ঢাকা ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

গভর্নর হিসেবে ‘ব্যবসায়ী’ নিয়োগ, ৫ বিষয় খেয়াল রাখার পরামর্শ তাসনিম জারার

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:৪০:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে একজন সক্রিয় ব্যবসায়ীকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক তাসনিম জারা। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি গভর্নর নিয়োগ প্রসঙ্গে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

পোস্টে তাসনিম জারা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের ভূমিকা মৌলিকভাবে আলাদা। সচিব সরকারের নীতি বাস্তবায়ন করেন। সরকার বদলালে তাই সিনিয়র সচিব বদলানো অস্বাভাবিক নয়।

তিনি বলেন, কিন্তু গভর্নরের কাজ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা, এবং প্রয়োজনে সরকারকেও “না” বলা। যখন সরকার অতিরিক্ত ব্যয়ের পথে যায়, যখন রাজনৈতিক চাপে মুদ্রা ছাপানোর তাগিদ আসে, তখন গভর্নরকে দাঁড়াতে হতে পারে সরকারের বিপরীতে। আর এই কারণেই বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতাকে এত গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, গভর্নরের নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে যাতে তিনি রাজনৈতিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে পারেন। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ার চার বছরের মেয়াদে থাকেন। ভিন্নমতের প্রেসিডেন্টও সেই মেয়াদে হাত দেন না। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গভর্নর বদলানো তাই সচিবালয়ে রদবদলের চেয়ে ভিন্ন মাত্রার সিদ্ধান্ত।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে সরিয়ে একজন সক্রিয় ব্যবসায়ীকে নিয়োগ দিচ্ছে উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, আমার মনে হয় এই সিদ্ধান্তটার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হবে। সামনের দিনগুলোতে যে যে বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন:

১. গভর্নর কি সরকারের সঙ্গে একমত না হলে সেটা বলতে পারছেন? নাকি প্রতিটি সিদ্ধান্ত সরকারের সুরে সুর মিলিয়ে আসছে?
২. নতুন গভর্নর কি তাঁর সব ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা সত্যিকার অর্থেই ত্যাগ করেছেন? নাকি নিয়োগপত্রের শর্ত শুধু কাগজে থাকবে?
৩. ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের সমস্যা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ক্ষত। নতুন গভর্নর কি এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হচ্ছেন?
৪. সুদের হার, মুদ্রা সরবরাহ, এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কি আগের নীতি অব্যাহত থাকছে, নাকি হঠাৎ পরিবর্তন আসছে? যদি পরিবর্তন আসে, তাহলে সেটা কাকে সুবিধা দিচ্ছে?
৫. টাকার মান কি বাজারভিত্তিক থাকছে, নাকি অতীতের সরকারের মতো কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে?

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

গভর্নর হিসেবে ‘ব্যবসায়ী’ নিয়োগ, ৫ বিষয় খেয়াল রাখার পরামর্শ তাসনিম জারার

আপডেট সময় ০২:৪০:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে একজন সক্রিয় ব্যবসায়ীকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক তাসনিম জারা। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি গভর্নর নিয়োগ প্রসঙ্গে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

পোস্টে তাসনিম জারা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের ভূমিকা মৌলিকভাবে আলাদা। সচিব সরকারের নীতি বাস্তবায়ন করেন। সরকার বদলালে তাই সিনিয়র সচিব বদলানো অস্বাভাবিক নয়।

তিনি বলেন, কিন্তু গভর্নরের কাজ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা, এবং প্রয়োজনে সরকারকেও “না” বলা। যখন সরকার অতিরিক্ত ব্যয়ের পথে যায়, যখন রাজনৈতিক চাপে মুদ্রা ছাপানোর তাগিদ আসে, তখন গভর্নরকে দাঁড়াতে হতে পারে সরকারের বিপরীতে। আর এই কারণেই বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতাকে এত গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, গভর্নরের নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে যাতে তিনি রাজনৈতিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে পারেন। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ার চার বছরের মেয়াদে থাকেন। ভিন্নমতের প্রেসিডেন্টও সেই মেয়াদে হাত দেন না। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গভর্নর বদলানো তাই সচিবালয়ে রদবদলের চেয়ে ভিন্ন মাত্রার সিদ্ধান্ত।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে সরিয়ে একজন সক্রিয় ব্যবসায়ীকে নিয়োগ দিচ্ছে উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, আমার মনে হয় এই সিদ্ধান্তটার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হবে। সামনের দিনগুলোতে যে যে বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন:

১. গভর্নর কি সরকারের সঙ্গে একমত না হলে সেটা বলতে পারছেন? নাকি প্রতিটি সিদ্ধান্ত সরকারের সুরে সুর মিলিয়ে আসছে?
২. নতুন গভর্নর কি তাঁর সব ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা সত্যিকার অর্থেই ত্যাগ করেছেন? নাকি নিয়োগপত্রের শর্ত শুধু কাগজে থাকবে?
৩. ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের সমস্যা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ক্ষত। নতুন গভর্নর কি এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হচ্ছেন?
৪. সুদের হার, মুদ্রা সরবরাহ, এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কি আগের নীতি অব্যাহত থাকছে, নাকি হঠাৎ পরিবর্তন আসছে? যদি পরিবর্তন আসে, তাহলে সেটা কাকে সুবিধা দিচ্ছে?
৫. টাকার মান কি বাজারভিত্তিক থাকছে, নাকি অতীতের সরকারের মতো কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে?