ঢাকা ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গণভোট বাতিল হলে নির্বাচিত সংসদ আইনগত হুমকির মুখে পড়বে: শিশির মনির Logo ‘সংসদে বিরোধীদলকে পর্যাপ্ত সময় দেয়া হচ্ছে না অভিযোগ সত্য নয়’ Logo জনরায় প্রত্যাখ্যানে বিএনপি সরকার সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে: ডাকসু ভিপি Logo রাহুলের ময়নাতদন্তে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য Logo জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ২৪ ঘণ্টায় ২১৪ মামলা ও সাড়ে ৯ লাখ টাকা জরিমানা Logo হরমুজ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ২০টি তেলবাহী ট্যাংকার পাঠাচ্ছে ইরান: ট্রাম্প Logo এবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তুরস্কে বিক্ষোভ Logo বন্ধ কারখানা চালুতে উদ্যোক্তাদের পাশে থাকব: গভর্নর *আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব থাকা উচিত নয় *পাচারের অর্থ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে *সংকট মেটাতে ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ, বাড়তি রেমিট্যান্স ও আইএমএফের দিকে নজর Logo সংসদ ইনসাফের ভিত্তিতে চললে দেশেও ইনসাফ কায়েম হবে: বিরোধীদলীয় নেতা Logo ওমরাহ পালন করতে সৌদি যাচ্ছেন নাহিদ ইসলাম

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদেশি ঋণ বেড়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:১৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশের বৈদেশিক ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, শুধু ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এ তিন মাসেই বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। সেপ্টেম্বর শেষে ঋণের পরিমাণ ছিল ১১২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ ছিল ১০৩ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার। সে হিসেবে প্রায় দেড় বছরে ঋণ বেড়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে সরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণ ছিল ৯২ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার, যা ডিসেম্বর শেষে বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারে।

অন্যদিকে বেসরকারি খাতে একই সময়ে ঋণ বেড়ে ১৯ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ফলে মোট ঋণ বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে সরকারি খাতই এগিয়ে রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, উন্নয়ন ব্যয় মেটানো ও বাজেট ঘাটতি সামাল দিতেই সরকার বেশি ঋণ নিচ্ছে।

গত এক দশকে বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ নিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে, টানেল, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এ ধারা অব্যাহত ছিল। বিশেষ করে বাজেট ঘাটতি পূরণ, সরকারি বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার নতুন ঋণ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে ঋণের পরিমাণের চেয়ে বড় উদ্বেগ হলো সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপ। সামনে বড় অঙ্কের ঋণ পরিশোধ শুরু হলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়তে পারে, বিশেষ করে যদি রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রত্যাশামতো না বাড়ে।

অর্থনীতিবিদদের মতে উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে বৈদেশিক অর্থায়ন প্রয়োজন হলেও ঋণ ব্যবস্থাপনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা ঋণের কার্যকর ও উৎপাদনশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়ানো এবং নতুন ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও ঝুঁকি মূল্যায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈদেশিক ঋণ তাৎক্ষণিকভাবে সংকটজনক না হলেও এর সঠিক ব্যবস্থাপনাই নির্ধারণ করবে এটি ভবিষ্যতে অর্থনীতির জন্য বোঝা হবে, নাকি উন্নয়নের চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোট বাতিল হলে নির্বাচিত সংসদ আইনগত হুমকির মুখে পড়বে: শিশির মনির

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদেশি ঋণ বেড়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার

আপডেট সময় ১১:১৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশের বৈদেশিক ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, শুধু ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এ তিন মাসেই বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। সেপ্টেম্বর শেষে ঋণের পরিমাণ ছিল ১১২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ ছিল ১০৩ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার। সে হিসেবে প্রায় দেড় বছরে ঋণ বেড়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে সরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণ ছিল ৯২ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার, যা ডিসেম্বর শেষে বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারে।

অন্যদিকে বেসরকারি খাতে একই সময়ে ঋণ বেড়ে ১৯ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ফলে মোট ঋণ বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে সরকারি খাতই এগিয়ে রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, উন্নয়ন ব্যয় মেটানো ও বাজেট ঘাটতি সামাল দিতেই সরকার বেশি ঋণ নিচ্ছে।

গত এক দশকে বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ নিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে, টানেল, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এ ধারা অব্যাহত ছিল। বিশেষ করে বাজেট ঘাটতি পূরণ, সরকারি বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার নতুন ঋণ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে ঋণের পরিমাণের চেয়ে বড় উদ্বেগ হলো সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপ। সামনে বড় অঙ্কের ঋণ পরিশোধ শুরু হলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়তে পারে, বিশেষ করে যদি রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রত্যাশামতো না বাড়ে।

অর্থনীতিবিদদের মতে উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে বৈদেশিক অর্থায়ন প্রয়োজন হলেও ঋণ ব্যবস্থাপনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা ঋণের কার্যকর ও উৎপাদনশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়ানো এবং নতুন ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও ঝুঁকি মূল্যায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈদেশিক ঋণ তাৎক্ষণিকভাবে সংকটজনক না হলেও এর সঠিক ব্যবস্থাপনাই নির্ধারণ করবে এটি ভবিষ্যতে অর্থনীতির জন্য বোঝা হবে, নাকি উন্নয়নের চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481