বগুড়ার গাবতলীতে কৃষক আবদুল লতিফ আকন্দ (৬৫) হত্যারহস্য উন্মোচিত হয়েছে। জমি থেকে শ্যালোমেশিন সরিয়ে না নেওয়ার বিরোধে মেশিন ঘরে ঢুকে কোদালের আঘাতে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতার প্রতিবেশী গৌরব সিংহ (৩৩) মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকালে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গাবতলী থানার ওসি রাকিব হোসেন প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গত ২৯ মার্চ সকালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের নিশিন্দারা হিন্দুপাড়ায় নিজ শ্যালোমেশিন ঘরের পাশে ধানখেত থেকে কৃষক আবদুল লতিফ আকন্দের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত মোবারক আলী আকন্দের ছেলে। এ ব্যাপারে গাবতলী থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় থানার এসআই রিপন বর্মণকে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের জ্ঞানেন্দ্র নাথ সিংহের ছেলে গৌরব সিংহকে চিহ্নিত করা হয়। তিনি জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলা এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নিরাপত্তা কর্মী। গোপনে খবর পেয়ে গত ৩০ মার্চ বিকালে ওই এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে গৌরব সিংহ প্রতিবেশী লতিফ আকন্দকে হত্যার দায় স্বীকার ও কারণ উল্লেখ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে গৌরব সিংহ জানান, লতিফ আকন্দ পাঁচ বছর আগে তার বাবা জ্ঞানেন্দ্র নাথ সিংহের কাছে পাঁচ লাখ টাকায় সেচ পাম্পের জমি ক্রয় করেন। জমি দলিল করে না দেওয়ায় প্রায় দুই মাস আগে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে লতিফকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়। এরপর জমি থেকে সেচপাম্প তুলে নিতে বলা হয়। লতিফ আকন্দ পাম্প তুলে নিয়ে না যাওয়ায় আসামি গৌরব সিংহ ক্ষিপ্ত হন। লতিফ গত ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে গৌররকে মারপিট করেন। এতে গৌরবের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তিনি লতিফকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এরপর গৌরব বেশ কয়েকবার মোবাইল ফোনে ও প্রকাশ্যে লতিফকে হত্যার হুমকি দেন। এ সংক্রান্তে একটি অডিও রেকর্ড রয়েছে।
গৌরব সিংহ কর্মস্থল থেকে গত ২৮ মার্চ রাত ১০টা ২৩ মিনিটে গাবতলীর নিশিন্দারা গ্রামে আসেন। রাত ৩টার দিকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। ২৯ মার্চ বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি পুনরায় জামালপুরের কর্মস্থলে চলে যান; কিন্তু তার গ্রামে আসার কথা স্বজনরা অস্বীকার করেন। ঘটনাস্থলের পাশে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। এছাড়া এক সিএনজি অটোরিকশাচালক গ্রামের বটগাছের নিচে রূপালী ব্যাংকের একটি ক্রেডিট কার্ড পান। পরে ক্রেডিট কার্ড ও মোবাইল ফোন যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এর মালিক গৌরব সিংহ।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে গৌরব সিংহ জানান, তিনি ঘটনার রাতে জামালপুর থেকে গাবতলীর নিশিন্দারা গ্রামে আসেন। তিনি সেচপাম্পের কাছে গিয়ে লতিফ আকন্দকে একা পেয়ে বিছানা থেকে টেনে তুলে মারপিট করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সেখানে থাকা কোদাল দিয়ে লতিফের মাথায় আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেন। তাকে টেনেহিঁচড়ে বাহিরে জমিতে এনে পুনরায় হাতে ও পায়ে আঘাত করে হাড় ভেঙে ফেলেন। এরপর তিনি লতিফের মৃত্যু নিশ্চিত করে রাতেই জামালপুরে চলে যান।
এদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রিপন বর্মণ মঙ্গলবার বিকালে তাকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

নিজস্ব সংবাদ : 














