ঢাকা ০৯:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

‘আ.লীগ যে কৌশলে জামায়াতকে শেষ করতে পারে নাই, বিএনপি সেটাকে বড় অস্ত্র ভাবছে’: ড. মির্জা গালিব

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:০৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৬২ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:
যেই স্ট্র্যাটেজি দিয়ে আওয়ামী লীগ জামায়াতকে শেষ করতে পারে নাই, বিএনপি এখন অলআউট সেই ফেইল্ড স্ট্র্যাটেজিকেই নিজের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ভাবতেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা গালিব বলেন, রাজনীতিতে ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থের বাইরে উঠে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে সব জাতি ইতিহাসে বিশেষ সময়ে এ বিশালতা দেখাতে পেরেছে, তারা সময়ের চাইতে এগিয়ে যেতে পারছে। দুই দুইটা বিশ্বযুদ্ধের পরেও ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো এক সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চিন্তা করতে পেরেছে। নর্থ-সাউথের মধ্যে সিভিল ওয়ারের পরও আমেরিকা নিজেদের ফেডারেল রাষ্ট্রকাঠামো ধরে রাখতে পেরেছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরে আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, আওয়ামী লীগের ফ্যাসিজমকে সরিয়ে একটি দ্বি-দলীয় রাজনৈতিক সিস্টেম তৈরি করা। যে সিস্টেম পারস্পরিক সম্মান এবং মর্যাদার ভিত্তিতে এক সঙ্গে দেশের জন্য কাজ করবে। বিভিন্ন ভুল, ত্রুটি, সীমাবদ্ধতা থাকবে, কিন্তু আওয়ামী লীগ ভার্সেস বিএনপি/জামায়াতের যে রকম দা-কুমড়ো সম্পর্ক ছিল, বিএনপি ভার্সেস জামায়াতের মধ্যে সে রকম বাজে সম্পর্ক যেন আর না হয়।

গালিব বলেন, কিন্তু দুঃখজনক হলো— বিএনপি আর জামায়াত দুটো দলই একটু একটু করে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কের দিকে এগোচ্ছে। এ কাজে শুধু দুই দলের আবেগী সমর্থকরাই নয়, বরং বড় বড় নেতারাও ফিউয়েল যোগাচ্ছেন। শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারাও ছাত্র রাজনীতির বাউন্ডারি ভুলে গিয়ে তারেক রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করতেছেন। একজন জাতীয় নেতার বক্তব্যের কাউন্টার দেওয়া একটা ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের জুরিসডিকশনের মধ্যে পড়ে কিনা—সেই আলোচনা নাই কোথাও। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারাও একেবারে ব্যক্তি পর্যায়ে তারেক রহমানকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিচ্ছেন। বিএনপির সকল পর্যায় থেকেও জামায়াতকে আওয়ামী লীগের ভাষায় মুক্তিযুদ্ধ আর ৭১ নিয়ে আক্রমণ করা হচ্ছে। সেই একই লাইনে যোগ দিলেন তারেক রহমান নিজেও। যে স্ট্র্যাটেজি দিয়ে আওয়ামী লীগ জামায়াতকে শেষ করতে পারে নাই, বিএনপি এখন অলআউট সেই ফেইল্ড স্ট্র্যাটেজিকেই নিজের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ভাবতেছে।

গালিব আরও বলেন, বাংলাদেশে এখন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট চলছে। ইউরোপের অনেক দেশ যেখানে জনসংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে সমস্যায় আছে, আমাদের সেখানে বরং তারুণ্যের মেলা চলছে। এ কর্মক্ষম জনসম্পদকে মোটামুটি ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারলে, আগামী এক-দুই দশকের মধ্যে আমরা সত্যি সত্যি উন্নত দেশ হয়ে যেতে পারব। এটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত। এ লক্ষ্য অর্জন করতে হলে আমাদের একটা সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ লাগবে, দুইটা বড় সিভিল দল দরকার।

পোস্টের শেষে তিনি বলেন, প্রিয় বিএনপি এবং জামায়াত নেতৃবৃন্দ—আমাদের পোস্ট হাসিনা গণতন্ত্রে আমরা আপনাদের একজনের সাথে আরেকজনের সুস্থ প্রতিযোগিতা দেখতে চাই, ঘৃণা আর শত্রুতা নয়। দয়া করে শুধু এই একটা নির্বাচনে কীভাবে জিততে হবে—এটা নিয়ে না ভেবে দেশটা আগামী দশ বছর পর কোথায় যাবে—চোখটা সেখানেও একটু রাখেন প্লিজ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

