ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হারাল ইরান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:২২:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে একের পর এক আঘাত লেগেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তিন সপ্তাহে নিহত গুরুত্বপূর্ণ ইরানি কর্মকর্তাদের তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার দায়িত্বে ছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় নিজের বাড়িতেই পরিবারের আরও অনেক সদস্যসহ মারা যান ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা।

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি আলি লারিজানি মঙ্গলবার তেহরানের পারদিস এলাকায় বিমান হামলায় ছেলে ও এক সহকারীসহ নিহত হন। রেভল্যুশনারি গার্ডের সাবেক কমান্ডার ও খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে তিনি ইরানের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

খামেনির আরেক ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলি শামখানি ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিহত হন। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শামখানি ছিলেন ইরানের যুদ্ধকালীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধেও ইসরাইল তাকে লক্ষ্য করেছিল, সেবার বেঁচে গিয়েছিলেন।

ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খতিব মঙ্গলবার রাতে ইসরাইলি হামলায় নিহত হন। বুধবার ইরান এই খবর নিশ্চিত করেছে।

শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে যুদ্ধের শুরুর দিনই তেহরানে হামলায় আইআরজিসির কমান্ডার ইন চিফ মোহাম্মদ পাকপৌর নিহত হন। গত বছরের জুনের যুদ্ধে পূর্বসূরী হোসেইন সালামি নিহত হওয়ার পর এই পদে আনা হয়েছিল পাকপৌরকে।

একই দিন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহও নিহত হন। বিমান বাহিনীর সাবেক কমান্ডার ও সশস্ত্র বাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা নীতিতে তার ব্যাপক ভূমিকা ছিল।

সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদুলরহিম মুসাভি ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ঊর্ধ্বতন নেতাদের বৈঠকের সময় হামলায় নিহত হন। সেনাবাহিনীর নিয়মিত শাখাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করাই ছিল তার মূল দায়িত্ব।

বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানি মঙ্গলবার হামলায় নিহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে থাকা এই বাহিনীর নেতৃত্ব দিতেন তিনি।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই নামগুলোর বাইরেও আইআরজিসির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সেনা কমান্ডার ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই মারা গেছেন ২৮ ফেব্রুয়ারির প্রথম হামলায়। সেদিন মার্কিন-ইসরাইলি বাহিনী ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠককে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাণ ফিরেছে সদরঘাটে, ঈদযাত্রায় স্বস্তি এবার লঞ্চে

মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হারাল ইরান

আপডেট সময় ১২:২২:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে একের পর এক আঘাত লেগেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তিন সপ্তাহে নিহত গুরুত্বপূর্ণ ইরানি কর্মকর্তাদের তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার দায়িত্বে ছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় নিজের বাড়িতেই পরিবারের আরও অনেক সদস্যসহ মারা যান ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা।

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি আলি লারিজানি মঙ্গলবার তেহরানের পারদিস এলাকায় বিমান হামলায় ছেলে ও এক সহকারীসহ নিহত হন। রেভল্যুশনারি গার্ডের সাবেক কমান্ডার ও খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে তিনি ইরানের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

খামেনির আরেক ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলি শামখানি ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিহত হন। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শামখানি ছিলেন ইরানের যুদ্ধকালীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধেও ইসরাইল তাকে লক্ষ্য করেছিল, সেবার বেঁচে গিয়েছিলেন।

ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খতিব মঙ্গলবার রাতে ইসরাইলি হামলায় নিহত হন। বুধবার ইরান এই খবর নিশ্চিত করেছে।

শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে যুদ্ধের শুরুর দিনই তেহরানে হামলায় আইআরজিসির কমান্ডার ইন চিফ মোহাম্মদ পাকপৌর নিহত হন। গত বছরের জুনের যুদ্ধে পূর্বসূরী হোসেইন সালামি নিহত হওয়ার পর এই পদে আনা হয়েছিল পাকপৌরকে।

একই দিন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহও নিহত হন। বিমান বাহিনীর সাবেক কমান্ডার ও সশস্ত্র বাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা নীতিতে তার ব্যাপক ভূমিকা ছিল।

সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদুলরহিম মুসাভি ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ঊর্ধ্বতন নেতাদের বৈঠকের সময় হামলায় নিহত হন। সেনাবাহিনীর নিয়মিত শাখাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করাই ছিল তার মূল দায়িত্ব।

বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানি মঙ্গলবার হামলায় নিহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে থাকা এই বাহিনীর নেতৃত্ব দিতেন তিনি।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই নামগুলোর বাইরেও আইআরজিসির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সেনা কমান্ডার ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই মারা গেছেন ২৮ ফেব্রুয়ারির প্রথম হামলায়। সেদিন মার্কিন-ইসরাইলি বাহিনী ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠককে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481