিতি এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। কিন্তু তেহরান প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। পাশাপাশি ইরান সতর্ক করে দিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা প্রবেশ করলে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

এ দিকে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ট্রাম্পের কথিত ‘রহস্যময় উপহার’। তার দাবি, সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে ইরান ১০টি তেলবাহী জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তিনি জানান, প্রথমে ৮টি জাহাজের কথা বলা হলেও পরে আরও দুটি যোগ করা হয়, যা ‘ক্ষমা চাওয়ার ইঙ্গিত’। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব জাহাজের কিছুতে পাকিস্তানের পতাকাও ছিল।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহভাজন জাহাজগুলোকে আটকে দেওয়া হচ্ছে, তবে ‘শত্রুভাবাপন্ন নয়’ এমন কিছু জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

এ দিকে চলমান উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বড় ধরনের সামরিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুত কমে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীকে কম নির্ভুল ‘ডাম্ব বম্ব’ ব্যবহার করতে হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাতের প্রথম ১৬ দিনেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১১ হাজার গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে।

উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও পরোক্ষ কূটনৈতিক তৎপরতা চালু রয়েছে। পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিকদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও প্রকাশ্যে উভয় পক্ষই একে অপরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ প্রস্তুতি ও গোপন কূটনৈতিক আলোচনার এই দ্বৈত অবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

নারীর ক্ষমতায়নে ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধের আশঙ্কা শত্রুর জন্য তৈরি হচ্ছে ‘ঐতিহাসিক নরক’, প্রস্তুত ইরানের ১০ লক্ষাধিক যোদ্ধা

আপডেট সময় ১২:০৮:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ১০ লাখেরও বেশি যোদ্ধাকে প্রস্তুত করছে— এমন তথ্য প্রকাশিত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে জানা যায়, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি), বাসিজ বাহিনী এবং নিয়মিত সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই বিশাল বাহিনী সংগঠিত করা হয়েছে। দেশজুড়ে নিয়োগ কেন্দ্রগুলোতে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সামরিক সূত্রগুলোর দাবি, সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় এই বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত। তারা ইরানের ভূখণ্ডে শত্রুপক্ষের জন্য ‘ঐতিহাসিক নরক’ তৈরি করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। অভিজাত ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সেনারা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তারা ইতোমধ্যে অবস্থানরত মার্কিন মেরিন সেনাদের সঙ্গে যোগ দেবে বলে জানা গেছে।

তবে কূটনৈতিক অঙ্গনে পরিস্থিতি এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। কিন্তু তেহরান প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। পাশাপাশি ইরান সতর্ক করে দিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা প্রবেশ করলে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

এ দিকে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ট্রাম্পের কথিত ‘রহস্যময় উপহার’। তার দাবি, সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে ইরান ১০টি তেলবাহী জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তিনি জানান, প্রথমে ৮টি জাহাজের কথা বলা হলেও পরে আরও দুটি যোগ করা হয়, যা ‘ক্ষমা চাওয়ার ইঙ্গিত’। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব জাহাজের কিছুতে পাকিস্তানের পতাকাও ছিল।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহভাজন জাহাজগুলোকে আটকে দেওয়া হচ্ছে, তবে ‘শত্রুভাবাপন্ন নয়’ এমন কিছু জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

এ দিকে চলমান উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বড় ধরনের সামরিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুত কমে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীকে কম নির্ভুল ‘ডাম্ব বম্ব’ ব্যবহার করতে হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাতের প্রথম ১৬ দিনেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১১ হাজার গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে।

উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও পরোক্ষ কূটনৈতিক তৎপরতা চালু রয়েছে। পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিকদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও প্রকাশ্যে উভয় পক্ষই একে অপরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ প্রস্তুতি ও গোপন কূটনৈতিক আলোচনার এই দ্বৈত অবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি