ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে ঝুপড়িমুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:০৫:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
  • ৬৭ বার পড়া হয়েছে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনায় দীর্ঘ দুই দশক পর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টের বালিয়াড়ি থেকে ঝুপড়ি ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।

সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত ১২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানের চার দিনে প্রায় ছয় শতাধিক অস্থায়ী দোকান ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সৈকতের বালিয়াড়িতে গড়ে ওঠা সব ধরনের স্থাপনাই অবৈধ। এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে পুরো সৈকত এলাকা ঝুপড়িমুক্ত করা হবে।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বালিয়াড়ি দখল করে গড়ে ওঠা অসংখ্য ঝুপড়ি দোকান পর্যটন পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল। এসব স্থাপনার কারণে সমুদ্রপাড়ের হোটেল–মোটেলের কক্ষে অবস্থান করা পর্যটকরাও অনেক সময় সাগর দেখতে পারতেন না। সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতেই প্রশাসনের এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে।

অভিযান শুরুর পর সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে স্বেচ্ছায় নিজেদের দোকান ও স্থাপনা সরিয়ে নেন।

তবে লাবণী ও কলাতলী পয়েন্টে এখনও কিছু স্থাপনা রয়ে গেছে। 

উচ্ছেদ অভিযানে দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মনজু বিন আফনান বলেন, পর্যায়ক্রমে এসব এলাকাতেও অভিযান চালিয়ে সব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ফেলা হবে।

উচ্ছেদের কারণে কিছু ব্যবসায়ীর মধ্যে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। সুগন্ধা বিচ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা জেলা প্রশাসনকে রাজস্ব দিয়েই এখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এক সাবেক জেলা প্রশাসক রাজস্ব গ্রহণ করে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। 

এ বিষয়ে কক্সবাজার-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সৈকতে উচ্ছেদে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করায় ব্যবসায়ীদের আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কক্সবাজার হচ্ছে দেশেবাসীর সম্পদ।

বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ বালুকাময় সৈকত হওয়ায় কক্সবাজার সৈকতের প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ বরাবরই বেশি। তাই এই সৈকতকে জঞ্জালমুক্ত রাখতে হবে।’ 

জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, সৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করে পর্যটন এলাকার শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কক্সবাজারের নাজিরারটেক সৈকত থেকে টেকনাফ পর্যন্ত দীর্ঘ ১২০ কিলোমিটার সৈকতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে পর্যায়ক্রমে। প্রসঙ্গত গত ৯ মার্চ কক্সবাজার জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এক সপ্তাহের মধ্যে সমুদ্র সৈকতের জঞ্জাল অপসারণ করার নিদ্দের্শনা দিয়েছিলেন।

জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিদ্দের্শনায় পুরো সৈকতের বালিয়াড়িতে স্থাপিত সমস্ত স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে ঝুপড়িমুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

আপডেট সময় ০২:০৫:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনায় দীর্ঘ দুই দশক পর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টের বালিয়াড়ি থেকে ঝুপড়ি ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।

সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত ১২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানের চার দিনে প্রায় ছয় শতাধিক অস্থায়ী দোকান ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সৈকতের বালিয়াড়িতে গড়ে ওঠা সব ধরনের স্থাপনাই অবৈধ। এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে পুরো সৈকত এলাকা ঝুপড়িমুক্ত করা হবে।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বালিয়াড়ি দখল করে গড়ে ওঠা অসংখ্য ঝুপড়ি দোকান পর্যটন পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল। এসব স্থাপনার কারণে সমুদ্রপাড়ের হোটেল–মোটেলের কক্ষে অবস্থান করা পর্যটকরাও অনেক সময় সাগর দেখতে পারতেন না। সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতেই প্রশাসনের এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে।

অভিযান শুরুর পর সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে স্বেচ্ছায় নিজেদের দোকান ও স্থাপনা সরিয়ে নেন।

তবে লাবণী ও কলাতলী পয়েন্টে এখনও কিছু স্থাপনা রয়ে গেছে। 

উচ্ছেদ অভিযানে দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মনজু বিন আফনান বলেন, পর্যায়ক্রমে এসব এলাকাতেও অভিযান চালিয়ে সব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ফেলা হবে।

উচ্ছেদের কারণে কিছু ব্যবসায়ীর মধ্যে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। সুগন্ধা বিচ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা জেলা প্রশাসনকে রাজস্ব দিয়েই এখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এক সাবেক জেলা প্রশাসক রাজস্ব গ্রহণ করে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। 

এ বিষয়ে কক্সবাজার-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সৈকতে উচ্ছেদে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করায় ব্যবসায়ীদের আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কক্সবাজার হচ্ছে দেশেবাসীর সম্পদ।

বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ বালুকাময় সৈকত হওয়ায় কক্সবাজার সৈকতের প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ বরাবরই বেশি। তাই এই সৈকতকে জঞ্জালমুক্ত রাখতে হবে।’ 

জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, সৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করে পর্যটন এলাকার শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কক্সবাজারের নাজিরারটেক সৈকত থেকে টেকনাফ পর্যন্ত দীর্ঘ ১২০ কিলোমিটার সৈকতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে পর্যায়ক্রমে। প্রসঙ্গত গত ৯ মার্চ কক্সবাজার জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এক সপ্তাহের মধ্যে সমুদ্র সৈকতের জঞ্জাল অপসারণ করার নিদ্দের্শনা দিয়েছিলেন।

জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিদ্দের্শনায় পুরো সৈকতের বালিয়াড়িতে স্থাপিত সমস্ত স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।