ঢাকা ০৩:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো সরকারের দায়িত্ব নয় : আব্দুন নূর তুষার

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৩৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১২৩ বার পড়া হয়েছে

বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও চিকিৎসক আব্দুন নূর তুষার বলেছেন, গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো সরকারের দায়িত্ব নয়। গণভোট প্রত্যেক ব্যক্তির একক সিদ্ধান্ত—আমি এই গণভোটে কোথায় ভোট দেব, সেটি আমিই ঠিক করব। সরকার কেবল মানুষকে উৎসাহ দিতে পারে যেন ভোটের দিন সবাই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন। আলাদা করে গণভোটের জন্য প্রচারণা চালানোর প্রয়োজনও নেই।

কারণ যারা সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে যাবেন, তারাই তো একই কেন্দ্রে গণভোটেও ভোট দেবেন। সুতরাং ‘গণভোটের দিন আসুন ভোট দিন’—এ কথা বলে আলাদা প্রচারণা চালানোরও যৌক্তিকতা নেই।
সম্প্রতি গ্লোবাল টেলিভিশনের নিয়মিত আয়োজন ‘প্রশ্নগুলো সহজ’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আব্দুন নূর তুষার এসব কথা বলেন।

আব্দুন নূর তুষার বলেন, গণভোট নিয়ে আলগা প্রচার-প্রচারণা নয়; বরং গুরুত্ব দেওয়া উচিত একটি বিষয়েই সবাই যেন ভোট দিতে আসেন।

কেউ যেন ভোট না দিয়ে ঘরে বসে না থাকেন। প্রচারণার ভাষা হওয়া উচিত “সবাই ভোট দিতে আসুন।” কিন্তু ‘হ্যাঁ ভোট’ বা ‘না ভোট’ এই দুই পক্ষ নিয়ে প্রচারণা চালানো অনুচিত। কারণ, সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে যেমন কেউ বলে দেয় না আপনি কোন প্রতীকে ভোট দেবেন, তেমনি গণভোটেও বলা উচিত নয় ‘হ্যাঁ’ দেবেন, না ‘না’ দেবেন।

গণভোটে যদি ‘হ্যাঁ’ পক্ষ আর ‘না’ পক্ষ থাকে, তাহলে ‘হ্যাঁ’ পক্ষের পক্ষে গিয়ে সরকারি পর্যায় থেকে প্রচারণা চালানো মানে একপক্ষকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সমর্থন দেওয়া।
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ধরুন, আমরা তিনজন আছি। আমাদের মধ্যে একজন যদি ‘না’ ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সরকারের টাকায় ‘হ্যাঁ’ পক্ষের পক্ষে প্রচারণা চালালে কি সেই ব্যক্তি ন্যায্য সুবিধা পেল? সরকার তো করের টাকায় চলে—এই টাকায় তো ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ কোনো পক্ষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অধিকার রাষ্ট্রের নেই। মানুষের ‘না’ বলার অধিকার আছে। আপনি কে বলার যে তিনি ‘না’ দেবেন না, ‘হ্যাঁ’ দেবেন? ফলে সরকার গণভোটের মূল স্পিরিট নষ্ট করছে।

শুধু তাই নয়, কিছু লোক এমনভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে যে ‘হ্যাঁ’ দিলে আপনি আজাদির পক্ষে, ‘না’ দিলে গোলামির পক্ষে! এটি গণভোটের স্বচ্ছ পরিবেশকে আরো প্রশ্নবিদ্ধ করে।
আব্দুন নূর তুষার বলেন, এই ধরনের বিভাজনমূলক প্রচারণার কারণে ১২ তারিখে নির্বাচন হবে কি না এ নিয়েও বার বার আশ্বাস দিতে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, সবাই মিলে যেন এক ধরনের ‘অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ” ঠিক করে রেখেছে কিন্তু বর বা কনে কেউ একজন রাজি নয়, তাই বারবার ঘোষণা দিতে হচ্ছে ‘১২ তারিখেই হবে’, এবং মানুষকে ‘ভাইজান আইসেন, কাচ্চি খাওয়াবো’ এইরকম করে আনতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, মূল অনাস্থা নির্বাচনের তারিখ নিয়ে নয়, মূল অনাস্থা নির্বাচন যারা আয়োজন করছেন তাদের ওপর। কারণ তাদের বক্তব্য, কাজ এবং কার্যক্রম সবকিছুর মধ্যে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। আরেকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক বক্তৃতায় বলা হচ্ছে “ইট ইজ ওয়েল প্ল্যানড”—কিন্তু এই প্ল্যান কার সঙ্গে? রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে? তারা কি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বসে প্ল্যান করেছে? যদি না করে থাকে, তাহলে কীভাবে বলা যায় ‘এটা ওয়েল প্ল্যানড’? প্ল্যান হলে তো সরকারের লোকজন এবং উপদেষ্টাদের সঙ্গেই হওয়ার কথা। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা আবার বলেছেন—তাদের মধ্য থেকে অনেকেই নির্বাচিত হবে, কেউ কেউ মন্ত্রীও হবে। একজন সাধারণ সমর্থক হিসেবে আমি বলতে পারি “অমুক জিতলে মন্ত্রী হতে পারে”—কিন্তু সরকারপ্রধানের অবস্থান থেকে এমন কথা বলা মানে একটি রাজনৈতিক পক্ষকে এগিয়ে দেওয়া। এটি দুঃখজনক।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো সরকারের দায়িত্ব নয় : আব্দুন নূর তুষার

