ঢাকা ০৩:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ইরান যুদ্ধে নতুন করে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র Logo দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঈদের নামাজ পড়বেন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী Logo হরমুজ প্রণালি সচল করতে এবার নামছে ইউরোপ ও জাপান Logo নৌযান-জেটি না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে মাঝ নদীতে লঞ্চে উঠছে যাত্রীরা Logo ইরান যুদ্ধ শক্তিশালী করেছে নেতানিয়াহুকে, ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাম্প ও উপসাগরীয় দেশগুলো Logo সাবেক কাউন্সিলর ও আ. লীগ নেতা হাসু গ্রেপ্তার Logo যুদ্ধের আবহে ১৭৮ মার্কিন-ইসরায়েলি গুপ্তচর গ্রেফতারের দাবি ইরানের Logo বাবাকে জন্নতে পাঠাতে মসজিদেই গলা টিপে মারার চেষ্টা ছেলের Logo যুক্তরাষ্ট্রে হামলার ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে পাকিস্তান: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা Logo ভুল ধরিয়ে দিন, বিরোধী দলকে পানিসম্পদমন্ত্রী

নৌযান-জেটি না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে মাঝ নদীতে লঞ্চে উঠছে যাত্রীরা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৩২:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে সরাসরি যাত্রীবাহী লঞ্চে যাত্রীদের উঠার জন্য কোন নৌযান ও জেটি না থাকায় বারবার লঞ্চ চাপায় যাত্রী হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া ছোট নৌকায় করে লঞ্চে উঠার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নৌপুলিশ ও কোস্ট গার্ড ওই দায়িত্ব পালন করছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঢাকা নদী বন্দর ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্টদের দাবি, ছোট ট্রলার দিয়ে লঞ্চে যাত্রী উঠার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ড যথাযথ দায়িত্ব পালন না করায় বারবার লঞ্চ চাপায় প্রাণহানি ঘটছে। একাধিক যাত্রী বলেন, ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী লঞ্চে ভ্রমণ করে থাকে। বিপুল সংখ্যক যাত্রীর লঞ্চে উঠার জন্য কোন সুবন্দোবস্ত (জেটি ও ছোট লঞ্চ) রাখা হয়নি। তাই সহজে তারা লঞ্চে ওঠার জন্য ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার ব্যবহার করছে।

এভাবে লঞ্চে উঠতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ১০ বছরে অন্তত হাজারোও যাত্রী দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে বা নিখোঁজ হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনার দুইজনের মৃত্যু ও অন্তত ৩ জন নিখোঁজের পর থেকে অবৈধ ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাই অবিলম্বে কেরানীগঞ্জ থেকে সদর ঘাটে লঞ্চে যাত্রী পরিবহনের জন্য সরাসরি বিআইডব্লিউটিএ’কে জেটি স্থাপন ও ছোট লঞ্চের দাবি জানান যাত্রীরা। এদিকে লঞ্চ দুর্ঘটনার পরপরই বারবার নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) তদন্ত কমিটি গঠন করে, তবে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা সুপারিশ আলোর মুখ দেখেনা। ‌নেওয়া হয় না কোন ব্যবস্থাও।

বুধবারের দূর্ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএ গঠিত তদন্ত কমিটির একাধিক সদস্য ও সদরঘাট নৌথানার ওসি সোহাগ রানাসহ কোন কর্মকর্তা যুগান্তরকে এসব বিষয়ে মন্তব্য দিতে রাজি হননি। আশরাফুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমানসহ একাধিক যাত্রী জানান, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর, তেলঘাট, শুভাঢ্যা, জিনজিরা সহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ী শ্রমিক সহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের একটি বড় অংশ দক্ষিণ অঞ্চলসহ বিভিন্ন রুটের লঞ্চে যাতায়াত করে। লঞ্চে উঠার জন্য শুধুমাত্র সদরঘাট দিয়ে টার্মিনাল থাকায় এসব যাত্রীদেরকে বাবুবাজার ব্রিজ হয়ে ঘুরা পথে লঞ্চে উঠতে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। দীর্ঘদিন থেকে বিএডব্লিউটিএর কাছে সদরঘাট থেকে আগানগর, তেলঘাট পারাপারের জন্য বিআইডব্লিউটিএর যাত্রীবাহী লঞ্চ সেবা মাঝখানে কিছুদিন চালু রাখার পর কয়েক বছর আগে তা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে লাখ লাখ যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকা ও ট্রলার দিয়ে লঞ্চে উঠছে।

