ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ইরানকে দোষারোপের ফাঁদ: ড্রোনের নকল করে মুসলিম দেশে হামলা Logo হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের বিশেষ অনুমতি পেল কোন কোন দেশ? Logo কদরের রাতে মিজানুর রহমান আজহারির পোস্ট মুহূর্তে ভাইরাল Logo শত্রুকে এমন জায়গায় আঘাত করবো যা তারা কল্পনাও করেনি: ইরানের নৌবাহিনী প্রধান Logo ঈদের ছুটি শুরু হলেও সচিবালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী Logo মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেন বাংলাদেশি হাফেজ ইব্রাহীম শেখ Logo ‘হে আল্লাহ, তুমি পরম ক্ষমাশীল এবং ক্ষমাকে ভালোবাসো; তাই আমাকে ক্ষমা করো’ Logo যু/দ্ধ নিয়ে ‘ভুয়া পোস্ট’ করায় আমিরাতে ১৯ ভারতীয়সহ ৩৫ জনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ Logo ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়েছে পাকিস্তান, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আরাঘচির Logo নাড়ির টানে শেকড়ে ফিরছে মানুষ, মহাসড়কে গাড়ির চাপ

ইরানকে দোষারোপের ফাঁদ: ড্রোনের নকল করে মুসলিম দেশে হামলা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:৫০:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আঞ্চলিক দেশগুলোতে হামলার জন্য ইরানি ড্রোনের নকল ব্যবহার করছে শত্রুরা—সতর্ক করলেন তেহরান।

খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের শত্রুরা ইরানি শাহেদ ড্রোনের নকল তৈরি করে আঞ্চলিক দেশগুলোতে অন্যায় লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে, যাতে ইরানকে দোষী প্রমাণ করা এবং অঞ্চলে বিভেদ সৃষ্টি করা যায়।

রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইব্রাহিম জোলফাকারি প্রতিবেশী দেশগুলো ও অঞ্চলের মুসলিম জনগণের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘যে শত্রু যুদ্ধক্ষেত্রে এবং ইরানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক জোট গঠনে ব্যর্থ হয়েছে, তারা এখন প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। তারা ইরানের শাহেদ–১৩৬ ড্রোনের অনুকরণ তৈরি করে ‘লুকাস’ নামের নতুন ড্রোন হিসেবে আঞ্চলিক দেশগুলোতে অন্যায় লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে।’

তিনি বলেন, শত্রুর উদ্দেশ্য হলো ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস সৃষ্টি করা এবং অভিযোগ চাপিয়ে দেওয়া। এর মাধ্যমে ইরান ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি করা এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বৈধ আত্মরক্ষামূলক কর্মকাণ্ডকে দুর্বল করা।

মুখপাত্র আরও বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি সম্পূর্ণ বৈধ নীতির ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এর শক্তিশালী যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি রয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান বারবার ঘোষণা করেছে যে তারা কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইনরায়েলের লক্ষ্যবস্তু, কেন্দ্র এবং স্বার্থের ওপর আঘাত হানে। যেসব স্থানে হামলা করা হয় সেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় এবং তার দায়-দায়িত্বও গ্রহণ করা হয়।’

এরপর তিনি তুরস্ক, কুয়েত এবং ইরাকের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশগুলোর কিছু কেন্দ্রের ওপর হওয়া ‘দুষ্ট উদ্দেশ্যমূলক হামলার’ উদাহরণ দেন, যেগুলো মিথ্যাভাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ওপর দোষ চাপানো হয়েছে।

জোলফাকারি বলেন, ‘এই ধরনের প্রতারণামূলক ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দায়িত্বশীল ও বিচক্ষণ প্রতিক্রিয়া এই ষড়যন্ত্রকে শুরুতেই ব্যর্থ করে দেবে। কিন্তু শত্রুর কৌশলে প্রতারিত হয়ে বিভাজনমূলক অবস্থান নিলে এ ধরনের ষড়যন্ত্র আরও বিস্তৃত হবে। তাই পারস্পরিক আস্থা, ঐক্য এবং সহযোগিতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, যাতে বিদেশি আগ্রাসী শক্তি তাদের ষড়যন্ত্রের জন্য অনুতপ্ত হয়।’

