ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের, চলতে পারে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৪৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • ৮১ বার পড়া হয়েছে

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহ নয়, বরং কয়েক মাস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইতোমধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম পলিটিকো।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড পেন্টাগনের কাছে অতিরিক্ত সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত সদর দপ্তরে মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে। এই অতিরিক্ত কর্মকর্তারা অন্তত ১০০ দিন বা সম্ভাব্যভাবে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে সহায়তা করবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ওয়াশিংটন শুরুতে যে সময়সীমা উল্লেখ করেছিল, তার চেয়ে অনেক দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে পরিস্থিতি অনুযায়ী এটি আরও দীর্ঘ হতে পারে।

পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়, এত বড় পরিসরের সামরিক অভিযান সাধারণত কয়েক মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু পেন্টাগনের ভেতরে দ্রুত অতিরিক্ত জনবল ও সম্পদ জোগাড়ের চেষ্টা দেখাচ্ছে যে সংঘাতের পরিণতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না।

আগের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু শীর্ষ উপদেষ্টা চেয়েছিলেন যে প্রথমে ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালাক, এরপর যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে যুক্ত হবে। শেষ পর্যন্ত ঠিক সেই ধারাবাহিকতাই ঘটেছে।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় এখন পর্যন্ত হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং কয়েক শত মানুষ আহত হয়েছেন।

সংস্থাটি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৬৫ জন শিশু রয়েছে। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো দ্বৈত হামলায় তাদের মৃত্যু হয়েছে, যা চলমান সংঘাতের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর একটি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের হামলায় কুয়েতে ছয়জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।

এই সংঘাত এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়াদকালজুড়ে বড় একটি ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও এ নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ছে, কারণ ট্রাম্পের অনেক সমর্থকই মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধে জড়ানোর বিরোধিতা করছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বীকার করেছেন যে ইসরায়েলের পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “আমরা জানতাম ইসরায়েল হামলা চালাবে। এটাও জানতাম এর ফলে মার্কিন বাহিনীর ওপর আক্রমণ হতে পারে। তাই আগাম ব্যবস্থা না নিলে আমাদের ক্ষয়ক্ষতি আরও বেশি হতে পারত।”

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই অভিযান বহুদিনের পরিকল্পনার অংশ।

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় এই অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহযোগিতা রয়েছে।”

নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, “৪০ বছর ধরে যে লক্ষ্য অর্জনের স্বপ্ন দেখেছি, এই জোট সেই সুযোগ করে দিয়েছে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের, চলতে পারে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

আপডেট সময় ১২:৪৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহ নয়, বরং কয়েক মাস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইতোমধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম পলিটিকো।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড পেন্টাগনের কাছে অতিরিক্ত সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত সদর দপ্তরে মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে। এই অতিরিক্ত কর্মকর্তারা অন্তত ১০০ দিন বা সম্ভাব্যভাবে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে সহায়তা করবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ওয়াশিংটন শুরুতে যে সময়সীমা উল্লেখ করেছিল, তার চেয়ে অনেক দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে পরিস্থিতি অনুযায়ী এটি আরও দীর্ঘ হতে পারে।

পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়, এত বড় পরিসরের সামরিক অভিযান সাধারণত কয়েক মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু পেন্টাগনের ভেতরে দ্রুত অতিরিক্ত জনবল ও সম্পদ জোগাড়ের চেষ্টা দেখাচ্ছে যে সংঘাতের পরিণতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না।

আগের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু শীর্ষ উপদেষ্টা চেয়েছিলেন যে প্রথমে ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালাক, এরপর যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে যুক্ত হবে। শেষ পর্যন্ত ঠিক সেই ধারাবাহিকতাই ঘটেছে।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় এখন পর্যন্ত হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং কয়েক শত মানুষ আহত হয়েছেন।

সংস্থাটি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৬৫ জন শিশু রয়েছে। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো দ্বৈত হামলায় তাদের মৃত্যু হয়েছে, যা চলমান সংঘাতের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর একটি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের হামলায় কুয়েতে ছয়জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।

এই সংঘাত এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়াদকালজুড়ে বড় একটি ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও এ নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ছে, কারণ ট্রাম্পের অনেক সমর্থকই মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধে জড়ানোর বিরোধিতা করছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বীকার করেছেন যে ইসরায়েলের পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “আমরা জানতাম ইসরায়েল হামলা চালাবে। এটাও জানতাম এর ফলে মার্কিন বাহিনীর ওপর আক্রমণ হতে পারে। তাই আগাম ব্যবস্থা না নিলে আমাদের ক্ষয়ক্ষতি আরও বেশি হতে পারত।”

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই অভিযান বহুদিনের পরিকল্পনার অংশ।

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় এই অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহযোগিতা রয়েছে।”

নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, “৪০ বছর ধরে যে লক্ষ্য অর্জনের স্বপ্ন দেখেছি, এই জোট সেই সুযোগ করে দিয়েছে।”