ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া কঠোর ভাষায় জানিয়েছেন যে, ইরান শুধু পাল্টা হামলা নয়, বরং এমন এক ‘প্রতিরোধ দেয়াল’ গড়তে চায় যা ভবিষ্যতে যে কোনো শত্রুকে ইরানের দিকে তাকানোর সাহসও কেড়ে নেবে।
যুদ্ধের ময়দানে এখন শুধু গোলাবারুদের লড়াই নয়, চলছে আধিপত্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা। ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, এই যুদ্ধের মাধ্যমে ইরান তার ‘ডিটারেন্স’ বা সামরিক সক্ষমতার এমন এক নজির স্থাপন করছে যা যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে দেশটিকে স্থায়ী নিরাপত্তা দেবে। তিনি বলেন, শত্রুকে এমন শিক্ষা দিতে হবে যাতে তারা ভবিষ্যতে আর কোনোদিন আক্রমণের দুঃসাহস না দেখায়।
দেশ ভাঙার নীল নকশা: ইরানি সেনা মুখপাত্র অভিযোগ করেন, আমেরিকা নির্লজ্জভাবে ইসরাইলের ‘গ্রেটার ইসরাইল’ প্রকল্প বাস্তবায়নে সাহায্য করছে। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো জর্ডান, সৌদি আরব এবং মিশরের অংশবিশেষ দখল করে ইসরাইলের সীমানা বাড়ানো। তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন মূলত পশ্চিম এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোকে ছোট ছোট টুকরোয় ভাগ করে ইসরাইলের আধিপত্য নিশ্চিত করতে চায়। আর এই পথে একমাত্র বড় বাধা হলো শক্তিশালী ও স্বাধীন ইরান।
আমেরিকান শৃঙ্খলের পতন: তিনি আরও বলেন, গত পাঁচ দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক ঘাঁটি গেঁড়ে আমেরিকা যে তথাকথিত ‘আমেরিকান অর্ডার’ বা শাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল, তা আজ ধুলোয় মিশে গেছে। ইরানের ক্রমাগত এবং নির্ভুল পাল্টা হামলায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ মার্কিন ঘাঁটি এখন ধ্বংসস্তূপ। তাঁর মতে, আমেরিকার সেই দাপট আজ ইতিহাস।
নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থার স্বপ্ন: আকরামিনিয়া এক নতুন আগামীর পূর্বাভাস দিয়ে বলেন, যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে এমন এক নতুন শৃঙ্খলা গড়ে উঠবে যেখানে আমেরিকার কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। এই অঞ্চলের দেশগুলো বন্ধুত্বের ভিত্তিতে নিজেদের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি নিজেরাই সামলাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের স্বাধীনতা ও শক্তিকে আমেরিকা ও ইসরাইল সহ্য করতে পারছে না।
প্রতিরোধই বাঁচার পথ: মুখপাত্রটি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরানকে তার রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং দেশ বিভক্তির ষড়যন্ত্র রুখতে এই প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে হবে। সশস্ত্র বাহিনীর সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমেই ইরানের নিরাপত্তা আজ সুনিশ্চিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকরামিনিয়ার বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট, তেহরান এই যুদ্ধকে শুধু একটি সাময়িক সংঘাত হিসেবে দেখছে না। বরং তারা একে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন প্রভাব হঠানোর এবং ইসরাইলি সম্প্রসারণবাদ রুখে দেওয়ার এক ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে চায়।

নিজস্ব সংবাদ : 























