ঢাকা ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হরমুজ প্রণালি পাশ কাটানোর চেষ্টায় সৌদি, আমিরাত, ইরাক Logo ইরান ধ্বংসস্তূপ থেকে বারবার ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠার ক্ষমতা রাখে: মিডলইস্ট আই Logo আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও বিকট বিস্ফোরক অস্ত্র ব্যবহার করছে ইরান: সেনাবাহিনীর মুখপাত্র Logo লারিজানির হত্যাকাণ্ড যুদ্ধ থেকে ট্রাম্পের বের হওয়ার পথ কঠিন করবে: বিশ্লেষক Logo ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রীকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের Logo অস্ট্রেলিয়ায় ঈদুল ফিতর আগামী ২০ মার্চ Logo মধ্যপ্রাচ্যকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে ইসরায়েল : এরদোয়ান Logo ইসলাম বিদ্বেষের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স প্রদর্শনের আহ্বান চীনের Logo মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল ঘোষণা করলো মালয়েশিয়া Logo তারেক রহমান ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম মাসেই ‘সীমান্ত হত্যা’ শূন্য

লারিজানির হত্যাকাণ্ড যুদ্ধ থেকে ট্রাম্পের বের হওয়ার পথ কঠিন করবে: বিশ্লেষক

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৪৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার রাত থেকে তারা ইসরায়েলে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। ক্লাস্টার ওয়ারহেড (গুচ্ছ বোমা) যুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাতও হেনেছে। এমন অবস্থায় যুদ্ধ থেকে ট্রাম্পের বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন এক বিশ্লেষক।

যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতি বিষয়ক থিংক ট্যাঙ্ক কুইন্সি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ত্রিতা পার্সির মতে, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান হিসেবে লারিজানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তিনি হয়তো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ছিলেন না, কিন্তু ইরানি শাসনব্যবস্থার ভেতরে ঐকমত্য তৈরির কাজ করতেন।

পার্সির মতে, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের পর থেকে ইরান সব গুরুত্বপূর্ণ পদের বিকল্প ব্যক্তি নির্ধারণ করে রেখেছে। কারণ, ইরানিরা জানে তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব নির্মূলের মাধ্যমে ইসরায়েল শাসনব্যবস্থাকে ভেতর থেকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করবে।

ত্রিতা পার্সি বলেন, লারিজানির হত্যাকাণ্ড যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইরান সরকারের সক্ষমতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। বরং এটি ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথকে কঠিন করে তুলবে। কারণ, লারিজানির মতো প্রভাবশালী ব্যক্তি না থাকায়; যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার জন্য ট্রাম্প আর কাউকে খুঁজে পাবেন না। শাসনব্যবস্থার অভ্যন্তরে লারিজানি ঐকমত্য গড়ে তোলার কাজ করতেন। তাঁকে হত্যার মাধ্যমে ট্রাম্প এক ধরনের সুযোগ হারালেন।

কুইন্সি ইনস্টিটিউটের এই বিশ্লেষকের মতে, ইসরায়েলিরা একে একে শাসনব্যবস্থার সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিদের হত্যা করছে। প্রশ্ন হলো, এর মাধ্যমে তারা কি ট্রাম্পের যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টার সম্ভাব্য পথগুলো বন্ধ করে দিয়ে সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী করতে চাইছে?

কে এই লারিজানি
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে ইরানের কৌশল নির্ধারণে লারিজানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। মঙ্গলবার ইসরায়েলের দাবির কয়েক ঘণ্টা পর তাঁর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে তেহরান।

১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে এক সম্পদশালী পরিবারে লারিজানির জন্ম। তাঁর বাবা ছিলেন ধর্মীয় পণ্ডিত। ২০ বছর বয়সে তিনি বিয়ে করেন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর মেয়েকে।

গণিত ও কম্পিউটার সায়েন্সে ডিগ্রি অর্জনের পর লারিজানি পাশ্চাত্য দর্শনে ডক্টরেট সম্পন্ন করেন। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর তিনি আইআরজিসিতে যোগ দেন। পরে সংস্কৃতি মন্ত্রী এবং রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৫ সালে লারিজানি ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব এবং পারমাণবিক কর্মসূচির প্রধান আলোচক হিসেবে নিযুক্ত হন। কিন্তু ২০০৭ সালে এ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। ২০০৮ সালের পর তিনি টানা তিন মেয়াদে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তি অনুমোদনে তিনি মূল ভূমিকা রেখেছিলেন।

গত বছরের আগস্টে লারিজানি ফের নিরাপত্তা পরিষদের সচিবের দায়িত্ব পান। তখন থেকে তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালি পাশ কাটানোর চেষ্টায় সৌদি, আমিরাত, ইরাক

লারিজানির হত্যাকাণ্ড যুদ্ধ থেকে ট্রাম্পের বের হওয়ার পথ কঠিন করবে: বিশ্লেষক

আপডেট সময় ০৬:৪৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার রাত থেকে তারা ইসরায়েলে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। ক্লাস্টার ওয়ারহেড (গুচ্ছ বোমা) যুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাতও হেনেছে। এমন অবস্থায় যুদ্ধ থেকে ট্রাম্পের বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন এক বিশ্লেষক।

যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতি বিষয়ক থিংক ট্যাঙ্ক কুইন্সি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ত্রিতা পার্সির মতে, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান হিসেবে লারিজানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তিনি হয়তো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ছিলেন না, কিন্তু ইরানি শাসনব্যবস্থার ভেতরে ঐকমত্য তৈরির কাজ করতেন।

পার্সির মতে, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের পর থেকে ইরান সব গুরুত্বপূর্ণ পদের বিকল্প ব্যক্তি নির্ধারণ করে রেখেছে। কারণ, ইরানিরা জানে তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব নির্মূলের মাধ্যমে ইসরায়েল শাসনব্যবস্থাকে ভেতর থেকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করবে।

ত্রিতা পার্সি বলেন, লারিজানির হত্যাকাণ্ড যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইরান সরকারের সক্ষমতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। বরং এটি ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথকে কঠিন করে তুলবে। কারণ, লারিজানির মতো প্রভাবশালী ব্যক্তি না থাকায়; যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার জন্য ট্রাম্প আর কাউকে খুঁজে পাবেন না। শাসনব্যবস্থার অভ্যন্তরে লারিজানি ঐকমত্য গড়ে তোলার কাজ করতেন। তাঁকে হত্যার মাধ্যমে ট্রাম্প এক ধরনের সুযোগ হারালেন।

কুইন্সি ইনস্টিটিউটের এই বিশ্লেষকের মতে, ইসরায়েলিরা একে একে শাসনব্যবস্থার সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিদের হত্যা করছে। প্রশ্ন হলো, এর মাধ্যমে তারা কি ট্রাম্পের যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টার সম্ভাব্য পথগুলো বন্ধ করে দিয়ে সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী করতে চাইছে?

কে এই লারিজানি
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে ইরানের কৌশল নির্ধারণে লারিজানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। মঙ্গলবার ইসরায়েলের দাবির কয়েক ঘণ্টা পর তাঁর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে তেহরান।

১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে এক সম্পদশালী পরিবারে লারিজানির জন্ম। তাঁর বাবা ছিলেন ধর্মীয় পণ্ডিত। ২০ বছর বয়সে তিনি বিয়ে করেন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর মেয়েকে।

গণিত ও কম্পিউটার সায়েন্সে ডিগ্রি অর্জনের পর লারিজানি পাশ্চাত্য দর্শনে ডক্টরেট সম্পন্ন করেন। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর তিনি আইআরজিসিতে যোগ দেন। পরে সংস্কৃতি মন্ত্রী এবং রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৫ সালে লারিজানি ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব এবং পারমাণবিক কর্মসূচির প্রধান আলোচক হিসেবে নিযুক্ত হন। কিন্তু ২০০৭ সালে এ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। ২০০৮ সালের পর তিনি টানা তিন মেয়াদে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তি অনুমোদনে তিনি মূল ভূমিকা রেখেছিলেন।

গত বছরের আগস্টে লারিজানি ফের নিরাপত্তা পরিষদের সচিবের দায়িত্ব পান। তখন থেকে তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পান।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481