ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo পাকিস্তানের অভিযোগ প্রত্যাখান করল ভারত Logo ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে ‘হামলার’ প্রতিবাদে কেএমপি দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ Logo জামায়াত কি ইসলামের ঠিকাদারি নিয়েছে : প্রশ্ন সালাহউদ্দিনের Logo হাসিনার বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করেছেন আল্লামা মামুনুল হক : হাসনাত আব্দুল্লাহ Logo নতুন ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ ছাড়ল ইনকিলাব মঞ্চ Logo ৫ বিষয়ে ভিত্তি করে বিএনপির ইশতেহার: মাহদী আমিন Logo চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত জনগণকে জানিয়ে নিতে হবে: ফরহাদ মজহার Logo আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ জামায়াতের Logo উন্মুক্ত মঞ্চে তারেক রহমানকে সরাসরি আলোচনার আমন্ত্রণ জামায়াত আমিরের Logo মিথ্যাচারের দাঁতভাঙা জবাব দেবে জনগণ: মির্জা আব্বাস

হাজারো হাফেজের মিলনমেলা, কুরআনের আলোয় আলোকিত এক শহর

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:১৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ৬২ বার পড়া হয়েছে

মিশরের গিজা প্রদেশের শান্ত শহর আল-সাফ। গত সপ্তাহান্তে শহরটি যেন রূপ নিয়েছিল এক আধ্যাত্মিক উৎসবে, যেখানে পবিত্রতার ছোঁয়া মিশে গিয়েছিল আনন্দ, গর্ব আর কৃতজ্ঞতার অশ্রুর সঙ্গে।

কুরআনের তিলাওয়াতের সুরে ভেসে উঠেছিল চারপাশের বাতাস, আর সেই সুরে যেন দুলছিল পুরো শহর এক উৎসব, এক ভালোবাসা, এক আলোকিত প্রজন্মের কণ্ঠে।

আল-গাম্মাজা আল-কুবরা গ্রামের ইসলামিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই মহিমান্বিত আয়োজনে সম্মানিত করা হয় এক হাজার ত্রিশ জন হাফেজে কুরআনকে। কুরআনের আলোয় বেড়ে ওঠা এই নবীন প্রজন্মকে ঘিরে উৎসবটি পরিণত হয়েছিল গিজা অঞ্চলের ইতিহাসে এক অনন্য স্মৃতিচিহ্নে। অনুষ্ঠানে যোগ দেন হাজারো মানুষ শিক্ষার্থী, অভিভাবক, আলেম, স্থানীয় সমাজনেতা, এমনকি সরকারি কর্মকর্তারাও।

মঞ্চে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল তিলাওয়াতের সুমধুর ধ্বনি, আর দর্শকদের চোখে-মুখে ফুটে উঠছিল গভীর প্রশান্তি। কেউ দাঁড়িয়ে চোখের পানি মুছছিলেন, কেউবা গর্বভরে তাকিয়ে ছিলেন সেই ছোট ছোট হাফেজদের দিকে যারা আল্লাহর বাণী নিজের হৃদয়ে ধারণ করেছে।

অনেক মা তাদের সন্তানদের বুকভরা ভালোবাসায় জড়িয়ে ধরেছিলেন, মাথায় পরেছিলেন বিশেষ মুকুট যার লেখা ছিল “প্রথম সহস্র হাফেজ প্রজন্মের প্রতীক”। দৃশ্যটি যেন এক জীবন্ত কবিতা, যেখানে ভালোবাসা, ঈমান ও আত্মত্যাগ একসাথে মিলেমিশে গেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট আলেম ও শিক্ষাবিদেরা। তারা বলেন, কুরআন মুখস্থ করা শুধু একটি ধর্মীয় অনুশীলন নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধির পথ, মানবতার দিশা। এই প্রজন্ম কুরআনকে শুধু উচ্চারণ করছে না, বরং জীবনের প্রতিটি রক্তধারায় ধারণ করছে।

স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, আল-সাফের এই ঐতিহাসিক আয়োজন সমাজে নৈতিক জাগরণ সৃষ্টি করেছে, এখানকার পরিবারগুলো আজ গর্বিত, কারণ তাদের সন্তানরা কুরআনের হেফাজতকারীতে পরিণত হয়েছে।

