ঢাকা ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শীতকালে ভোরে ঘুম থেকে ওঠা কঠিন কেন? Logo বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর সঙ্গে চিকিৎসা সহযোগিতা জোরদার যুক্তরাষ্ট্রের Logo ৪৮তম বিসিএস নিয়োগ পেলেন ৩২৬৩ জন Logo ধানের শীষের পাশাপাশি মাথাল ও খেজুর গাছ মার্কায় ভোট চাইলেন তারেক রহমান Logo গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে বিপ্লবী সরকার গঠনের আশঙ্কা জিএম কাদেরের Logo ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ভিত্তিহীন’ আখ্যা চীনের Logo নির্বাচন ভন্ডুলের চেষ্টা হলে সরকারের কাউকে দেশ থেকে বের হতে দেব না: পাপিয়া Logo গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করা উচিত: আলী রীয়াজ Logo কালো টাকা ও পেশিশক্তি দিয়ে এবার ভোটের বাক্স ভরা যাবে না: সাইফুল হক Logo না খেয়ে থাকলেও আমরা ভারতের গোলামি করব না: মেজর হাফিজ

হাত-পা হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে আসে, এটি কীসের লক্ষণ?

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:৩১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে

শীত এলেই অনেকের হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে আসেভোর বা সন্ধ্যার দিকে তো সমস্যা আরও প্রকট হয়মফস্বল, সীমান্ত কিংবা নদীবিধৌত অঞ্চলে বসবাসকারীরাসময় যেন নিত্যদিনের সঙ্গী করে নেন এই অস্বস্তিকে।

তবে প্রশ্ন হলো, শুধু আবহাওয়ার কারণে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কতটা স্বাভাবিক? আর যদি বছরের অন্য সময়েও হঠাৎ করে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে কিংবা সব সময়ই শরীরে ঠান্ডা অনুভূত হয়, তাহলে কি তা কোনো ভেতরকার রোগের সংকেত? বিষয়টি নিয়ে মানুষের মাঝে রয়েছে নানা ভুল ধারণা ও অজানা ভয়।

একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত নিবন্ধে এই ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা দিয়েছেন স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকার ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আফলাতুন আকতার জাহান।

চলুন তাহলে হাত-পা ঠান্ডা হওয়ার কারণগুলো জেনে নিই

রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়া

ডা. আফলাতুন আকতার জাহান বলেন, হাত-পা ঠান্ডা হওয়ার সবচেয়ে প্রধান কারণ রক্ত সঞ্চালন দুর্বল হওয়া। রক্তনালির মধ্যে রক্তপ্রবাহ কমে গেলে শরীরের দূরের অংশগুলো, যেমন হাত ও পা প্রথমে তাপ সরবরাহ কম পায়

সম্ভাব্য কারণ হতে পারে উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল ও হৃদ্‌রোগ বা হৃদ্‌যন্ত্রের দুর্বলতা।

অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা

শরীরে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে রক্তের অক্সিজেন বহনের ক্ষমতাও কমে যায়। এতে হাত-পা সহজেই ঠান্ডা হয়ে যায়। সঙ্গে থাকতে পারে ক্লান্তি, মাথাঘোরা, ফ্যাকাশে ত্বক।

থাইরয়েড হরমোন কমে যাওয়া বা হাইপোথাইরিডিজম

থাইরয়েড শরীরের মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণ করে। এই হরমোন কমে গেলে শরীর তাপ উৎপাদনও কম হয়; সঙ্গে ওজন বেড়ে যাওয়া, ঘুম ঘুম ভাব, চুল পড়া, ত্বক শুষ্ক হওয়ার মতো উপসর্গও থাকে।

ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি

ডায়াবেটিসের কারণে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাত-পায়ে ঝিনঝিন ভাব ও ঠান্ডা অনুভূতি দেখা দিতে পারে। সঙ্গে থাকতে পারে জ্বালাপোড়া ও সংবেদন কমে যাওয়া।

ভিটামিনের ঘাটতি

বিশেষ করে বি১২, আয়রন, ফলেট এগুলো কম থাকলে স্নায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে। রক্তশূন্যতাও তৈরি হতে পারে, যার ফলে হাত-পা ঠান্ডা লাগে।

ধূমপান বা অতিরিক্ত ক্যাফেইন

নিকোটিন ও ক্যাফেইন রক্তনালি সংকুচিত করে। ফলে রক্ত সঞ্চালন কমে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়

রেনোডস ডিজিজ

এটি একটি বিশেষ অবস্থা, যেখানে ঠান্ডা বা মানসিক চাপের কারণে হাত-পায়ের আঙুলের রক্তনালি হঠাৎ সংকুচিত হয়ে পড়ে। ফলে আঙুল সাদা বা নীলচে হয়ে যায় এবং খুব ঠান্ডা লাগে।

স্ট্রেস বা ঘুমের সমস্যা

স্ট্রেস হরমোন রক্ত সঞ্চালনে প্রভাব ফেলে। এতে হাত-পা ঠান্ডা হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি

১. হাত-পা সব সময় বরফের মতো ঠান্ডা থাকলে

২. আঙুলের রং সাদা বা নীল হয়ে গেলে

৩. ঝিনঝিন, অবশ ভাব, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা থাকলে

৪. অতিরিক্ত ক্লান্তি বা মাথাঘোরা থাকলে

৫. ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের ইতিহাস থাকলে

নিয়মিত করণীয়

১.গরম পানিতে হাত-পা ভিজানো।

২. পর্যাপ্ত পানি পান ও সুষম খাবার।

৩. ভিটামিন ই, আয়রন, ফলেটসমৃদ্ধ খাদ্য।

৪. ধূমপান ও অতিরিক্ত চা/কফি কমানো।

শেষকথা

ডা. আফলাতুন জাহান বলেন, হাত-পা ঠান্ডা হওয়া হালকা সমস্যা মনে হলেও এর পেছনে থাকা রোগগুলো অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত, প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

শীতকালে ভোরে ঘুম থেকে ওঠা কঠিন কেন?

হাত-পা হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে আসে, এটি কীসের লক্ষণ?

আপডেট সময় ১১:৩১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

শীত এলেই অনেকের হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে আসেভোর বা সন্ধ্যার দিকে তো সমস্যা আরও প্রকট হয়মফস্বল, সীমান্ত কিংবা নদীবিধৌত অঞ্চলে বসবাসকারীরাসময় যেন নিত্যদিনের সঙ্গী করে নেন এই অস্বস্তিকে।

তবে প্রশ্ন হলো, শুধু আবহাওয়ার কারণে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কতটা স্বাভাবিক? আর যদি বছরের অন্য সময়েও হঠাৎ করে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে কিংবা সব সময়ই শরীরে ঠান্ডা অনুভূত হয়, তাহলে কি তা কোনো ভেতরকার রোগের সংকেত? বিষয়টি নিয়ে মানুষের মাঝে রয়েছে নানা ভুল ধারণা ও অজানা ভয়।

একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত নিবন্ধে এই ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা দিয়েছেন স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকার ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আফলাতুন আকতার জাহান।

চলুন তাহলে হাত-পা ঠান্ডা হওয়ার কারণগুলো জেনে নিই

রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়া

ডা. আফলাতুন আকতার জাহান বলেন, হাত-পা ঠান্ডা হওয়ার সবচেয়ে প্রধান কারণ রক্ত সঞ্চালন দুর্বল হওয়া। রক্তনালির মধ্যে রক্তপ্রবাহ কমে গেলে শরীরের দূরের অংশগুলো, যেমন হাত ও পা প্রথমে তাপ সরবরাহ কম পায়

সম্ভাব্য কারণ হতে পারে উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল ও হৃদ্‌রোগ বা হৃদ্‌যন্ত্রের দুর্বলতা।

অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা

শরীরে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে রক্তের অক্সিজেন বহনের ক্ষমতাও কমে যায়। এতে হাত-পা সহজেই ঠান্ডা হয়ে যায়। সঙ্গে থাকতে পারে ক্লান্তি, মাথাঘোরা, ফ্যাকাশে ত্বক।

থাইরয়েড হরমোন কমে যাওয়া বা হাইপোথাইরিডিজম

থাইরয়েড শরীরের মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণ করে। এই হরমোন কমে গেলে শরীর তাপ উৎপাদনও কম হয়; সঙ্গে ওজন বেড়ে যাওয়া, ঘুম ঘুম ভাব, চুল পড়া, ত্বক শুষ্ক হওয়ার মতো উপসর্গও থাকে।

ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি

ডায়াবেটিসের কারণে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাত-পায়ে ঝিনঝিন ভাব ও ঠান্ডা অনুভূতি দেখা দিতে পারে। সঙ্গে থাকতে পারে জ্বালাপোড়া ও সংবেদন কমে যাওয়া।

ভিটামিনের ঘাটতি

বিশেষ করে বি১২, আয়রন, ফলেট এগুলো কম থাকলে স্নায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে। রক্তশূন্যতাও তৈরি হতে পারে, যার ফলে হাত-পা ঠান্ডা লাগে।

ধূমপান বা অতিরিক্ত ক্যাফেইন

নিকোটিন ও ক্যাফেইন রক্তনালি সংকুচিত করে। ফলে রক্ত সঞ্চালন কমে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়

রেনোডস ডিজিজ

এটি একটি বিশেষ অবস্থা, যেখানে ঠান্ডা বা মানসিক চাপের কারণে হাত-পায়ের আঙুলের রক্তনালি হঠাৎ সংকুচিত হয়ে পড়ে। ফলে আঙুল সাদা বা নীলচে হয়ে যায় এবং খুব ঠান্ডা লাগে।

স্ট্রেস বা ঘুমের সমস্যা

স্ট্রেস হরমোন রক্ত সঞ্চালনে প্রভাব ফেলে। এতে হাত-পা ঠান্ডা হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি

১. হাত-পা সব সময় বরফের মতো ঠান্ডা থাকলে

২. আঙুলের রং সাদা বা নীল হয়ে গেলে

৩. ঝিনঝিন, অবশ ভাব, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা থাকলে

৪. অতিরিক্ত ক্লান্তি বা মাথাঘোরা থাকলে

৫. ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের ইতিহাস থাকলে

নিয়মিত করণীয়

১.গরম পানিতে হাত-পা ভিজানো।

২. পর্যাপ্ত পানি পান ও সুষম খাবার।

৩. ভিটামিন ই, আয়রন, ফলেটসমৃদ্ধ খাদ্য।

৪. ধূমপান ও অতিরিক্ত চা/কফি কমানো।

শেষকথা

ডা. আফলাতুন জাহান বলেন, হাত-পা ঠান্ডা হওয়া হালকা সমস্যা মনে হলেও এর পেছনে থাকা রোগগুলো অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত, প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481