ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ দিয়ে দিনে ১৫টির বেশি জাহাজ নয়, যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত ইরানের

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:৪৩:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ চলাচল করতে পারবে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা তাস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবনার একটি শর্ত হিসেবে এ সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালির একপাশে ইরান এবং অন্যপাশে ওমান অবস্থিত। বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মোট সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ চলাচল করলেও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর ইরান এই প্রণালিতে অবরোধ জারি করে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে সংকট তৈরি হয়, যার প্রভাব এখনো অব্যাহত রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি শুধু জ্বালানি তেল নয়, সার, পেট্রোকেমিক্যালসহ বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ রুট। সংঘাতের কারণে এসব পণ্যের বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসবেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা এবং ইরানের ১০ দফা শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

তাস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে ইরান জানিয়েছে, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ চলাচল করতে পারবে এবং সেগুলোর চলাচল ইরানের অনুমোদন ও নির্দিষ্ট প্রোটোকলের আওতায় নিয়ন্ত্রিত হবে।

এ ছাড়া জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ করবে ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। উপসাগরীয় অন্যান্য দেশকেও এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাস-কে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখন থেকে কঠোরভাবে ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে এবং নির্দিষ্ট প্রোটোকল অনুসরণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

সূত্র: তাস

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনায় আশাবাদী হোয়াইট হাউস

হরমুজ দিয়ে দিনে ১৫টির বেশি জাহাজ নয়, যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত ইরানের

আপডেট সময় ০৪:৪৩:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ চলাচল করতে পারবে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা তাস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবনার একটি শর্ত হিসেবে এ সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালির একপাশে ইরান এবং অন্যপাশে ওমান অবস্থিত। বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মোট সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ চলাচল করলেও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর ইরান এই প্রণালিতে অবরোধ জারি করে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে সংকট তৈরি হয়, যার প্রভাব এখনো অব্যাহত রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি শুধু জ্বালানি তেল নয়, সার, পেট্রোকেমিক্যালসহ বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ রুট। সংঘাতের কারণে এসব পণ্যের বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসবেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা এবং ইরানের ১০ দফা শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

তাস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে ইরান জানিয়েছে, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ চলাচল করতে পারবে এবং সেগুলোর চলাচল ইরানের অনুমোদন ও নির্দিষ্ট প্রোটোকলের আওতায় নিয়ন্ত্রিত হবে।

এ ছাড়া জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ করবে ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। উপসাগরীয় অন্যান্য দেশকেও এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাস-কে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখন থেকে কঠোরভাবে ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে এবং নির্দিষ্ট প্রোটোকল অনুসরণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

সূত্র: তাস


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481