আওলাদ শিপিং লাইন্সের পরিচালক যুবরাজ হোসাইন বলেন, কিছু অসাধু ট্রলার ব্যবসায়ী আইনি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রীদের লঞ্চে ওঠানামা করাচ্ছে। যাত্রীরাও সহজে লঞ্চে উঠার জন্য ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার ব্যবহার করছে। এই অবৈধ কার্যক্রমের কারণেই সাধারণ যাত্রীরা বারবার দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। তাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত এসব অনিয়ন্ত্রিত ট্রলারের কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর আহ্বান জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক (নৌনিট্রা) মোবারক হোসেন বলেন, ট্রলার ব্যবহার করে জাহাজে যাত্রী ওঠানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও কিছু অসাধু ট্রলার ব্যবসায়ী নিয়ম অমান্য করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রীদের লঞ্চে তুলে দিচ্ছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং আইনবিরোধী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধে নতুন করে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

নৌযান-জেটি না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে মাঝ নদীতে লঞ্চে উঠছে যাত্রীরা

আপডেট সময় ০১:৩২:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে সরাসরি যাত্রীবাহী লঞ্চে যাত্রীদের উঠার জন্য কোন নৌযান ও জেটি না থাকায় বারবার লঞ্চ চাপায় যাত্রী হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া ছোট নৌকায় করে লঞ্চে উঠার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নৌপুলিশ ও কোস্ট গার্ড ওই দায়িত্ব পালন করছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঢাকা নদী বন্দর ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্টদের দাবি, ছোট ট্রলার দিয়ে লঞ্চে যাত্রী উঠার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ড যথাযথ দায়িত্ব পালন না করায় বারবার লঞ্চ চাপায় প্রাণহানি ঘটছে। একাধিক যাত্রী বলেন, ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী লঞ্চে ভ্রমণ করে থাকে। বিপুল সংখ্যক যাত্রীর লঞ্চে উঠার জন্য কোন সুবন্দোবস্ত (জেটি ও ছোট লঞ্চ) রাখা হয়নি। তাই সহজে তারা লঞ্চে ওঠার জন্য ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার ব্যবহার করছে।

এভাবে লঞ্চে উঠতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ১০ বছরে অন্তত হাজারোও যাত্রী দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে বা নিখোঁজ হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনার দুইজনের মৃত্যু ও অন্তত ৩ জন নিখোঁজের পর থেকে অবৈধ ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাই অবিলম্বে কেরানীগঞ্জ থেকে সদর ঘাটে লঞ্চে যাত্রী পরিবহনের জন্য সরাসরি বিআইডব্লিউটিএ’কে জেটি স্থাপন ও ছোট লঞ্চের দাবি জানান যাত্রীরা। এদিকে লঞ্চ দুর্ঘটনার পরপরই বারবার নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) তদন্ত কমিটি গঠন করে, তবে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা সুপারিশ আলোর মুখ দেখেনা। ‌নেওয়া হয় না কোন ব্যবস্থাও।

বুধবারের দূর্ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএ গঠিত তদন্ত কমিটির একাধিক সদস্য ও সদরঘাট নৌথানার ওসি সোহাগ রানাসহ কোন কর্মকর্তা যুগান্তরকে এসব বিষয়ে মন্তব্য দিতে রাজি হননি। আশরাফুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমানসহ একাধিক যাত্রী জানান, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর, তেলঘাট, শুভাঢ্যা, জিনজিরা সহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ী শ্রমিক সহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের একটি বড় অংশ দক্ষিণ অঞ্চলসহ বিভিন্ন রুটের লঞ্চে যাতায়াত করে। লঞ্চে উঠার জন্য শুধুমাত্র সদরঘাট দিয়ে টার্মিনাল থাকায় এসব যাত্রীদেরকে বাবুবাজার ব্রিজ হয়ে ঘুরা পথে লঞ্চে উঠতে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। দীর্ঘদিন থেকে বিএডব্লিউটিএর কাছে সদরঘাট থেকে আগানগর, তেলঘাট পারাপারের জন্য বিআইডব্লিউটিএর যাত্রীবাহী লঞ্চ সেবা মাঝখানে কিছুদিন চালু রাখার পর কয়েক বছর আগে তা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে লাখ লাখ যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকা ও ট্রলার দিয়ে লঞ্চে উঠছে।

আওলাদ শিপিং লাইন্সের পরিচালক যুবরাজ হোসাইন বলেন, কিছু অসাধু ট্রলার ব্যবসায়ী আইনি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রীদের লঞ্চে ওঠানামা করাচ্ছে। যাত্রীরাও সহজে লঞ্চে উঠার জন্য ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার ব্যবহার করছে। এই অবৈধ কার্যক্রমের কারণেই সাধারণ যাত্রীরা বারবার দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। তাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত এসব অনিয়ন্ত্রিত ট্রলারের কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর আহ্বান জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক (নৌনিট্রা) মোবারক হোসেন বলেন, ট্রলার ব্যবহার করে জাহাজে যাত্রী ওঠানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও কিছু অসাধু ট্রলার ব্যবসায়ী নিয়ম অমান্য করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রীদের লঞ্চে তুলে দিচ্ছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং আইনবিরোধী।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481