ঢাকা ০১:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

কাতারে গ্যাস স্থাপনায় হামলায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৪৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
  • ৮৭ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পর বড় ধরনের সংকটে পড়েছে এশিয়ার গ্যাসনির্ভর দেশগুলো। কাতার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে, যা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জন্য তাৎক্ষণিক জ্বালানি ঝুঁকি তৈরি করেছে।

রাষ্ট্রীয় কোম্পানি কাতার এনার্জি ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করে জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রণের বাইরে পরিস্থিতির কারণে তারা চুক্তি অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। এর ফলে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মিলে পাকিস্তানের ৯৯ শতাংশ, বাংলাদেশের ৭২ শতাংশ এবং ভারতের ৫৩ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ করে। ফলে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের গ্যাস খাতে আগে থেকেই দৈনিক প্রায় ১৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। এই অবস্থায় সরবরাহ ব্যাহত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাত মারাত্মক চাপের মুখে পড়বে। গ্রীষ্ম মৌসুম সামনে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্চ মাসে নির্ধারিত ৯টি কাতারি কার্গোর মধ্যে ৪টি ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। তবে সরবরাহ সংকট কাটাতে স্পট মার্কেট থেকে অতিরিক্ত গ্যাস কেনার চেষ্টা চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এলএনজি সরবরাহ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বাংলাদেশকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হতে পারে এবং ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে। তবে স্পট মার্কেটে গ্যাসের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে—যা বাংলাদেশের জন্য বহন করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

এদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

কাতারে গ্যাস স্থাপনায় হামলায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান

আপডেট সময় ০৬:৪৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পর বড় ধরনের সংকটে পড়েছে এশিয়ার গ্যাসনির্ভর দেশগুলো। কাতার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে, যা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জন্য তাৎক্ষণিক জ্বালানি ঝুঁকি তৈরি করেছে।

রাষ্ট্রীয় কোম্পানি কাতার এনার্জি ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করে জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রণের বাইরে পরিস্থিতির কারণে তারা চুক্তি অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। এর ফলে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মিলে পাকিস্তানের ৯৯ শতাংশ, বাংলাদেশের ৭২ শতাংশ এবং ভারতের ৫৩ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ করে। ফলে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের গ্যাস খাতে আগে থেকেই দৈনিক প্রায় ১৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। এই অবস্থায় সরবরাহ ব্যাহত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাত মারাত্মক চাপের মুখে পড়বে। গ্রীষ্ম মৌসুম সামনে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্চ মাসে নির্ধারিত ৯টি কাতারি কার্গোর মধ্যে ৪টি ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। তবে সরবরাহ সংকট কাটাতে স্পট মার্কেট থেকে অতিরিক্ত গ্যাস কেনার চেষ্টা চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এলএনজি সরবরাহ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বাংলাদেশকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হতে পারে এবং ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে। তবে স্পট মার্কেটে গ্যাসের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে—যা বাংলাদেশের জন্য বহন করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

এদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।