ঢাকা ০৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

অভ্যুত্থানের ১ বছর ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও দেশে আসছেন না, ফিরলে কোনো সমস্যা হওয়ার সুযোগ নেই

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৩৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৬৬ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে বলেছেন, অভ্যুত্থানের ১ বছর ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও অজানা কারণে তিনি দেশে আসছেন না; কিন্তু আমরা মনে করি তিনি দেশে ফিরলে তার জন্য কোনো সমস্যা হওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, এনসিপি মনে করে- অন্যান্য সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে সুন্দর প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন হবে। তারা নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করবেন না। কেউ যদি কোনো অপ্রত্যাশিত কাজ বা ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করে, তাহলে কোনো ফ্যাসিস্টবিরোধী রাজনৈতিক দল সেই সুযোগ দেবে না বলে তিনি মনে করেন।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বিকালে ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সারজিস আলম এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের জন্য নির্বাচন পিছিয়ে যাক, তা তারা চান না। বরং একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক—এই প্রত্যাশা তাদের।

এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষিত আগামী নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে কোনো দ্বিমত বা সন্দেহ নেই বলে জানান। তিনি বলেন, প্রতিটি ভোট সেন্টারে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য আমাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

সারজিস আলম মনে করেন, আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রতিযোগিতার যে চিরাচরিত ‘সরল সমীকরণ’ এতদিন ছিল, এবার তা থাকবে না। তিনি বলেন, ‘বরং এটাই হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি যে, দ্বিতীয় শক্তিশালী রাজনৈতিক দল নির্ধারণ করবে প্রথম দুটি দলের মধ্যে কোন দল আগামী নির্বাচনে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবে।’

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সংস্কারের পক্ষে থাকা দলগুলোকে নিয়ে তারা ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ গঠন করেছেন। এই জোটের মাধ্যমে একাধিক রাজনৈতিক দল মিলে একটি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মাঠের পরিস্থিতি বদলে গেছে দাবি করে সারজিস আলম বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণ এখন জুলুম ও অপকর্মকারীদের বয়কট করছে। যারা মানুষের পাশে থাকছে এবং সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে, জনগণের আগ্রহ তাদের প্রতি বাড়ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এনসিপি একটি মধ্যমপন্থি রাজনৈতিক দল হিসেবে সেই জায়গাটা নিতে চায়।

নির্বাচন নিয়ে সারজিস বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল যদি তাদের আদর্শ সব মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে মানুষ তা থেকেও বিমুখ হবে।

তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশে সংস্কারের পক্ষে, যেকোনো পরশক্তি ও আধিপত্যবাদের বিপক্ষে আমরা একটি রাজনৈতিক দল দাঁড় করাব। আমরা জনগণের প্রতিনিধি হয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।

মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে নীতির জায়গায় না থাকলে সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার ভয় রয়েছে বলে সারজিস আলম মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে এটার দুর্বলতা রয়েছে। এখনো কিছু কিছু রাজনৈতিক দল তাদের পূর্বের মানসিকতা ছাড়তে পারেনি। তারা মনে করে সময় হলেই ক্ষমতায় গেলে তাদের পেশিশক্তি প্রয়োগ করবে, কালো টাকার খেলা দেখাবে এবং প্রশাসনকে তাদের নিজেদের মতো করে ব্যবহার করবে; যা মোটেই কাম্য নয়।

পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। অনেক জায়গায় পুলিশের কিছু সদস্য এখনো টাকা লেনদেনের সঙ্গে জড়িত অভিযোগ করে তিনি বলেন, টাকার কারণে তারা অনেক অপরাধীকে ছেড়ে দেন এবং নিরপরাধকে অপরাধী সাব্যস্ত করেন। আমরা এই জায়গা সংস্কারে সুস্পষ্ট অভিযোগ জানিয়েছি।

তিনি হুঁশিয়ারি দেন- ওসি, এসপি, ডিআইজি বা যত বড়ই কর্মকর্তা হোক না কেন, কেউ যদি দলীয় নেতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন, এনসিপি তার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম, ঠাকুরগাঁও জেলা এনসিপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম, সদস্য সচিব খলিলুর রহমানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

