ঢাকা ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

ট্রাম্পকে কড়া ভাষায় আক্রমণ খামেনির, জনগণকে ঐক্যের আহ্বান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:১২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০৫ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘হাতে রক্ত লেগে আছে’ বলে অভিযোগ তোলেন।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) কঠোর ভাষায় দেওয়া এক ভাষণে খামেনি বলেন, তথাকথিত ‘১২ দিনের যুদ্ধ’-এ এক হাজারের বেশি ইরানির মৃত্যুর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়ী। নিহতদের মধ্যে সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি কমান্ডার, বিজ্ঞানী ও শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরাও ছিলেন বলে ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন।

খামেনি ট্রাম্পের নিজের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সংঘাতের সময় তিনি ‘আদেশ দিয়েছিলেন’—এমন মন্তব্য কার্যত দায় স্বীকারের শামিল। খামেনির ভাষায়, ‘তিনি বলেন, তিনি ইরানি জাতির পক্ষে। অথচ তার হাত ইরানিদের রক্তে রঞ্জিত।’ এ ধরনের বক্তব্যকে তিনি প্রতারণামূলক বলে উড়িয়ে দেন।

‘দাঙ্গাবাজদের’ বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা

ভাষণে খামেনি ‘দাঙ্গাবাজ’ ও ‘ভাঙচুরকারীদের’ বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন। তার দাবি, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে জনসম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে কিছু মানুষ ওয়াশিংটনের মন জোগানোর চেষ্টা করছে।

তিনি অভিযোগ করেন, কেউ কেউ ‘আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে’ কাজ করছে, যা বিদেশি স্বার্থে সেবা দেওয়ার শামিল। খামেনি বলেন, ‘আমাদের জাতি বিদেশিদের জন্য ভাড়াটে মানসিকতা মেনে নেয় না।’

বিদেশি শক্তির সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করা ব্যক্তিদের ইরানি জনগণ প্রত্যাখ্যান করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ঐক্যের ডাক

ইরানের তরুণদের সরাসরি সম্বোধন করে খামেনি ঐক্য ও সতর্কতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ জাতি যেকোনো শত্রুকে পরাজিত করতে পারে। তার ভাষায়, শত সহস্র মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ধ্বংস বা অস্থিরতার মুখে তা কখনো পিছু হটবে না।

তিনি ট্রাম্পের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য না করে যুক্তরাষ্ট্রের নিজের সমস্যাগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

খামেনি ইতিহাসের উদাহরণ টেনে সতর্ক করেন যে, ক্ষমতার শীর্ষে থাকা উদ্ধত শাসকরাই শেষ পর্যন্ত পতিত হয়। তিনি ফেরাউন, নমরুদ এবং ইরানের সাবেক শাসক রেজা শাহ ও মোহাম্মদ রেজা শাহের নাম উল্লেখ করেন। ইঙ্গিত দেন, ট্রাম্পও একই পরিণতির মুখোমুখি হতে পারেন। ‘এই ব্যক্তিও উৎখাত হবে,’ তিনি বলেন।

প্রসঙ্গত, অর্থনৈতিক চাপ ও রাজনৈতিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে ইরানে অস্থিরতা বেড়েছে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানের স্বঘোষিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভির সঙ্গে তার বৈঠক করা উপযুক্ত হবে না—যা থেকে বোঝা যায়, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের বিকল্প হিসেবে কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিতে ওয়াশিংটন অনিচ্ছুক। যদিও ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংস দমন-পীড়ন থেকে তেহরানকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, তবে কোনো নির্দিষ্ট বিরোধী নেতাকে তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন দেননি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

ট্রাম্পকে কড়া ভাষায় আক্রমণ খামেনির, জনগণকে ঐক্যের আহ্বান

আপডেট সময় ০৭:১২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘হাতে রক্ত লেগে আছে’ বলে অভিযোগ তোলেন।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) কঠোর ভাষায় দেওয়া এক ভাষণে খামেনি বলেন, তথাকথিত ‘১২ দিনের যুদ্ধ’-এ এক হাজারের বেশি ইরানির মৃত্যুর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়ী। নিহতদের মধ্যে সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি কমান্ডার, বিজ্ঞানী ও শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরাও ছিলেন বলে ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন।

খামেনি ট্রাম্পের নিজের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সংঘাতের সময় তিনি ‘আদেশ দিয়েছিলেন’—এমন মন্তব্য কার্যত দায় স্বীকারের শামিল। খামেনির ভাষায়, ‘তিনি বলেন, তিনি ইরানি জাতির পক্ষে। অথচ তার হাত ইরানিদের রক্তে রঞ্জিত।’ এ ধরনের বক্তব্যকে তিনি প্রতারণামূলক বলে উড়িয়ে দেন।

‘দাঙ্গাবাজদের’ বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা

ভাষণে খামেনি ‘দাঙ্গাবাজ’ ও ‘ভাঙচুরকারীদের’ বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন। তার দাবি, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে জনসম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে কিছু মানুষ ওয়াশিংটনের মন জোগানোর চেষ্টা করছে।

তিনি অভিযোগ করেন, কেউ কেউ ‘আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে’ কাজ করছে, যা বিদেশি স্বার্থে সেবা দেওয়ার শামিল। খামেনি বলেন, ‘আমাদের জাতি বিদেশিদের জন্য ভাড়াটে মানসিকতা মেনে নেয় না।’

বিদেশি শক্তির সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করা ব্যক্তিদের ইরানি জনগণ প্রত্যাখ্যান করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ঐক্যের ডাক

ইরানের তরুণদের সরাসরি সম্বোধন করে খামেনি ঐক্য ও সতর্কতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ জাতি যেকোনো শত্রুকে পরাজিত করতে পারে। তার ভাষায়, শত সহস্র মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ধ্বংস বা অস্থিরতার মুখে তা কখনো পিছু হটবে না।

তিনি ট্রাম্পের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য না করে যুক্তরাষ্ট্রের নিজের সমস্যাগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

খামেনি ইতিহাসের উদাহরণ টেনে সতর্ক করেন যে, ক্ষমতার শীর্ষে থাকা উদ্ধত শাসকরাই শেষ পর্যন্ত পতিত হয়। তিনি ফেরাউন, নমরুদ এবং ইরানের সাবেক শাসক রেজা শাহ ও মোহাম্মদ রেজা শাহের নাম উল্লেখ করেন। ইঙ্গিত দেন, ট্রাম্পও একই পরিণতির মুখোমুখি হতে পারেন। ‘এই ব্যক্তিও উৎখাত হবে,’ তিনি বলেন।

প্রসঙ্গত, অর্থনৈতিক চাপ ও রাজনৈতিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে ইরানে অস্থিরতা বেড়েছে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানের স্বঘোষিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভির সঙ্গে তার বৈঠক করা উপযুক্ত হবে না—যা থেকে বোঝা যায়, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের বিকল্প হিসেবে কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিতে ওয়াশিংটন অনিচ্ছুক। যদিও ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংস দমন-পীড়ন থেকে তেহরানকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, তবে কোনো নির্দিষ্ট বিরোধী নেতাকে তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন দেননি।