ঢাকা ১১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

ইরানের হামলার মুখে পালাতে বাধ্য হয় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৩২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
হরমুজ প্রণালী ও ওমান সাগর সংলগ্ন কৌশলগত জলসীমায় উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিমানবাহী রণতরিকে (Aircraft Carrier) পিছু হঠতে বাধ্য করার দাবি করেছে ইরান।

দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ শাখার প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তসনিম নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেনারেল তাংসিরি জানিয়েছেন যে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার কাছাকাছি আসার চেষ্টা করলে ইরানি নৌবাহিনীর কঠোর প্রতিরোধের মুখে পড়ে। তিনি দাবি করেন, ইরানি ড্রোন এবং মিসাইল সিস্টেমের কড়া নজরদারিতে থাকা মার্কিন এই রণতরি শেষ পর্যন্ত তার পথ পরিবর্তন করে পিছু হঠতে বাধ্য হয়।

জেনারেল তাংসিরি এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের ড্রোনগুলো ওই যুদ্ধজাহাজটির ওপর দিয়ে উড্ডয়ন করে এবং সেটিকে আমাদের আইন ও নির্দেশনাবলী মেনে চলতে বাধ্য করে। ইরানের জলসীমায় যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক তৎপরতার জবাব দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।”

ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, কয়েকদিন ধরেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানি ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইলগুলো মার্কিন রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর অবস্থান নিখুঁতভাবে শনাক্ত করেছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে মার্কিন নৌসেনারা সংঘর্ষ এড়াতে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে এবং ওমান সাগরের দিকে সরে যায়।

আইআরজিসি-র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়েইনিও এই ঘটনায় মন্তব্য করেছেন। তার মতে, সাম্প্রতিক ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ (True Promise 4) অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইরানের সামরিক শক্তি দেখে মার্কিন বাহিনী আতঙ্কিত। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, কেবল এই ঘটনাই নয়, এর আগেও ইরানি স্পিডবোট ও ড্রোনগুলো মার্কিন হেলিকপ্টার বাহক জাহাজগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়ে অবতরণ করতে বাধ্য করেছিল।

তবে এই বিষয়ে মার্কিন সামরিক সদর দপ্তর পেন্টাগন বা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সাধারণত তেহরান এ ধরনের দাবি করলেও ওয়াশিংটন একে ‘নিয়মিত টহল’ বা ‘অতিরঞ্জিত’ বলে উড়িয়ে দিয়ে থাকে।

উল্লেখ্য, লোহিত সাগর এবং ওমান সাগরে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ড্রোন হামলা ও সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় বাইরের কোনো শক্তির প্রয়োজন নেই বলে ইরান বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

ইরানের হামলার মুখে পালাতে বাধ্য হয় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী

আপডেট সময় ০৬:৩২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
হরমুজ প্রণালী ও ওমান সাগর সংলগ্ন কৌশলগত জলসীমায় উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিমানবাহী রণতরিকে (Aircraft Carrier) পিছু হঠতে বাধ্য করার দাবি করেছে ইরান।

দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ শাখার প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তসনিম নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেনারেল তাংসিরি জানিয়েছেন যে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার কাছাকাছি আসার চেষ্টা করলে ইরানি নৌবাহিনীর কঠোর প্রতিরোধের মুখে পড়ে। তিনি দাবি করেন, ইরানি ড্রোন এবং মিসাইল সিস্টেমের কড়া নজরদারিতে থাকা মার্কিন এই রণতরি শেষ পর্যন্ত তার পথ পরিবর্তন করে পিছু হঠতে বাধ্য হয়।

জেনারেল তাংসিরি এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের ড্রোনগুলো ওই যুদ্ধজাহাজটির ওপর দিয়ে উড্ডয়ন করে এবং সেটিকে আমাদের আইন ও নির্দেশনাবলী মেনে চলতে বাধ্য করে। ইরানের জলসীমায় যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক তৎপরতার জবাব দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।”

ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, কয়েকদিন ধরেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানি ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইলগুলো মার্কিন রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর অবস্থান নিখুঁতভাবে শনাক্ত করেছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে মার্কিন নৌসেনারা সংঘর্ষ এড়াতে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে এবং ওমান সাগরের দিকে সরে যায়।

আইআরজিসি-র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়েইনিও এই ঘটনায় মন্তব্য করেছেন। তার মতে, সাম্প্রতিক ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ (True Promise 4) অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইরানের সামরিক শক্তি দেখে মার্কিন বাহিনী আতঙ্কিত। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, কেবল এই ঘটনাই নয়, এর আগেও ইরানি স্পিডবোট ও ড্রোনগুলো মার্কিন হেলিকপ্টার বাহক জাহাজগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়ে অবতরণ করতে বাধ্য করেছিল।

তবে এই বিষয়ে মার্কিন সামরিক সদর দপ্তর পেন্টাগন বা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সাধারণত তেহরান এ ধরনের দাবি করলেও ওয়াশিংটন একে ‘নিয়মিত টহল’ বা ‘অতিরঞ্জিত’ বলে উড়িয়ে দিয়ে থাকে।

উল্লেখ্য, লোহিত সাগর এবং ওমান সাগরে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ড্রোন হামলা ও সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় বাইরের কোনো শক্তির প্রয়োজন নেই বলে ইরান বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে।