ঢাকা ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

নির্বাচনি ইশতেহারে জ্বালানি খাতের ১৩ দফা অন্তর্ভুক্তির দাবি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৪৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১২৮ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির জন্য জ্বালানি খাত সংস্কারে ১৩ দফা দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) অঙ্গসংগঠন ‘ক্যাব যুব সংসদ’।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম, ক্যাব যুব সংসদের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম, অরিত্র রুদ্রধার, নওশীন জাহান তাকিয়া,সাবাত মোস্তফা প্রথন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রাফকাতুল আরেফিন।

সংবাদ সম্মেলনে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তালহা বিন ইমরান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব খান সামি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা থেকে জ্বালানি খাতে জনগণের সার্বভৌমত্ব ও সুবিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়েছে।

ক্যাব যুব সংসদ জানায়, জ্বালানি খাতকে বাণিজ্যিকীকরণের পরিবর্তে সেবা খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং ‘লুণ্ঠনমূলক ব্যয় ও মুনাফা’ বন্ধ করে জনবান্ধব জ্বালানি নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তাদের এই উদ্যোগ।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ১৩ দফা দাবি হলো—

(১) বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি খাতকে বাণিজ্যিক খাত হতে পুনরায় সেবাখাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং সরকারি সেবা মুনাফামুক্ত নিশ্চিত করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ কস্ট প্লাস নয় কস্টভিত্তক নিশ্চিত করা।

(২) জ্বালানি দক্ষতা ও সংরক্ষণ উন্নয়নের মাধ্যমে বর্তমানের তুলনায় জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি গড়ে আগামী সরকারের ৫ বছর মেয়াদে কমপক্ষে ৫% কমানো নিশ্চিত করা।

(৩) সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত বৃদ্ধি দ্বারা ওই ৫ বছরে গড়ে ১৫% বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং ছোট শিল্প হিসেবে এ-বিদ্যুৎ উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেয়া।

(৪) এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি ৫ বছরের জন্য রহিত করা এবং কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি নিষিদ্ধ করা।

(৫) গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থে বাপেক্সসহ দেশীয় কোম্পানি দ্বারা শতভাগ অনুসন্ধান ও উত্তোলন নিশ্চিত করা।

(৬) বাপেক্সসহ দেশীয় কোম্পানি দ্বারা শতভাগ গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন নিশ্চিত করা; গণশুনানির ভিত্তিতে ছাতক(পূর্ব) ও ভোলা/দক্ষিণাঞ্চলের অব্যবহৃত গ্যাস ব্যবহারের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন নিশ্চিত করা।

(৭) আদানির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করানো এবং আদানির বিদ্যুৎ আমদানি রদ নিশ্চিত করা।

(৮) ক্যাবের দায়েরকৃত স্পিডি অ্যাক্ট ২০১০ রহিতকরণ অধ্যাদেশ ২০২৪ সংক্রান্ত রিট মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে এই আইনের আওতায় সম্পাদিত সকল চুক্তি ও লাইসেন্স বাতিলসহ সকল ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করা।

(৯) ওইসকল চুক্তির কারণে রাষ্ট্রের যত আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ সংশ্লিষ্টদের নিকট থেকে আদায় নিশ্চিত করা।

(১০) জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গের ‘জ্বালানি অপরাধী’ হিসেবে বিচার নিশ্চিত করা।

(১১) (ক) লুণ্ঠনমূলক ‘ব্যয় ও মুনাফা’ মুক্ত করে বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যয় কমিয়ে বিদ্যমান মূল্যহার কমানো এবং (খ) এলপিজি’র বাজার ওলিগোপলি থেকে মুক্ত করার জন্য এলপিজি অপারেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)-এর কর্তৃত্ব রদ করা, উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির লাইসেন্স প্রদান করা, সরকারি মালিকানায় এলপিজি টার্মিনাল ও ওয়েল রিফাইনারি করা এবং সরকারি মালিকানায় এলপিজির ৫০% আমদানি ও স্টোরেজক্ষমতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

(১২) বিইআরসি’র জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিইআরসি’র বিরুদ্ধে আনীত ক্যাব-এর অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করা, ক্যাব প্রস্তাবিত বিইআরসি আইন সংশোধনী প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা ও সেই সাথে ক্যাব প্রস্তাবিত জ্বালানি রূপান্তর নীতি, ২০২৪ এর আলোকে গণবান্ধব জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করা।

(১৩) আন্তর্জাতিক জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবসা সুরক্ষায় প্রণীত জ্বালানি সনদ চুক্তি ১৯৯২ স্বাক্ষরে সরকারকে বিরত রাখা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

