ঢাকা ১১:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

ইসলামী ব্যাংকের ঋণখেলাপের অভিযোগ মান্নাকে অর্থ শোধে চূড়ান্ত নোটিশ, আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬৩ বার পড়া হয়েছে

নাগরিক ঐক্যর সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার বিরুদ্ধে ৩৮ কোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপের অভিযোগ করেছে ইসলামী ব্যাংক বগুড়া বড়গোলা শাখা। শীবগঞ্জ উপজেলার কিচক এলাকার আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নেওয়া এই ঋণ পরিশোধে তার বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে ‘কল ব্যাক নোটিশ’। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মান্না এবং তার অংশীদার শীবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি এ বি এম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরী। এর মধ্যে শাজাহান চৌধুরী জুলাই গণহত্যার ৯ মামলার পলাতক আসামি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩ ডিসেম্বর ব্যাংকের শাখা প্রধানের সই করা এক নোটিশে আফাকু কোল্ড স্টোরেজের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান মান্না এবং তার অংশীদার শাজাহান চৌধুরীকে চূড়ান্ত সতর্কতা দেওয়া হয়। নয়তো তাদের বিরুদ্ধে ব্যাংক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ব্যাংকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আফাকু কোল্ড স্টোরেজের নামে ২০১০ সালে ২২ কোটি টাকার বিনিয়োগ অনুমোদন করা হলেও, মুনাফা, চার্জ ও জরিমানা পরিশোধ না করায় বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও মান্না ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ করেননি। এ ব্যাপারে বারবার নোটিশ করা হলেও টাকা পরিশোধের কোন চেষ্টা করেননি মান্না। ফলে তিনি ঋণখেলাপী হয়েছেন। ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণের অর্থ পরিশোধ করা না হলে ব্যাংক আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। ব্যাংকের শাখা প্রধান তৌহিদ রেজাও একই কথা জানিয়েছেন।

এদিকে আগামী সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে এরই মধ্যে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না। কিন্তু গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এর ১৬ (ঠ) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ঋণগ্রহীতা ঋণখেলাপী হলে তিনি নির্বাচনে অযোগ্য বিবেচিত হবেন। সে ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ঋণখেলাপী অবস্থায় মান্না আগামী নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতায় পড়তে পারেন বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

এ বিষয়ে জানতে আত্মগোপনে থাকা কোল্ড স্টোরজের এমডি আওয়ামী লীগ নেতা শাজাহান চৌধুরীর ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে আফাকু কোল্ড স্টোরেজের চেয়ারম্যান মাহামুদুর রহমান মান্না বলেন, গত এক বছরে ২ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করেছি। আরও কিছু পরিশাধ করে রিসিডিউল করে নেবো। আমি ঋণখেলাপী নই। আমাকে নির্বাচনে দাঁড়াতে বাধাগ্রস্থ করতে একটি মহল ব্যাংকের মাধ্যমে প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।

আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে ব্যবসা করা প্রসঙ্গে মান্না বলেন, ‘আমার এমডি আওয়ামী লীগ করে, সেটা ঠিক আছে। কারণ কোম্পানিটা হয়েছে ১৭ বছর আগে। তখন তো আমিও আওয়ামী লীগ করতাম। এ কথা তো সঠিক যে গত ১০ বছরে এই প্রতিষ্ঠানের কাছে আমি যেতেই পারিনি। কারণ ওই ছেলে সব নিয়ন্ত্রণ করতো। আমাকে সাপোর্ট দেয়নি কিন্তু টাকাপয়সা নিয়ে সব আমেরিকা পাঠিয়ে দিয়েছে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

ইসলামী ব্যাংকের ঋণখেলাপের অভিযোগ মান্নাকে অর্থ শোধে চূড়ান্ত নোটিশ, আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় ১২:১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

নাগরিক ঐক্যর সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার বিরুদ্ধে ৩৮ কোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপের অভিযোগ করেছে ইসলামী ব্যাংক বগুড়া বড়গোলা শাখা। শীবগঞ্জ উপজেলার কিচক এলাকার আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নেওয়া এই ঋণ পরিশোধে তার বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে ‘কল ব্যাক নোটিশ’। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মান্না এবং তার অংশীদার শীবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি এ বি এম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরী। এর মধ্যে শাজাহান চৌধুরী জুলাই গণহত্যার ৯ মামলার পলাতক আসামি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩ ডিসেম্বর ব্যাংকের শাখা প্রধানের সই করা এক নোটিশে আফাকু কোল্ড স্টোরেজের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান মান্না এবং তার অংশীদার শাজাহান চৌধুরীকে চূড়ান্ত সতর্কতা দেওয়া হয়। নয়তো তাদের বিরুদ্ধে ব্যাংক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ব্যাংকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আফাকু কোল্ড স্টোরেজের নামে ২০১০ সালে ২২ কোটি টাকার বিনিয়োগ অনুমোদন করা হলেও, মুনাফা, চার্জ ও জরিমানা পরিশোধ না করায় বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও মান্না ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ করেননি। এ ব্যাপারে বারবার নোটিশ করা হলেও টাকা পরিশোধের কোন চেষ্টা করেননি মান্না। ফলে তিনি ঋণখেলাপী হয়েছেন। ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণের অর্থ পরিশোধ করা না হলে ব্যাংক আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। ব্যাংকের শাখা প্রধান তৌহিদ রেজাও একই কথা জানিয়েছেন।

এদিকে আগামী সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে এরই মধ্যে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না। কিন্তু গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এর ১৬ (ঠ) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ঋণগ্রহীতা ঋণখেলাপী হলে তিনি নির্বাচনে অযোগ্য বিবেচিত হবেন। সে ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ঋণখেলাপী অবস্থায় মান্না আগামী নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতায় পড়তে পারেন বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

এ বিষয়ে জানতে আত্মগোপনে থাকা কোল্ড স্টোরজের এমডি আওয়ামী লীগ নেতা শাজাহান চৌধুরীর ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে আফাকু কোল্ড স্টোরেজের চেয়ারম্যান মাহামুদুর রহমান মান্না বলেন, গত এক বছরে ২ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করেছি। আরও কিছু পরিশাধ করে রিসিডিউল করে নেবো। আমি ঋণখেলাপী নই। আমাকে নির্বাচনে দাঁড়াতে বাধাগ্রস্থ করতে একটি মহল ব্যাংকের মাধ্যমে প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।

আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে ব্যবসা করা প্রসঙ্গে মান্না বলেন, ‘আমার এমডি আওয়ামী লীগ করে, সেটা ঠিক আছে। কারণ কোম্পানিটা হয়েছে ১৭ বছর আগে। তখন তো আমিও আওয়ামী লীগ করতাম। এ কথা তো সঠিক যে গত ১০ বছরে এই প্রতিষ্ঠানের কাছে আমি যেতেই পারিনি। কারণ ওই ছেলে সব নিয়ন্ত্রণ করতো। আমাকে সাপোর্ট দেয়নি কিন্তু টাকাপয়সা নিয়ে সব আমেরিকা পাঠিয়ে দিয়েছে।’