আপডেট সময় ১২:৩৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও চিকিৎসক আব্দুন নূর তুষার বলেছেন, গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো সরকারের দায়িত্ব নয়। গণভোট প্রত্যেক ব্যক্তির একক সিদ্ধান্ত—আমি এই গণভোটে কোথায় ভোট দেব, সেটি আমিই ঠিক করব। সরকার কেবল মানুষকে উৎসাহ দিতে পারে যেন ভোটের দিন সবাই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন। আলাদা করে গণভোটের জন্য প্রচারণা চালানোর প্রয়োজনও নেই।

কারণ যারা সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে যাবেন, তারাই তো একই কেন্দ্রে গণভোটেও ভোট দেবেন। সুতরাং ‘গণভোটের দিন আসুন ভোট দিন’—এ কথা বলে আলাদা প্রচারণা চালানোরও যৌক্তিকতা নেই।
সম্প্রতি গ্লোবাল টেলিভিশনের নিয়মিত আয়োজন ‘প্রশ্নগুলো সহজ’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আব্দুন নূর তুষার এসব কথা বলেন।

আব্দুন নূর তুষার বলেন, গণভোট নিয়ে আলগা প্রচার-প্রচারণা নয়; বরং গুরুত্ব দেওয়া উচিত একটি বিষয়েই সবাই যেন ভোট দিতে আসেন।

কেউ যেন ভোট না দিয়ে ঘরে বসে না থাকেন। প্রচারণার ভাষা হওয়া উচিত “সবাই ভোট দিতে আসুন।” কিন্তু ‘হ্যাঁ ভোট’ বা ‘না ভোট’ এই দুই পক্ষ নিয়ে প্রচারণা চালানো অনুচিত। কারণ, সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে যেমন কেউ বলে দেয় না আপনি কোন প্রতীকে ভোট দেবেন, তেমনি গণভোটেও বলা উচিত নয় ‘হ্যাঁ’ দেবেন, না ‘না’ দেবেন।

গণভোটে যদি ‘হ্যাঁ’ পক্ষ আর ‘না’ পক্ষ থাকে, তাহলে ‘হ্যাঁ’ পক্ষের পক্ষে গিয়ে সরকারি পর্যায় থেকে প্রচারণা চালানো মানে একপক্ষকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সমর্থন দেওয়া।
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ধরুন, আমরা তিনজন আছি। আমাদের মধ্যে একজন যদি ‘না’ ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সরকারের টাকায় ‘হ্যাঁ’ পক্ষের পক্ষে প্রচারণা চালালে কি সেই ব্যক্তি ন্যায্য সুবিধা পেল? সরকার তো করের টাকায় চলে—এই টাকায় তো ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ কোনো পক্ষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অধিকার রাষ্ট্রের নেই। মানুষের ‘না’ বলার অধিকার আছে। আপনি কে বলার যে তিনি ‘না’ দেবেন না, ‘হ্যাঁ’ দেবেন? ফলে সরকার গণভোটের মূল স্পিরিট নষ্ট করছে।

শুধু তাই নয়, কিছু লোক এমনভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে যে ‘হ্যাঁ’ দিলে আপনি আজাদির পক্ষে, ‘না’ দিলে গোলামির পক্ষে! এটি গণভোটের স্বচ্ছ পরিবেশকে আরো প্রশ্নবিদ্ধ করে।
আব্দুন নূর তুষার বলেন, এই ধরনের বিভাজনমূলক প্রচারণার কারণে ১২ তারিখে নির্বাচন হবে কি না এ নিয়েও বার বার আশ্বাস দিতে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, সবাই মিলে যেন এক ধরনের ‘অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ” ঠিক করে রেখেছে কিন্তু বর বা কনে কেউ একজন রাজি নয়, তাই বারবার ঘোষণা দিতে হচ্ছে ‘১২ তারিখেই হবে’, এবং মানুষকে ‘ভাইজান আইসেন, কাচ্চি খাওয়াবো’ এইরকম করে আনতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, মূল অনাস্থা নির্বাচনের তারিখ নিয়ে নয়, মূল অনাস্থা নির্বাচন যারা আয়োজন করছেন তাদের ওপর। কারণ তাদের বক্তব্য, কাজ এবং কার্যক্রম সবকিছুর মধ্যে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। আরেকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক বক্তৃতায় বলা হচ্ছে “ইট ইজ ওয়েল প্ল্যানড”—কিন্তু এই প্ল্যান কার সঙ্গে? রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে? তারা কি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বসে প্ল্যান করেছে? যদি না করে থাকে, তাহলে কীভাবে বলা যায় ‘এটা ওয়েল প্ল্যানড’? প্ল্যান হলে তো সরকারের লোকজন এবং উপদেষ্টাদের সঙ্গেই হওয়ার কথা। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা আবার বলেছেন—তাদের মধ্য থেকে অনেকেই নির্বাচিত হবে, কেউ কেউ মন্ত্রীও হবে। একজন সাধারণ সমর্থক হিসেবে আমি বলতে পারি “অমুক জিতলে মন্ত্রী হতে পারে”—কিন্তু সরকারপ্রধানের অবস্থান থেকে এমন কথা বলা মানে একটি রাজনৈতিক পক্ষকে এগিয়ে দেওয়া। এটি দুঃখজনক।