ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হরমুজ প্রণালি পাশ কাটানোর চেষ্টায় সৌদি, আমিরাত, ইরাক Logo ইরান ধ্বংসস্তূপ থেকে বারবার ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠার ক্ষমতা রাখে: মিডলইস্ট আই Logo আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও বিকট বিস্ফোরক অস্ত্র ব্যবহার করছে ইরান: সেনাবাহিনীর মুখপাত্র Logo লারিজানির হত্যাকাণ্ড যুদ্ধ থেকে ট্রাম্পের বের হওয়ার পথ কঠিন করবে: বিশ্লেষক Logo ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রীকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের Logo অস্ট্রেলিয়ায় ঈদুল ফিতর আগামী ২০ মার্চ Logo মধ্যপ্রাচ্যকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে ইসরায়েল : এরদোয়ান Logo ইসলাম বিদ্বেষের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স প্রদর্শনের আহ্বান চীনের Logo মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল ঘোষণা করলো মালয়েশিয়া Logo তারেক রহমান ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম মাসেই ‘সীমান্ত হত্যা’ শূন্য

তারেক রহমান ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম মাসেই ‘সীমান্ত হত্যা’ শূন্য

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:২২:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই এক অস্বস্তিকর বাস্তবতার প্রতীক— যেখানে মানবিকতা, আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের চেয়ে বেশি প্রতিধ্বনিত হয়েছে গুলির শব্দ, লাশের মিছিল এবং অমানবিকতার করুণ চিত্র। বছরের পর বছর ধরে সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনা যেন এক নির্মম নিয়মে পরিণত হয়েছিল। এমন এক প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মাসেই সীমান্ত হত্যা শূন্যে নেমে আসা নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন—যা শুধু পরিসংখ্যানগত সাফল্য নয়, বরং কূটনৈতিক দক্ষতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার নির্ধারণের এক শক্তিশালী প্রতিফলন।

১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এক মাস পূর্ণ করেছে নতুন সরকার। এই স্বল্প সময়ের খতিয়ানে যদি একটি অর্জন আলাদাভাবে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, সেটি হলো সীমান্তে শান্তির এই নজিরবিহীন পরিস্থিতি। দীর্ঘদিনের রক্তাক্ত বাস্তবতার বিপরীতে গত এক মাসে বিএসএফ-এর গুলিতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি—যা অতীতের ধারাবাহিকতার সঙ্গে তুলনা করলে একেবারেই ব্যতিক্রমী এবং গভীরভাবে আশাব্যঞ্জক।

সীমান্ত হত্যার বিষয়টি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সংকট, যার শিকড় বহু বছরের অব্যবস্থাপনা, দুর্বল কূটনীতি এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ঘাটতিতে নিহিত। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে সীমান্তে নিহত বাংলাদেশিদের সংখ্যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

২০২৫ সালে অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া ২০২৪ সালে প্রায় ২৮ জন, ২০২৩ সালে প্রায় ২০ জন, ২০২২ সালে ১৭ জন এবং ২০২১ সালে ১৬ জন নিহত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা স্পষ্ট করে যে, সীমান্ত হত্যা কোনো আকস্মিক বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি কাঠামোগত সংকট, যা দীর্ঘদিন ধরে চলমান ছিল।

এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যার হিসাব নয়; বরং প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন এবং একটি অসমাপ্ত জীবনের গল্প। বিশেষ করে ২০১১ সালের কুড়িগ্রাম সীমান্তে কিশোরী ফেলানীর নির্মম মৃত্যু—যেখানে তার মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলে ছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা—বাংলাদেশের মানুষের চেতনায় এক গভীর ক্ষত তৈরি করে। সেই ঘটনার প্রতীকী গুরুত্ব আজও সীমান্ত ইস্যুতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

শুধু অতীত নয়, চলতি বছরের জানুয়ারিতেও তিন বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অর্থাৎ, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগ পর্যন্তও সীমান্ত পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক এবং অস্থির।

এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি সরকারের প্রথম মাসেই সীমান্ত হত্যা শূন্যে নেমে আসা নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী সাফল্য। এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং কার্যকর নেতৃত্ব, সুস্পষ্ট নীতিনির্ধারণ এবং দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থানের ফল।

