ঢাকা ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

‘না ভোট’ নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত সহিংসতা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:২৪:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯৬ বার পড়া হয়েছে

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিএনপির তিনজন এবং জামায়াতে ইসলামীর সাতজন কর্মী আহত হয়েছেন। পরে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিএনপির এক নারী ইউপি সদস্য ‘না ভোট’-এর পক্ষে প্রচারণা চালান। বিষয়টি উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কোনো নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ না করে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসে বিএনপির এক নারী ইউপি সদস্য ‘না ভোট’-এর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন—এমন অভিযোগ তোলা হয়। এর জেরে দুপুরে ভোজেশ্বর এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার একপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর নড়িয়া পশ্চিম আমির কাহেত নজরুল ইসলাম ও তাঁর ভাইকে তাঁদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আটকে রাখা হয়। পুলিশ তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এদিকে বিএনপির কর্মীরা ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে মিছিল শুরু করেন। পরে জামায়াতের কর্মীরা তাঁদের নেতাকে দেখতে এলে বিএনপির মিছিল থেকে রাস্তা পার হয়ে জামায়াত কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

খবর পেয়ে নড়িয়া থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহতদের উদ্ধার করে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আচরণবিধি বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট লাকী দাস বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে সংঘর্ষের পর ভোজেশ্বর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

‘না ভোট’ নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত সহিংসতা

আপডেট সময় ১২:২৪:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিএনপির তিনজন এবং জামায়াতে ইসলামীর সাতজন কর্মী আহত হয়েছেন। পরে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিএনপির এক নারী ইউপি সদস্য ‘না ভোট’-এর পক্ষে প্রচারণা চালান। বিষয়টি উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কোনো নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ না করে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসে বিএনপির এক নারী ইউপি সদস্য ‘না ভোট’-এর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন—এমন অভিযোগ তোলা হয়। এর জেরে দুপুরে ভোজেশ্বর এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার একপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর নড়িয়া পশ্চিম আমির কাহেত নজরুল ইসলাম ও তাঁর ভাইকে তাঁদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আটকে রাখা হয়। পুলিশ তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এদিকে বিএনপির কর্মীরা ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে মিছিল শুরু করেন। পরে জামায়াতের কর্মীরা তাঁদের নেতাকে দেখতে এলে বিএনপির মিছিল থেকে রাস্তা পার হয়ে জামায়াত কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

খবর পেয়ে নড়িয়া থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহতদের উদ্ধার করে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আচরণবিধি বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট লাকী দাস বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে সংঘর্ষের পর ভোজেশ্বর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।