অভ্যুত্থানের ১ বছর ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও দেশে আসছেন না, ফিরলে কোনো সমস্যা হওয়ার সুযোগ নেই

আপডেট সময় ০১:৩৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে বলেছেন, অভ্যুত্থানের ১ বছর ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও অজানা কারণে তিনি দেশে আসছেন না; কিন্তু আমরা মনে করি তিনি দেশে ফিরলে তার জন্য কোনো সমস্যা হওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, এনসিপি মনে করে- অন্যান্য সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে সুন্দর প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন হবে। তারা নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করবেন না। কেউ যদি কোনো অপ্রত্যাশিত কাজ বা ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করে, তাহলে কোনো ফ্যাসিস্টবিরোধী রাজনৈতিক দল সেই সুযোগ দেবে না বলে তিনি মনে করেন।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বিকালে ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সারজিস আলম এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের জন্য নির্বাচন পিছিয়ে যাক, তা তারা চান না। বরং একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক—এই প্রত্যাশা তাদের।

এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষিত আগামী নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে কোনো দ্বিমত বা সন্দেহ নেই বলে জানান। তিনি বলেন, প্রতিটি ভোট সেন্টারে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য আমাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

সারজিস আলম মনে করেন, আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রতিযোগিতার যে চিরাচরিত ‘সরল সমীকরণ’ এতদিন ছিল, এবার তা থাকবে না। তিনি বলেন, ‘বরং এটাই হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি যে, দ্বিতীয় শক্তিশালী রাজনৈতিক দল নির্ধারণ করবে প্রথম দুটি দলের মধ্যে কোন দল আগামী নির্বাচনে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবে।’

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সংস্কারের পক্ষে থাকা দলগুলোকে নিয়ে তারা ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ গঠন করেছেন। এই জোটের মাধ্যমে একাধিক রাজনৈতিক দল মিলে একটি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মাঠের পরিস্থিতি বদলে গেছে দাবি করে সারজিস আলম বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণ এখন জুলুম ও অপকর্মকারীদের বয়কট করছে। যারা মানুষের পাশে থাকছে এবং সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে, জনগণের আগ্রহ তাদের প্রতি বাড়ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এনসিপি একটি মধ্যমপন্থি রাজনৈতিক দল হিসেবে সেই জায়গাটা নিতে চায়।

নির্বাচন নিয়ে সারজিস বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল যদি তাদের আদর্শ সব মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে মানুষ তা থেকেও বিমুখ হবে।

তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশে সংস্কারের পক্ষে, যেকোনো পরশক্তি ও আধিপত্যবাদের বিপক্ষে আমরা একটি রাজনৈতিক দল দাঁড় করাব। আমরা জনগণের প্রতিনিধি হয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।

মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে নীতির জায়গায় না থাকলে সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার ভয় রয়েছে বলে সারজিস আলম মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে এটার দুর্বলতা রয়েছে। এখনো কিছু কিছু রাজনৈতিক দল তাদের পূর্বের মানসিকতা ছাড়তে পারেনি। তারা মনে করে সময় হলেই ক্ষমতায় গেলে তাদের পেশিশক্তি প্রয়োগ করবে, কালো টাকার খেলা দেখাবে এবং প্রশাসনকে তাদের নিজেদের মতো করে ব্যবহার করবে; যা মোটেই কাম্য নয়।

পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। অনেক জায়গায় পুলিশের কিছু সদস্য এখনো টাকা লেনদেনের সঙ্গে জড়িত অভিযোগ করে তিনি বলেন, টাকার কারণে তারা অনেক অপরাধীকে ছেড়ে দেন এবং নিরপরাধকে অপরাধী সাব্যস্ত করেন। আমরা এই জায়গা সংস্কারে সুস্পষ্ট অভিযোগ জানিয়েছি।

তিনি হুঁশিয়ারি দেন- ওসি, এসপি, ডিআইজি বা যত বড়ই কর্মকর্তা হোক না কেন, কেউ যদি দলীয় নেতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন, এনসিপি তার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম, ঠাকুরগাঁও জেলা এনসিপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম, সদস্য সচিব খলিলুর রহমানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।