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে একটি শক্ত বার্তা দেওয়া হয়েছে—সীমান্তে বিনা কারণে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এই বার্তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারের ব্যাপক জনসমর্থন এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সহায়তা করেছে। ফলে বিএসএফ-এর আচরণে একটি দৃশ্যমান সংযম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আরও সতর্ক, সক্রিয় এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। দুই পক্ষের এই পরিবর্তিত মনোভাব সীমান্ত পরিস্থিতিকে ইতিবাচক দিকে নিয়ে এসেছে।

নতুন সরকারের অন্যতম মূলনীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই সীমান্ত পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতীয়মান হয়। রাষ্ট্র যখন তার নাগরিকের জীবনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়, তখন সেই নীতির প্রতিফলন শুধু অভ্যন্তরীণ নীতিতে নয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও দৃশ্যমান হয়। সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনা সেই নীতিরই একটি বাস্তব ও কার্যকর প্রতিফলন। এটি প্রমাণ করে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কৌশলগত সঠিক পদক্ষেপের সমন্বয় ঘটলে দীর্ঘদিনের সমস্যারও সমাধান সম্ভব।

এই সাফল্যের পেছনে কেবল কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নয়, বরং একটি সমন্বিত রাষ্ট্রযন্ত্র কাজ করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিজিবি—সবাই একযোগে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সীমান্তে উত্তেজনা কমেছে এবং সহিংসতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

বিজিবি শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং একটি প্রো-অ্যাকটিভ ভূমিকা গ্রহণ করেছে। গত এক মাসে তারা প্রায় দুই শত কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ করেছে, ২০টি বিদেশি অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে এবং মাদকসহ দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে। এসব কার্যক্রম সীমান্তকে শুধু শান্তই করেনি, বরং অপরাধ দমনেও কার্যকর অবদান রেখেছে।

যদিও বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক, তবুও এখনই আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। সীমান্ত একটি জটিল ও সংবেদনশীল এলাকা, যেখানে যেকোনো সময় পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। বিজিবি ইতোমধ্যেই সীমান্ত এলাকার জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম, চোরাচালান কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য জনসচেতনতা বাড়ানো অপরিহার্য। কারণ অনেক সময় সাধারণ মানুষের অসচেতনতা বা অর্থনৈতিক প্রয়োজনে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তই বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সীমান্ত হত্যা বন্ধ হওয়া শুধু একটি অভ্যন্তরীণ সাফল্য নয়; এটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এই পরিস্থিতির উন্নতি বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং মানবাধিকার রক্ষায় দেশের অঙ্গীকারকে বিশ্বমঞ্চে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরবে—এতে কোনো সন্দেহ নেই।

সীমান্ত কেবল একটি ভৌগোলিক বিভাজন নয়; এটি দুই দেশের মানুষের মধ্যে সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ—সবকিছুর জন্য একটি শান্ত ও নিরাপদ সীমান্ত অপরিহায।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালি পাশ কাটানোর চেষ্টায় সৌদি, আমিরাত, ইরাক

তারেক রহমান ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম মাসেই ‘সীমান্ত হত্যা’ শূন্য

আপডেট সময় ০৬:২২:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই এক অস্বস্তিকর বাস্তবতার প্রতীক— যেখানে মানবিকতা, আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের চেয়ে বেশি প্রতিধ্বনিত হয়েছে গুলির শব্দ, লাশের মিছিল এবং অমানবিকতার করুণ চিত্র। বছরের পর বছর ধরে সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনা যেন এক নির্মম নিয়মে পরিণত হয়েছিল। এমন এক প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মাসেই সীমান্ত হত্যা শূন্যে নেমে আসা নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন—যা শুধু পরিসংখ্যানগত সাফল্য নয়, বরং কূটনৈতিক দক্ষতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার নির্ধারণের এক শক্তিশালী প্রতিফলন।

১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এক মাস পূর্ণ করেছে নতুন সরকার। এই স্বল্প সময়ের খতিয়ানে যদি একটি অর্জন আলাদাভাবে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, সেটি হলো সীমান্তে শান্তির এই নজিরবিহীন পরিস্থিতি। দীর্ঘদিনের রক্তাক্ত বাস্তবতার বিপরীতে গত এক মাসে বিএসএফ-এর গুলিতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি—যা অতীতের ধারাবাহিকতার সঙ্গে তুলনা করলে একেবারেই ব্যতিক্রমী এবং গভীরভাবে আশাব্যঞ্জক।

সীমান্ত হত্যার বিষয়টি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সংকট, যার শিকড় বহু বছরের অব্যবস্থাপনা, দুর্বল কূটনীতি এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ঘাটতিতে নিহিত। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে সীমান্তে নিহত বাংলাদেশিদের সংখ্যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