২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী, কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার এবং বেসামরিক নাগরিককে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শাসন ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের উসকানিমূলক সামরিক অভিযান শুরু করে।

এই হামলায় ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।

এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পাল্টা অভিযান চালিয়ে দখলকৃত ভূখণ্ড এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানকে দোষারোপের ফাঁদ: ড্রোনের নকল করে মুসলিম দেশে হামলা

ইরানকে দোষারোপের ফাঁদ: ড্রোনের নকল করে মুসলিম দেশে হামলা

আপডেট সময় ১১:৫০:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

আঞ্চলিক দেশগুলোতে হামলার জন্য ইরানি ড্রোনের নকল ব্যবহার করছে শত্রুরা—সতর্ক করলেন তেহরান।

খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের শত্রুরা ইরানি শাহেদ ড্রোনের নকল তৈরি করে আঞ্চলিক দেশগুলোতে অন্যায় লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে, যাতে ইরানকে দোষী প্রমাণ করা এবং অঞ্চলে বিভেদ সৃষ্টি করা যায়।

রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইব্রাহিম জোলফাকারি প্রতিবেশী দেশগুলো ও অঞ্চলের মুসলিম জনগণের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘যে শত্রু যুদ্ধক্ষেত্রে এবং ইরানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক জোট গঠনে ব্যর্থ হয়েছে, তারা এখন প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। তারা ইরানের শাহেদ–১৩৬ ড্রোনের অনুকরণ তৈরি করে ‘লুকাস’ নামের নতুন ড্রোন হিসেবে আঞ্চলিক দেশগুলোতে অন্যায় লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে।’

তিনি বলেন, শত্রুর উদ্দেশ্য হলো ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস সৃষ্টি করা এবং অভিযোগ চাপিয়ে দেওয়া। এর মাধ্যমে ইরান ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি করা এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বৈধ আত্মরক্ষামূলক কর্মকাণ্ডকে দুর্বল করা।

মুখপাত্র আরও বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি সম্পূর্ণ বৈধ নীতির ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এর শক্তিশালী যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি রয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান বারবার ঘোষণা করেছে যে তারা কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইনরায়েলের লক্ষ্যবস্তু, কেন্দ্র এবং স্বার্থের ওপর আঘাত হানে। যেসব স্থানে হামলা করা হয় সেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় এবং তার দায়-দায়িত্বও গ্রহণ করা হয়।’

এরপর তিনি তুরস্ক, কুয়েত এবং ইরাকের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশগুলোর কিছু কেন্দ্রের ওপর হওয়া ‘দুষ্ট উদ্দেশ্যমূলক হামলার’ উদাহরণ দেন, যেগুলো মিথ্যাভাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ওপর দোষ চাপানো হয়েছে।

জোলফাকারি বলেন, ‘এই ধরনের প্রতারণামূলক ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দায়িত্বশীল ও বিচক্ষণ প্রতিক্রিয়া এই ষড়যন্ত্রকে শুরুতেই ব্যর্থ করে দেবে। কিন্তু শত্রুর কৌশলে প্রতারিত হয়ে বিভাজনমূলক অবস্থান নিলে এ ধরনের ষড়যন্ত্র আরও বিস্তৃত হবে। তাই পারস্পরিক আস্থা, ঐক্য এবং সহযোগিতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, যাতে বিদেশি আগ্রাসী শক্তি তাদের ষড়যন্ত্রের জন্য অনুতপ্ত হয়।’

২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী, কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার এবং বেসামরিক নাগরিককে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শাসন ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের উসকানিমূলক সামরিক অভিযান শুরু করে।

এই হামলায় ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।

এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পাল্টা অভিযান চালিয়ে দখলকৃত ভূখণ্ড এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481