ঢাকা ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

সুদানে আরএসএফ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:০৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭৮ বার পড়া হয়েছে

সুদানের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) একে অপরের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। গত সোমবার দেশটির দারফুর ও কর্দোফান অঞ্চলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সামরিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমাঞ্চলের দারফুর প্রদেশের জালিংগেই শহরে সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছে।

শহরটি বর্তমানে আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে জানায়, হামলার পর শহরের একটি ভবন থেকে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী বের হতে দেখা গেছে। সামরিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে ওই ভবনটি আরএসএফের একটি গুদাম ছিল।

এদিকে পাশের কর্দোফান অঞ্চলের ডিলিং শহরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে আরএসএফ।

সম্প্রতি সেনাবাহিনী সেখানে আধাসামরিক বাহিনীর দীর্ঘদিনের অবরোধ ভেঙে দেয়। এর পরই পাল্টা হিসেবে আরএসএফ এই হামলা চালাল। ড্রোনটি সরকারি একটি মানবিক সহায়তা সংস্থার কার্যালয়ে আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ডিলিং শহরটি যুদ্ধের অন্যতম সম্মুখভাগ হয়ে উঠেছে।

সামরিক সূত্র আরো জানায়, গত সপ্তাহে ডিলিংয়ের চারপাশে দুটি করিডর খোলার ঘোষণা দেওয়ার পর সেনাবাহিনী দক্ষিণ কর্দোফানের রাজধানী কাদুগলির দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

জাতিসংঘের তথ্য মতে, সংঘাতের কারণে কাদুগলি শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ (প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার) ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। গত অক্টোবরে দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি এল-ফাশের দখলের পর আরএসএফ এখন উর্বর ও বিস্তৃত অঞ্চল কর্দোফানের দিকে নজর দিয়েছে।

দক্ষিণ কর্দোফানের পরিস্থিতিকে ‘সুদানের সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং অবহেলিত এলাকা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের (এনআরসি) মহাসচিব জ্যান এগেল্যান্ড।

সোমবার ওই অঞ্চল পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, পুরো শহরের মানুষ ক্ষুধার্ত।

মানুষ সবকিছু ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এটি একটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ, যা দ্রুত এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের দিকে যাচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব যদি এখনই সুদানের দিকে নজর না দেয়, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

জাতিসংঘ বারবার সতর্ক করেছে যে, কর্দোফানেও এল-ফাশের মতো ভয়াবহ নির্যাতন ও গণহত্যার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এর আগে এল-ফাশের পতনের পর আরএসএফের বিরুদ্ধে নিরপরাধ মানুষ হত্যা, যৌন সহিংসতা ও অপহরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল।

সেনাবাহিনী ও তার প্রাক্তন মিত্র আরএসএফের এই গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘ একে বিশ্বের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট হিসেবে অভিহিত করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

সুদানে আরএসএফ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

আপডেট সময় ১০:০৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুদানের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) একে অপরের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। গত সোমবার দেশটির দারফুর ও কর্দোফান অঞ্চলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সামরিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমাঞ্চলের দারফুর প্রদেশের জালিংগেই শহরে সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছে।

শহরটি বর্তমানে আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে জানায়, হামলার পর শহরের একটি ভবন থেকে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী বের হতে দেখা গেছে। সামরিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে ওই ভবনটি আরএসএফের একটি গুদাম ছিল।

এদিকে পাশের কর্দোফান অঞ্চলের ডিলিং শহরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে আরএসএফ।

সম্প্রতি সেনাবাহিনী সেখানে আধাসামরিক বাহিনীর দীর্ঘদিনের অবরোধ ভেঙে দেয়। এর পরই পাল্টা হিসেবে আরএসএফ এই হামলা চালাল। ড্রোনটি সরকারি একটি মানবিক সহায়তা সংস্থার কার্যালয়ে আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ডিলিং শহরটি যুদ্ধের অন্যতম সম্মুখভাগ হয়ে উঠেছে।

সামরিক সূত্র আরো জানায়, গত সপ্তাহে ডিলিংয়ের চারপাশে দুটি করিডর খোলার ঘোষণা দেওয়ার পর সেনাবাহিনী দক্ষিণ কর্দোফানের রাজধানী কাদুগলির দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

জাতিসংঘের তথ্য মতে, সংঘাতের কারণে কাদুগলি শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ (প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার) ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। গত অক্টোবরে দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি এল-ফাশের দখলের পর আরএসএফ এখন উর্বর ও বিস্তৃত অঞ্চল কর্দোফানের দিকে নজর দিয়েছে।

দক্ষিণ কর্দোফানের পরিস্থিতিকে ‘সুদানের সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং অবহেলিত এলাকা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের (এনআরসি) মহাসচিব জ্যান এগেল্যান্ড।

সোমবার ওই অঞ্চল পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, পুরো শহরের মানুষ ক্ষুধার্ত।

মানুষ সবকিছু ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এটি একটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ, যা দ্রুত এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের দিকে যাচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব যদি এখনই সুদানের দিকে নজর না দেয়, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

জাতিসংঘ বারবার সতর্ক করেছে যে, কর্দোফানেও এল-ফাশের মতো ভয়াবহ নির্যাতন ও গণহত্যার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এর আগে এল-ফাশের পতনের পর আরএসএফের বিরুদ্ধে নিরপরাধ মানুষ হত্যা, যৌন সহিংসতা ও অপহরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল।

সেনাবাহিনী ও তার প্রাক্তন মিত্র আরএসএফের এই গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘ একে বিশ্বের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট হিসেবে অভিহিত করেছে।