‘আ.লীগ যে কৌশলে জামায়াতকে শেষ করতে পারে নাই, বিএনপি সেটাকে বড় অস্ত্র ভাবছে’: ড. মির্জা গালিব

আপডেট সময় ০৩:০৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

নিউজ ডেস্ক:
যেই স্ট্র্যাটেজি দিয়ে আওয়ামী লীগ জামায়াতকে শেষ করতে পারে নাই, বিএনপি এখন অলআউট সেই ফেইল্ড স্ট্র্যাটেজিকেই নিজের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ভাবতেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা গালিব বলেন, রাজনীতিতে ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থের বাইরে উঠে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে সব জাতি ইতিহাসে বিশেষ সময়ে এ বিশালতা দেখাতে পেরেছে, তারা সময়ের চাইতে এগিয়ে যেতে পারছে। দুই দুইটা বিশ্বযুদ্ধের পরেও ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো এক সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চিন্তা করতে পেরেছে। নর্থ-সাউথের মধ্যে সিভিল ওয়ারের পরও আমেরিকা নিজেদের ফেডারেল রাষ্ট্রকাঠামো ধরে রাখতে পেরেছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরে আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, আওয়ামী লীগের ফ্যাসিজমকে সরিয়ে একটি দ্বি-দলীয় রাজনৈতিক সিস্টেম তৈরি করা। যে সিস্টেম পারস্পরিক সম্মান এবং মর্যাদার ভিত্তিতে এক সঙ্গে দেশের জন্য কাজ করবে। বিভিন্ন ভুল, ত্রুটি, সীমাবদ্ধতা থাকবে, কিন্তু আওয়ামী লীগ ভার্সেস বিএনপি/জামায়াতের যে রকম দা-কুমড়ো সম্পর্ক ছিল, বিএনপি ভার্সেস জামায়াতের মধ্যে সে রকম বাজে সম্পর্ক যেন আর না হয়।

গালিব বলেন, কিন্তু দুঃখজনক হলো— বিএনপি আর জামায়াত দুটো দলই একটু একটু করে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কের দিকে এগোচ্ছে। এ কাজে শুধু দুই দলের আবেগী সমর্থকরাই নয়, বরং বড় বড় নেতারাও ফিউয়েল যোগাচ্ছেন। শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারাও ছাত্র রাজনীতির বাউন্ডারি ভুলে গিয়ে তারেক রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করতেছেন। একজন জাতীয় নেতার বক্তব্যের কাউন্টার দেওয়া একটা ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের জুরিসডিকশনের মধ্যে পড়ে কিনা—সেই আলোচনা নাই কোথাও। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারাও একেবারে ব্যক্তি পর্যায়ে তারেক রহমানকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিচ্ছেন। বিএনপির সকল পর্যায় থেকেও জামায়াতকে আওয়ামী লীগের ভাষায় মুক্তিযুদ্ধ আর ৭১ নিয়ে আক্রমণ করা হচ্ছে। সেই একই লাইনে যোগ দিলেন তারেক রহমান নিজেও। যে স্ট্র্যাটেজি দিয়ে আওয়ামী লীগ জামায়াতকে শেষ করতে পারে নাই, বিএনপি এখন অলআউট সেই ফেইল্ড স্ট্র্যাটেজিকেই নিজের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ভাবতেছে।

গালিব আরও বলেন, বাংলাদেশে এখন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট চলছে। ইউরোপের অনেক দেশ যেখানে জনসংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে সমস্যায় আছে, আমাদের সেখানে বরং তারুণ্যের মেলা চলছে। এ কর্মক্ষম জনসম্পদকে মোটামুটি ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারলে, আগামী এক-দুই দশকের মধ্যে আমরা সত্যি সত্যি উন্নত দেশ হয়ে যেতে পারব। এটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত। এ লক্ষ্য অর্জন করতে হলে আমাদের একটা সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ লাগবে, দুইটা বড় সিভিল দল দরকার।

পোস্টের শেষে তিনি বলেন, প্রিয় বিএনপি এবং জামায়াত নেতৃবৃন্দ—আমাদের পোস্ট হাসিনা গণতন্ত্রে আমরা আপনাদের একজনের সাথে আরেকজনের সুস্থ প্রতিযোগিতা দেখতে চাই, ঘৃণা আর শত্রুতা নয়। দয়া করে শুধু এই একটা নির্বাচনে কীভাবে জিততে হবে—এটা নিয়ে না ভেবে দেশটা আগামী দশ বছর পর কোথায় যাবে—চোখটা সেখানেও একটু রাখেন প্লিজ।