ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে আরও পর্যালোচনা করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:০৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০৩ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ও সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি প্রসঙ্গকে ‘বিকাশমান পরিস্থিতি’ (ইভলভিং সিনারিও) হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনার পর সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর আরোপিত কিছু পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সই করা বাণিজ্যচুক্তি ও নতুন শুল্ক কাঠামো নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

আজ বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ সময় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত আগের ধার্য করা ট্যারিফ ‘মেইন্টেনেবল’ নয় বলে ঘোষণা করেছে। এরপর তারা প্রথমে সব দেশের জন্য ১০ শতাংশ এবং পরে ১৫ শতাংশ ট্যারিফ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত নোটিফিকেশন পায়নি। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিষয়টি কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। তাই পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের করা বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও এখনই মন্তব্য করার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে নানা দিক রয়েছে—সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সবদিক বিবেচনা করে সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চুক্তি আলোচনার সময় কিছু নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট ছিল। এটি একটি সংবেদনশীল বিষয় এবং সংশ্লিষ্ট দেশটিও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ মুহূর্তে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।

শুল্ক ও চুক্তি বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মতামত প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। কোন সেক্টরে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে।

বর্তমান দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদারকিতে থাকা আমদানি পণ্যের দাম মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে রমজান শুরুর আগে অনেকেই একসঙ্গে বেশি পরিমাণে বাজার করায় কিছু সবজির দাম সাময়িকভাবে বেড়েছিল। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ৪০-৫০ টাকার লেবু একসময় ১২০ টাকায় উঠেছিল, তবে পরে তা আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে এসেছে।

চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অতীতে বিভিন্ন সরকার আশ্বাস দিলেও কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। এ বিষয়ে বর্তমান সরকার বাস্তব পদক্ষেপ নিয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে আরও পর্যালোচনা করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৭:০৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিউজ ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ও সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি প্রসঙ্গকে ‘বিকাশমান পরিস্থিতি’ (ইভলভিং সিনারিও) হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনার পর সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর আরোপিত কিছু পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সই করা বাণিজ্যচুক্তি ও নতুন শুল্ক কাঠামো নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

আজ বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ সময় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত আগের ধার্য করা ট্যারিফ ‘মেইন্টেনেবল’ নয় বলে ঘোষণা করেছে। এরপর তারা প্রথমে সব দেশের জন্য ১০ শতাংশ এবং পরে ১৫ শতাংশ ট্যারিফ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত নোটিফিকেশন পায়নি। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিষয়টি কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। তাই পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের করা বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও এখনই মন্তব্য করার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে নানা দিক রয়েছে—সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সবদিক বিবেচনা করে সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চুক্তি আলোচনার সময় কিছু নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট ছিল। এটি একটি সংবেদনশীল বিষয় এবং সংশ্লিষ্ট দেশটিও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ মুহূর্তে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।

শুল্ক ও চুক্তি বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মতামত প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। কোন সেক্টরে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে।

বর্তমান দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদারকিতে থাকা আমদানি পণ্যের দাম মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে রমজান শুরুর আগে অনেকেই একসঙ্গে বেশি পরিমাণে বাজার করায় কিছু সবজির দাম সাময়িকভাবে বেড়েছিল। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ৪০-৫০ টাকার লেবু একসময় ১২০ টাকায় উঠেছিল, তবে পরে তা আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে এসেছে।

চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অতীতে বিভিন্ন সরকার আশ্বাস দিলেও কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। এ বিষয়ে বর্তমান সরকার বাস্তব পদক্ষেপ নিয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।