ঢাকা ০৯:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৫০ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপ সরানোই এখন গাজার চ্যালেঞ্জ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:০৩:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫১ বার পড়া হয়েছে

যুদ্ধ বন্ধের পর বহুমুখী চ্যালেঞ্জের অন্যতম গাজার ধ্বংসস্তুূপ অপসারণ। প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টন ধ্বংসাবশেষ সরাতে হবে উপত্যকা থেকে। ধাপে ধাপে চলবে এই অভিযান। প্রথমেই রাস্তাঘাট পরিস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে; যেন দ্রুত পৌঁছানো যায় খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এরপর মেরামত করা হবে হাসপাতাল ও সামাজিক সেবা কেন্দ্রগুলো। চলছে ট্রানজিশনাল আশ্রয় কেন্দ্র গঠনের উদ্যোগও।

ধ্বংস্তুপের নগরী— গাজার বর্তমান দৃশ্যপটের অবস্থা এখন অনেকটা এমনই। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) চলে গেলেও ২ বছরের আগ্রাসন-তাণ্ডবের প্রমাণ রয়ে গেছে নগরীর চারিদিকে। বড় বড় ভবনগুলো লুটিয়ে পড়েছে মাটিতে। ইট, পাথর আর সিমেন্ট এর পাহাড় হয়ে আছে উপত্যকা জুড়ে।

মূলত, আইডিএফ দখল ছেড়ে দেয়ার পরই শুরু হয়েছে গাজার পুনর্গঠন প্রচেষ্টা। ইউএনডিপির প্রতিবেদন বলছে, শহর পরিচ্ছন্ন করতে সরাতে হবে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টন ধ্বংসাবশেষ। যার ওজন প্রায় ১৩টি পিরামিড়ের সমান। আর বিপুল এই ধ্বংসস্তুপই এখন কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাথা ব্যাথার।

ইউএনডিপি সহায়তা কর্মসূচির বিশেষ প্রতিনিধি জ্যাকো সিলিয়ার্স বলেন, আমাদেরকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ আগাতে হবে। আপনারা যেমন আমার পিছনে দেখতে পারছেন , ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এগুলো অপসরণ করতে হবে। তবে এখানে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেমন, নিরাপত্তার জন্য অবিস্ফোরিত বোমা আগে পরিষ্কার করতে হবে। ধ্বংসাবশেষ অপসারণের পরই কেবল পুনর্গঠন এবং মানবিক চাহিদা পূরণের কাজ শুরু করা সম্ভব।

তিনি বলেন, আমাদের প্রথম টার্গেট হলো রাস্তা পরিষ্কার করা যেন, ত্রাণবাহী ট্রাক গুলো গাজা সিটিতে নির্বিঘ্নে ঢুকতে পারে। বাসস্থান নির্মাণ করা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। এর জন্য সময় লাগবে। গাজায় মানুষ তাবুতে ঘুমাচ্ছে। সামনেই শীতকাল আসতে , তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। তাই আমরা ট্রানজিশনাল আশ্রয় কেন্দ্র গঠনের কথা ভাবছি।

তবে খাবার ও মৌলিক সুবিধা সংকটেও ভুগছে গাজাবাসী। তাই মানবাধিকার সুবিধাগুলো দ্রুত পৌঁছাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চলবে ধ্বংসস্তুপ অপসরণের কাজ। এর পরই হবে হাসপাতাল ও সামাজিক পরিসেবাগুলো পুনঃনির্মাণ।

জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের তথ্য বলছে, ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাজা সিটির ৮৩ শতাংশ ভবন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী

৫০ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপ সরানোই এখন গাজার চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় ০৩:০৩:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

যুদ্ধ বন্ধের পর বহুমুখী চ্যালেঞ্জের অন্যতম গাজার ধ্বংসস্তুূপ অপসারণ। প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টন ধ্বংসাবশেষ সরাতে হবে উপত্যকা থেকে। ধাপে ধাপে চলবে এই অভিযান। প্রথমেই রাস্তাঘাট পরিস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে; যেন দ্রুত পৌঁছানো যায় খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এরপর মেরামত করা হবে হাসপাতাল ও সামাজিক সেবা কেন্দ্রগুলো। চলছে ট্রানজিশনাল আশ্রয় কেন্দ্র গঠনের উদ্যোগও।

ধ্বংস্তুপের নগরী— গাজার বর্তমান দৃশ্যপটের অবস্থা এখন অনেকটা এমনই। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) চলে গেলেও ২ বছরের আগ্রাসন-তাণ্ডবের প্রমাণ রয়ে গেছে নগরীর চারিদিকে। বড় বড় ভবনগুলো লুটিয়ে পড়েছে মাটিতে। ইট, পাথর আর সিমেন্ট এর পাহাড় হয়ে আছে উপত্যকা জুড়ে।

মূলত, আইডিএফ দখল ছেড়ে দেয়ার পরই শুরু হয়েছে গাজার পুনর্গঠন প্রচেষ্টা। ইউএনডিপির প্রতিবেদন বলছে, শহর পরিচ্ছন্ন করতে সরাতে হবে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টন ধ্বংসাবশেষ। যার ওজন প্রায় ১৩টি পিরামিড়ের সমান। আর বিপুল এই ধ্বংসস্তুপই এখন কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাথা ব্যাথার।

ইউএনডিপি সহায়তা কর্মসূচির বিশেষ প্রতিনিধি জ্যাকো সিলিয়ার্স বলেন, আমাদেরকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ আগাতে হবে। আপনারা যেমন আমার পিছনে দেখতে পারছেন , ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এগুলো অপসরণ করতে হবে। তবে এখানে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেমন, নিরাপত্তার জন্য অবিস্ফোরিত বোমা আগে পরিষ্কার করতে হবে। ধ্বংসাবশেষ অপসারণের পরই কেবল পুনর্গঠন এবং মানবিক চাহিদা পূরণের কাজ শুরু করা সম্ভব।

তিনি বলেন, আমাদের প্রথম টার্গেট হলো রাস্তা পরিষ্কার করা যেন, ত্রাণবাহী ট্রাক গুলো গাজা সিটিতে নির্বিঘ্নে ঢুকতে পারে। বাসস্থান নির্মাণ করা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। এর জন্য সময় লাগবে। গাজায় মানুষ তাবুতে ঘুমাচ্ছে। সামনেই শীতকাল আসতে , তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। তাই আমরা ট্রানজিশনাল আশ্রয় কেন্দ্র গঠনের কথা ভাবছি।

তবে খাবার ও মৌলিক সুবিধা সংকটেও ভুগছে গাজাবাসী। তাই মানবাধিকার সুবিধাগুলো দ্রুত পৌঁছাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চলবে ধ্বংসস্তুপ অপসরণের কাজ। এর পরই হবে হাসপাতাল ও সামাজিক পরিসেবাগুলো পুনঃনির্মাণ।

জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের তথ্য বলছে, ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাজা সিটির ৮৩ শতাংশ ভবন।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481