ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ট্রাম্পকে ‘পাগল’ আখ্যা দিয়ে বিশ্বনেতাদের সতর্ক করলেন আইএইএ-র সাবেক প্রধান আলবারাদি Logo বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদে সই না করার ব্যাখ্যাটা তাদেরকেই দিতে হবে: রুমিন ফারহানা Logo আগামী দিনে দ্রব্যমূল্য বাড়বে, এ ব্যপারে কোনো সন্দেহ নেই: অর্থমন্ত্রী Logo কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের Logo ক্রুকে উদ্ধার করলেও ইরান থেকে বের হতে পারেননি মার্কিন সেনারা Logo পাইলটকে খুঁজে পেলেও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনারা, উভয়পক্ষে সংঘর্ষ চলছে Logo নববর্ষের শোভাযাত্রা এবার থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে পরিচিত হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী Logo বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বাড়লেও বাংলাদেশে এখনো বৃদ্ধি পায়নি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo ক্ষমতায় গিয়ে তারা ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে: গোলাম পরওয়ার Logo ট্রাম্পের ‘নরক’ মন্তব্যের পাল্টা জবাব পুরো অঞ্চল মার্কিনিদের জন্য দোজখে পরিণত হবে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানে স্থল অভিযানে নামবে ‘না’ ইসরায়েল!

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:২৯:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তুত করছে মার্কিনীরা—এমন খবরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অভিযানে ইসরায়েল সরাসরি অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনমনে কিছু সমালোচনা থাকলেও কৌশলগত বাস্তবতাই এর পেছনে প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শনিবার রাতে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর সীমিত পরিসরের স্থল অভিযানের পরিকল্পনা তৈরি করছে। এতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ নয় বরং কয়েক সপ্তাহ বা মাসজুড়ে কয়েক হাজার সেনা মোতায়েনের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এসব পরিকল্পনায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত আঘাত’ হানার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী বা পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলো দখলের পরিকল্পনাও রয়েছে। সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের নামও উঠে এসেছে।

এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় খারগ দ্বীপে প্রতিরক্ষা জোরদার করছে ইরান।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি ইঙ্গিত দেন যে, শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্যে স্থল অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

তবুও সাম্প্রতিক কোনো প্রতিবেদনে ইসরায়েলের সরাসরি অংশগ্রহণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এতে যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনা তৈরি হয়েছে—বিশেষ করে এমন ধারণা থেকে যে, এই যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের ঝুঁকি বাড়ছে, অথচ এটি মূলত ইসরায়েলের স্বার্থেই পরিচালিত হচ্ছে।

এ পর্যন্ত সংঘাতে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ভূখণ্ড দখল ও ধরে রাখার চেষ্টা করলে ঝুঁকি আরও বহুগুণ বাড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রে জনসমর্থনও সীমিত। কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন। অনেকের মতে, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইসরায়েলের বেশি স্বার্থ রক্ষা করছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলকে ‘অনুপস্থিত’ মনে হলেও বাস্তবে যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্য ফোরামের নির্বাহী পরিচালক গ্রেগ রোমান বলেন, যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনে ইসরায়েলের হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করে দেয় এবং সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য পরিস্থিতি তৈরি করে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের দ্বীপগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্যও দিয়েছে ইসরায়েল।

তবে সরাসরি স্থল যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম। জিউইশ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি অব আমেরিকার নীতিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্লেইজ মিসজটাল বলেন, ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও এবার ইসরায়েল স্থল যুদ্ধে অংশ নেবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

এর পেছনে কূটনৈতিক নয় বরং সামরিক বাস্তবতা বড় কারণ। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হুমকির কারণে ইসরায়েলকে নিজ সীমান্তেই বড় অংশের সেনা মোতায়েন রাখতে হচ্ছে।

বিশেষ করে লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর উপস্থিতি বড় উদ্বেগের কারণ। বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একাধিক ডিভিশন মোতায়েন রয়েছে। একই সঙ্গে গাজা ও পশ্চিম তীরেও তাদের অভিযান চলছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল পুরোপুরি বাইরে থাকবে—এমনও নয়। গোপনে বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে ইরানের ভেতরে সীমিত অভিযান চালানো হতে পারে।

