ঢাকা ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হামলার হুঁশিয়ারি আইআরজিসির, কর্মীদের এলাকা ছাড়ার আহ্বান Logo সকালের মধ্যেই ৮ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা Logo সরকারি ছুটির মধ্যেই সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক আজ Logo লেবাননে ইসরায়েলের স্থল অভিযান শুরু Logo জেলে না গেলে বুঝতাম না কত বড় জুলুমের শাসন ড. ইউনূস করে দিয়েছে: আনিস আলমগীর Logo ২০ বছর আগে নিয়োগ বাতিল হওয়া ৩৩০ পুলিশ সদস্যকে চাকরি দিচ্ছে সরকার Logo এক বছরে রোহিঙ্গা শরণার্থী বাড়ল ১ লাখ ৭৯ হাজার Logo ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি ও অস্ত্রাগারে হামলার দাবি আইআরজিসির Logo ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে দায় প্রধানমন্ত্রীর’ Logo কেউ ভোট দিতে পারেননি, এমন অভিযোগ পাননি: সিইসি

আমেরিকা নয়, জ্বালানি বাজারের আসল ‘বস’ এখন ইরান!

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:৩৭:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

চলতি সপ্তাহে সৌদি আরামকো যখন তাদের তেল ক্রেতাদের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে স্বীকার করে নিল যে, এপ্রিল মাসে তেল রপ্তানির জন্য তারা কোন বন্দরটি ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে তাদের নিশ্চিত কোনো ধারণা তাদের নেই, তখন একটি নতুন রূঢ় বাস্তবতা উন্মোচিত গোটা বিশ্বের সামনে। আর সেটি হলো, বিশ্ব জ্বালানি বাজার সচল করার চাবিকাঠি এখন আমেরিকার হাতে নয়, বরং ইরানের হাতে।

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সৌদি তেলের ক্রেতাদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, তারা লোহিত সাগর থেকে তেল পেতে পারেন, আবার পারস্য উপসাগর থেকেও পেতে পারেন। উপসাগরজুড়ে যুদ্ধ চলায় এবং ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ায়, নিয়মিত এক সৌদি তেল ক্রেতা চিঠিটি পেয়ে মন্তব্য করেন, আমার তেল কখন পাব তা জানতে বরং ইরানকেই ফোন করা ভালো; তারাই জানে এই যুদ্ধ কবে থামবে।

এই মন্তব্যটি মধ্যপ্রাচ্যের ভেতরে ও বাইরে ক্রমবর্ধমান এক বিশ্বাসের প্রতিফলন, যদিও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল যে কোনো সময় যুদ্ধ সমাপ্তির ঘোষণা দিতে পারে, কিন্তু আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা যাকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেছে, তার স্থায়িত্ব কতদিন হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইরান।

মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর নির্বাহীরা সতর্ক করে দিয়েছেন, যুদ্ধ এখনই থেমে গেলেও জাহাজ চলাচল এবং উৎপাদন পুনরায় শুরু করার জন্য শুধু আমেরিকার নিরাপত্তার আশ্বাসই যথেষ্ট হবে না। কম দামের ড্রোন তৈরি ও তা মোতায়েনের সক্ষমতা ইরানের আছে, যার মাধ্যমে তারা জাহাজ চলাচল ব্যাহত বা পঙ্গু করে দিতে পারে। ইরানের ওপর হামলাকারীরা অভিযান শেষ করার ঘোষণা দেওয়ার পরও তেহরানের এই বিঘ্ন ঘটানোর ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক প্রহরা পাঠাতে পারে এবং তিনি মিত্র দেশগুলোকেও যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের একজন জ্যেষ্ঠ জ্বালানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি তেহরানের সাথে এমন কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায় যেখানে ইরান জাহাজ চলাচলে হামলা বা হুমকি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেবে, তবে শুধু নৌ-প্রহরা দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যাবে না। তিনি আরও যোগ করেন, ইরান নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা না দেওয়া পর্যন্ত তাঁর তেলবাহী জাহাজগুলো বন্দরেই নোঙর করা থাকবে।

থিংক ট্যাঙ্ক ‘চ্যাটাম হাউস’-এর নীল কুইলিয়াম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি এমন শর্তে জয় ঘোষণা করে যা ইরানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, তবে তেহরান মাইন এবং ড্রোন ব্যবহার করে আরও বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এটা দেখাতে যে তারা পরাজিত হয়নি।

শনিবার ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ তেল কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালানো হয়। আরবিসি ক্যাপিটালের হেলিমা ক্রফট (যিনি সিআইএ-র সাবেক বিশ্লেষক) মনে করেন, ইরান এই বার্তার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, এই যুদ্ধে কোনো ‘নিরাপদ বন্দর’ নেই এবং ওয়াশিংটন চাইলেই যুদ্ধের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। তিনি ইয়েমেন, ইরাক বা অন্য কোথাও থেকে ছায়া যুদ্ধের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন।

ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুথিরা সৌদির লোহিত সাগরীয় বন্দর ইয়ানবুতে হামলা চালিয়ে এই উত্তেজনার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বর্তমানে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির একমাত্র বিকল্প পথ হলো এই ইয়ানবু।

আস্থার সংকট: ইরাকি সরকারের একজন জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, এই সংকট সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর আস্থা ধসিয়ে দিয়েছে এবং এ অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর দুর্বলতা উন্মোচিত করেছে। তিনি জানান, সংস্কার কাজ শেষ করতে কয়েক মাস সময় লাগবে এবং ঝুঁকির কারণে বীমা খরচ অনেক বেড়ে যাবে।

ইরানি হামলায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং ইসরায়েলের শোধনাগারগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল ও গ্যাসের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। মরগান স্ট্যানলিসহ অন্যান্য বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের দ্রুত সমাধান হলেও বাজারে অস্থিরতা কয়েক সপ্তাহ বজায় থাকবে। রাপিডান এনার্জির বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক তেল কোম্পানিগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে ফিরতে দেরি করতে পারে, যা কিছু তেলক্ষেত্রের উৎপাদন শুরুর প্রক্রিয়াকে পিছিয়ে দেবে।

রপ্তানি পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদনকারীরা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। আরামকো তাদের দুটি বিশাল অফশোর ক্ষেত্র- সাফানিয়া এবং জুলুফের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে, যা ওপেকের বৃহত্তম উৎপাদক দেশটির উৎপাদন ২০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় শীর্ষ উৎপাদক ইরাকের উৎপাদন কমেছে ৭০ শতাংশ, আর তৃতীয় শীর্ষ উৎপাদক সংযুক্ত আরব আমিরাতের উৎপাদন অর্ধেক হয়ে গেছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে তেলের মোট উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে দৈনিক ৭০ থেকে ১০০ লক্ষ ব্যারেল, যা বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ৭-১০ শতাংশ। কাতার তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে, যা বিশ্বের ২০ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।

আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরাইলের প্রাণকেন্দ্রে ইরানের হামলাআমিরাতের মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরাইলের প্রাণকেন্দ্রে ইরানের হামলা
তারা গ্রাহকদের জানিয়েছে, মে মাসের আগে কোনো চালান পাওয়া সম্ভব না-ও হতে পারে। শিল্প সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র সহজ কথায় বলেছে, এটি শুধু নিরাপত্তার প্রশ্ন। আমরা প্রাণের ঝুঁকি নিতে পারি না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হামলার হুঁশিয়ারি আইআরজিসির, কর্মীদের এলাকা ছাড়ার আহ্বান

আমেরিকা নয়, জ্বালানি বাজারের আসল ‘বস’ এখন ইরান!

আপডেট সময় ০৯:৩৭:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

চলতি সপ্তাহে সৌদি আরামকো যখন তাদের তেল ক্রেতাদের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে স্বীকার করে নিল যে, এপ্রিল মাসে তেল রপ্তানির জন্য তারা কোন বন্দরটি ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে তাদের নিশ্চিত কোনো ধারণা তাদের নেই, তখন একটি নতুন রূঢ় বাস্তবতা উন্মোচিত গোটা বিশ্বের সামনে। আর সেটি হলো, বিশ্ব জ্বালানি বাজার সচল করার চাবিকাঠি এখন আমেরিকার হাতে নয়, বরং ইরানের হাতে।

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সৌদি তেলের ক্রেতাদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, তারা লোহিত সাগর থেকে তেল পেতে পারেন, আবার পারস্য উপসাগর থেকেও পেতে পারেন। উপসাগরজুড়ে যুদ্ধ চলায় এবং ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ায়, নিয়মিত এক সৌদি তেল ক্রেতা চিঠিটি পেয়ে মন্তব্য করেন, আমার তেল কখন পাব তা জানতে বরং ইরানকেই ফোন করা ভালো; তারাই জানে এই যুদ্ধ কবে থামবে।

এই মন্তব্যটি মধ্যপ্রাচ্যের ভেতরে ও বাইরে ক্রমবর্ধমান এক বিশ্বাসের প্রতিফলন, যদিও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল যে কোনো সময় যুদ্ধ সমাপ্তির ঘোষণা দিতে পারে, কিন্তু আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা যাকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেছে, তার স্থায়িত্ব কতদিন হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইরান।

মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর নির্বাহীরা সতর্ক করে দিয়েছেন, যুদ্ধ এখনই থেমে গেলেও জাহাজ চলাচল এবং উৎপাদন পুনরায় শুরু করার জন্য শুধু আমেরিকার নিরাপত্তার আশ্বাসই যথেষ্ট হবে না। কম দামের ড্রোন তৈরি ও তা মোতায়েনের সক্ষমতা ইরানের আছে, যার মাধ্যমে তারা জাহাজ চলাচল ব্যাহত বা পঙ্গু করে দিতে পারে। ইরানের ওপর হামলাকারীরা অভিযান শেষ করার ঘোষণা দেওয়ার পরও তেহরানের এই বিঘ্ন ঘটানোর ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক প্রহরা পাঠাতে পারে এবং তিনি মিত্র দেশগুলোকেও যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের একজন জ্যেষ্ঠ জ্বালানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি তেহরানের সাথে এমন কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায় যেখানে ইরান জাহাজ চলাচলে হামলা বা হুমকি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেবে, তবে শুধু নৌ-প্রহরা দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যাবে না। তিনি আরও যোগ করেন, ইরান নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা না দেওয়া পর্যন্ত তাঁর তেলবাহী জাহাজগুলো বন্দরেই নোঙর করা থাকবে।

থিংক ট্যাঙ্ক ‘চ্যাটাম হাউস’-এর নীল কুইলিয়াম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি এমন শর্তে জয় ঘোষণা করে যা ইরানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, তবে তেহরান মাইন এবং ড্রোন ব্যবহার করে আরও বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এটা দেখাতে যে তারা পরাজিত হয়নি।

শনিবার ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ তেল কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালানো হয়। আরবিসি ক্যাপিটালের হেলিমা ক্রফট (যিনি সিআইএ-র সাবেক বিশ্লেষক) মনে করেন, ইরান এই বার্তার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, এই যুদ্ধে কোনো ‘নিরাপদ বন্দর’ নেই এবং ওয়াশিংটন চাইলেই যুদ্ধের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। তিনি ইয়েমেন, ইরাক বা অন্য কোথাও থেকে ছায়া যুদ্ধের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন।

ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুথিরা সৌদির লোহিত সাগরীয় বন্দর ইয়ানবুতে হামলা চালিয়ে এই উত্তেজনার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বর্তমানে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির একমাত্র বিকল্প পথ হলো এই ইয়ানবু।

আস্থার সংকট: ইরাকি সরকারের একজন জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, এই সংকট সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর আস্থা ধসিয়ে দিয়েছে এবং এ অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর দুর্বলতা উন্মোচিত করেছে। তিনি জানান, সংস্কার কাজ শেষ করতে কয়েক মাস সময় লাগবে এবং ঝুঁকির কারণে বীমা খরচ অনেক বেড়ে যাবে।

ইরানি হামলায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং ইসরায়েলের শোধনাগারগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল ও গ্যাসের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। মরগান স্ট্যানলিসহ অন্যান্য বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের দ্রুত সমাধান হলেও বাজারে অস্থিরতা কয়েক সপ্তাহ বজায় থাকবে। রাপিডান এনার্জির বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক তেল কোম্পানিগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে ফিরতে দেরি করতে পারে, যা কিছু তেলক্ষেত্রের উৎপাদন শুরুর প্রক্রিয়াকে পিছিয়ে দেবে।

রপ্তানি পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদনকারীরা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। আরামকো তাদের দুটি বিশাল অফশোর ক্ষেত্র- সাফানিয়া এবং জুলুফের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে, যা ওপেকের বৃহত্তম উৎপাদক দেশটির উৎপাদন ২০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় শীর্ষ উৎপাদক ইরাকের উৎপাদন কমেছে ৭০ শতাংশ, আর তৃতীয় শীর্ষ উৎপাদক সংযুক্ত আরব আমিরাতের উৎপাদন অর্ধেক হয়ে গেছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে তেলের মোট উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে দৈনিক ৭০ থেকে ১০০ লক্ষ ব্যারেল, যা বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ৭-১০ শতাংশ। কাতার তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে, যা বিশ্বের ২০ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।

আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরাইলের প্রাণকেন্দ্রে ইরানের হামলাআমিরাতের মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরাইলের প্রাণকেন্দ্রে ইরানের হামলা
তারা গ্রাহকদের জানিয়েছে, মে মাসের আগে কোনো চালান পাওয়া সম্ভব না-ও হতে পারে। শিল্প সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র সহজ কথায় বলেছে, এটি শুধু নিরাপত্তার প্রশ্ন। আমরা প্রাণের ঝুঁকি নিতে পারি না।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481