নির্বাচনি ইশতেহারে জ্বালানি খাতের ১৩ দফা অন্তর্ভুক্তির দাবি

আপডেট সময় ০১:৪৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির জন্য জ্বালানি খাত সংস্কারে ১৩ দফা দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) অঙ্গসংগঠন ‘ক্যাব যুব সংসদ’।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম, ক্যাব যুব সংসদের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম, অরিত্র রুদ্রধার, নওশীন জাহান তাকিয়া,সাবাত মোস্তফা প্রথন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রাফকাতুল আরেফিন।

সংবাদ সম্মেলনে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তালহা বিন ইমরান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব খান সামি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা থেকে জ্বালানি খাতে জনগণের সার্বভৌমত্ব ও সুবিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়েছে।

ক্যাব যুব সংসদ জানায়, জ্বালানি খাতকে বাণিজ্যিকীকরণের পরিবর্তে সেবা খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং ‘লুণ্ঠনমূলক ব্যয় ও মুনাফা’ বন্ধ করে জনবান্ধব জ্বালানি নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তাদের এই উদ্যোগ।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ১৩ দফা দাবি হলো—

(১) বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি খাতকে বাণিজ্যিক খাত হতে পুনরায় সেবাখাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং সরকারি সেবা মুনাফামুক্ত নিশ্চিত করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ কস্ট প্লাস নয় কস্টভিত্তক নিশ্চিত করা।

(২) জ্বালানি দক্ষতা ও সংরক্ষণ উন্নয়নের মাধ্যমে বর্তমানের তুলনায় জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি গড়ে আগামী সরকারের ৫ বছর মেয়াদে কমপক্ষে ৫% কমানো নিশ্চিত করা।

(৩) সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত বৃদ্ধি দ্বারা ওই ৫ বছরে গড়ে ১৫% বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং ছোট শিল্প হিসেবে এ-বিদ্যুৎ উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেয়া।

(৪) এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি ৫ বছরের জন্য রহিত করা এবং কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি নিষিদ্ধ করা।

(৫) গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থে বাপেক্সসহ দেশীয় কোম্পানি দ্বারা শতভাগ অনুসন্ধান ও উত্তোলন নিশ্চিত করা।

(৬) বাপেক্সসহ দেশীয় কোম্পানি দ্বারা শতভাগ গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন নিশ্চিত করা; গণশুনানির ভিত্তিতে ছাতক(পূর্ব) ও ভোলা/দক্ষিণাঞ্চলের অব্যবহৃত গ্যাস ব্যবহারের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন নিশ্চিত করা।

(৭) আদানির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করানো এবং আদানির বিদ্যুৎ আমদানি রদ নিশ্চিত করা।

(৮) ক্যাবের দায়েরকৃত স্পিডি অ্যাক্ট ২০১০ রহিতকরণ অধ্যাদেশ ২০২৪ সংক্রান্ত রিট মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে এই আইনের আওতায় সম্পাদিত সকল চুক্তি ও লাইসেন্স বাতিলসহ সকল ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করা।

(৯) ওইসকল চুক্তির কারণে রাষ্ট্রের যত আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ সংশ্লিষ্টদের নিকট থেকে আদায় নিশ্চিত করা।

(১০) জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গের ‘জ্বালানি অপরাধী’ হিসেবে বিচার নিশ্চিত করা।

(১১) (ক) লুণ্ঠনমূলক ‘ব্যয় ও মুনাফা’ মুক্ত করে বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যয় কমিয়ে বিদ্যমান মূল্যহার কমানো এবং (খ) এলপিজি’র বাজার ওলিগোপলি থেকে মুক্ত করার জন্য এলপিজি অপারেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)-এর কর্তৃত্ব রদ করা, উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির লাইসেন্স প্রদান করা, সরকারি মালিকানায় এলপিজি টার্মিনাল ও ওয়েল রিফাইনারি করা এবং সরকারি মালিকানায় এলপিজির ৫০% আমদানি ও স্টোরেজক্ষমতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

(১২) বিইআরসি’র জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিইআরসি’র বিরুদ্ধে আনীত ক্যাব-এর অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করা, ক্যাব প্রস্তাবিত বিইআরসি আইন সংশোধনী প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা ও সেই সাথে ক্যাব প্রস্তাবিত জ্বালানি রূপান্তর নীতি, ২০২৪ এর আলোকে গণবান্ধব জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করা।

(১৩) আন্তর্জাতিক জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবসা সুরক্ষায় প্রণীত জ্বালানি সনদ চুক্তি ১৯৯২ স্বাক্ষরে সরকারকে বিরত রাখা।