গ্রেগ রোমানের ভাষায়, ‘ইরানের মাটিতে একজনও ইসরায়েলি সদস্য না থাকা কৌশলগত ভুল হবে।’ তিনি ইঙ্গিত দেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন গোপন কার্যক্রমে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইসরায়েলের অনাগ্রহ নয় বরং যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন অভিযানে কৌশলগত দায়িত্ব বণ্টনেরই অংশ।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পকে ‘পাগল’ আখ্যা দিয়ে বিশ্বনেতাদের সতর্ক করলেন আইএইএ-র সাবেক প্রধান আলবারাদি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানে স্থল অভিযানে নামবে ‘না’ ইসরায়েল!

আপডেট সময় ১০:২৯:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তুত করছে মার্কিনীরা—এমন খবরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অভিযানে ইসরায়েল সরাসরি অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনমনে কিছু সমালোচনা থাকলেও কৌশলগত বাস্তবতাই এর পেছনে প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শনিবার রাতে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর সীমিত পরিসরের স্থল অভিযানের পরিকল্পনা তৈরি করছে। এতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ নয় বরং কয়েক সপ্তাহ বা মাসজুড়ে কয়েক হাজার সেনা মোতায়েনের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এসব পরিকল্পনায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত আঘাত’ হানার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী বা পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলো দখলের পরিকল্পনাও রয়েছে। সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের নামও উঠে এসেছে।

এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় খারগ দ্বীপে প্রতিরক্ষা জোরদার করছে ইরান।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি ইঙ্গিত দেন যে, শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্যে স্থল অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

তবুও সাম্প্রতিক কোনো প্রতিবেদনে ইসরায়েলের সরাসরি অংশগ্রহণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এতে যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনা তৈরি হয়েছে—বিশেষ করে এমন ধারণা থেকে যে, এই যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের ঝুঁকি বাড়ছে, অথচ এটি মূলত ইসরায়েলের স্বার্থেই পরিচালিত হচ্ছে।

এ পর্যন্ত সংঘাতে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ভূখণ্ড দখল ও ধরে রাখার চেষ্টা করলে ঝুঁকি আরও বহুগুণ বাড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রে জনসমর্থনও সীমিত। কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন। অনেকের মতে, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইসরায়েলের বেশি স্বার্থ রক্ষা করছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলকে ‘অনুপস্থিত’ মনে হলেও বাস্তবে যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্য ফোরামের নির্বাহী পরিচালক গ্রেগ রোমান বলেন, যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনে ইসরায়েলের হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করে দেয় এবং সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য পরিস্থিতি তৈরি করে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের দ্বীপগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্যও দিয়েছে ইসরায়েল।

তবে সরাসরি স্থল যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম। জিউইশ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি অব আমেরিকার নীতিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্লেইজ মিসজটাল বলেন, ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও এবার ইসরায়েল স্থল যুদ্ধে অংশ নেবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

এর পেছনে কূটনৈতিক নয় বরং সামরিক বাস্তবতা বড় কারণ। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হুমকির কারণে ইসরায়েলকে নিজ সীমান্তেই বড় অংশের সেনা মোতায়েন রাখতে হচ্ছে।

বিশেষ করে লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর উপস্থিতি বড় উদ্বেগের কারণ। বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একাধিক ডিভিশন মোতায়েন রয়েছে। একই সঙ্গে গাজা ও পশ্চিম তীরেও তাদের অভিযান চলছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল পুরোপুরি বাইরে থাকবে—এমনও নয়। গোপনে বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে ইরানের ভেতরে সীমিত অভিযান চালানো হতে পারে।

গ্রেগ রোমানের ভাষায়, ‘ইরানের মাটিতে একজনও ইসরায়েলি সদস্য না থাকা কৌশলগত ভুল হবে।’ তিনি ইঙ্গিত দেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন গোপন কার্যক্রমে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইসরায়েলের অনাগ্রহ নয় বরং যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন অভিযানে কৌশলগত দায়িত্ব বণ্টনেরই অংশ।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481