২০২৫ সালে অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া ২০২৪ সালে প্রায় ২৮ জন, ২০২৩ সালে প্রায় ২০ জন, ২০২২ সালে ১৭ জন এবং ২০২১ সালে ১৬ জন নিহত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা স্পষ্ট করে যে, সীমান্ত হত্যা কোনো আকস্মিক বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি কাঠামোগত সংকট, যা দীর্ঘদিন ধরে চলমান ছিল।

এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যার হিসাব নয়; বরং প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন এবং একটি অসমাপ্ত জীবনের গল্প। বিশেষ করে ২০১১ সালের কুড়িগ্রাম সীমান্তে কিশোরী ফেলানীর নির্মম মৃত্যু—যেখানে তার মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলে ছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা—বাংলাদেশের মানুষের চেতনায় এক গভীর ক্ষত তৈরি করে। সেই ঘটনার প্রতীকী গুরুত্ব আজও সীমান্ত ইস্যুতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

শুধু অতীত নয়, চলতি বছরের জানুয়ারিতেও তিন বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অর্থাৎ, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগ পর্যন্তও সীমান্ত পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক এবং অস্থির।

এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি সরকারের প্রথম মাসেই সীমান্ত হত্যা শূন্যে নেমে আসা নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী সাফল্য। এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং কার্যকর নেতৃত্ব, সুস্পষ্ট নীতিনির্ধারণ এবং দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থানের ফল।

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে একটি শক্ত বার্তা দেওয়া হয়েছে—সীমান্তে বিনা কারণে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এই বার্তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারের ব্যাপক জনসমর্থন এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সহায়তা করেছে। ফলে বিএসএফ-এর আচরণে একটি দৃশ্যমান সংযম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আরও সতর্ক, সক্রিয় এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। দুই পক্ষের এই পরিবর্তিত মনোভাব সীমান্ত পরিস্থিতিকে ইতিবাচক দিকে নিয়ে এসেছে।

নতুন সরকারের অন্যতম মূলনীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই সীমান্ত পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতীয়মান হয়। রাষ্ট্র যখন তার নাগরিকের জীবনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়, তখন সেই নীতির প্রতিফলন শুধু অভ্যন্তরীণ নীতিতে নয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও দৃশ্যমান হয়। সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনা সেই নীতিরই একটি বাস্তব ও কার্যকর প্রতিফলন। এটি প্রমাণ করে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কৌশলগত সঠিক পদক্ষেপের সমন্বয় ঘটলে দীর্ঘদিনের সমস্যারও সমাধান সম্ভব।

এই সাফল্যের পেছনে কেবল কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নয়, বরং একটি সমন্বিত রাষ্ট্রযন্ত্র কাজ করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিজিবি—সবাই একযোগে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সীমান্তে উত্তেজনা কমেছে এবং সহিংসতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

বিজিবি শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং একটি প্রো-অ্যাকটিভ ভূমিকা গ্রহণ করেছে। গত এক মাসে তারা প্রায় দুই শত কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ করেছে, ২০টি বিদেশি অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে এবং মাদকসহ দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে। এসব কার্যক্রম সীমান্তকে শুধু শান্তই করেনি, বরং অপরাধ দমনেও কার্যকর অবদান রেখেছে।

যদিও বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক, তবুও এখনই আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। সীমান্ত একটি জটিল ও সংবেদনশীল এলাকা, যেখানে যেকোনো সময় পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। বিজিবি ইতোমধ্যেই সীমান্ত এলাকার জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম, চোরাচালান কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য জনসচেতনতা বাড়ানো অপরিহার্য। কারণ অনেক সময় সাধারণ মানুষের অসচেতনতা বা অর্থনৈতিক প্রয়োজনে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তই বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সীমান্ত হত্যা বন্ধ হওয়া শুধু একটি অভ্যন্তরীণ সাফল্য নয়; এটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এই পরিস্থিতির উন্নতি বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং মানবাধিকার রক্ষায় দেশের অঙ্গীকারকে বিশ্বমঞ্চে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরবে—এতে কোনো সন্দেহ নেই।

সীমান্ত কেবল একটি ভৌগোলিক বিভাজন নয়; এটি দুই দেশের মানুষের মধ্যে সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ—সবকিছুর জন্য একটি শান্ত ও নিরাপদ সীমান্ত অপরিহায।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481