গিজার মানুষদের চোখে-মুখে ছিল এক অদ্ভুত তৃপ্তি যেন শত বছরের স্বপ্নের পূর্ণতা। যখন সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ছিল, তখনো মঞ্চের আলো নিভছিল না। শিশুরা কণ্ঠে তুলেছিল কুরআনের আয়াত, আর আকাশ জুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল আল্লাহর পবিত্র নাম।

সেই রাতটি আর পাঁচটা রাতের মতো ছিল না। এটি ছিল এমন এক রাত, যখন একটি শহর কুরআনের আলোয় সত্যিই আলোকিত হয়ে উঠেছিল। আল-সাফের মানুষ যেন সেদিন বলেছিল যে সমাজ কুরআনকে হৃদয়ে ধারণ করে, তার অন্ধকার আর থাকে না

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানের অভিযোগ প্রত্যাখান করল ভারত

হাজারো হাফেজের মিলনমেলা, কুরআনের আলোয় আলোকিত এক শহর

আপডেট সময় ১১:১৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

মিশরের গিজা প্রদেশের শান্ত শহর আল-সাফ। গত সপ্তাহান্তে শহরটি যেন রূপ নিয়েছিল এক আধ্যাত্মিক উৎসবে, যেখানে পবিত্রতার ছোঁয়া মিশে গিয়েছিল আনন্দ, গর্ব আর কৃতজ্ঞতার অশ্রুর সঙ্গে।

কুরআনের তিলাওয়াতের সুরে ভেসে উঠেছিল চারপাশের বাতাস, আর সেই সুরে যেন দুলছিল পুরো শহর এক উৎসব, এক ভালোবাসা, এক আলোকিত প্রজন্মের কণ্ঠে।

আল-গাম্মাজা আল-কুবরা গ্রামের ইসলামিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই মহিমান্বিত আয়োজনে সম্মানিত করা হয় এক হাজার ত্রিশ জন হাফেজে কুরআনকে। কুরআনের আলোয় বেড়ে ওঠা এই নবীন প্রজন্মকে ঘিরে উৎসবটি পরিণত হয়েছিল গিজা অঞ্চলের ইতিহাসে এক অনন্য স্মৃতিচিহ্নে। অনুষ্ঠানে যোগ দেন হাজারো মানুষ শিক্ষার্থী, অভিভাবক, আলেম, স্থানীয় সমাজনেতা, এমনকি সরকারি কর্মকর্তারাও।

মঞ্চে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল তিলাওয়াতের সুমধুর ধ্বনি, আর দর্শকদের চোখে-মুখে ফুটে উঠছিল গভীর প্রশান্তি। কেউ দাঁড়িয়ে চোখের পানি মুছছিলেন, কেউবা গর্বভরে তাকিয়ে ছিলেন সেই ছোট ছোট হাফেজদের দিকে যারা আল্লাহর বাণী নিজের হৃদয়ে ধারণ করেছে।

অনেক মা তাদের সন্তানদের বুকভরা ভালোবাসায় জড়িয়ে ধরেছিলেন, মাথায় পরেছিলেন বিশেষ মুকুট যার লেখা ছিল “প্রথম সহস্র হাফেজ প্রজন্মের প্রতীক”। দৃশ্যটি যেন এক জীবন্ত কবিতা, যেখানে ভালোবাসা, ঈমান ও আত্মত্যাগ একসাথে মিলেমিশে গেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট আলেম ও শিক্ষাবিদেরা। তারা বলেন, কুরআন মুখস্থ করা শুধু একটি ধর্মীয় অনুশীলন নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধির পথ, মানবতার দিশা। এই প্রজন্ম কুরআনকে শুধু উচ্চারণ করছে না, বরং জীবনের প্রতিটি রক্তধারায় ধারণ করছে।

স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, আল-সাফের এই ঐতিহাসিক আয়োজন সমাজে নৈতিক জাগরণ সৃষ্টি করেছে, এখানকার পরিবারগুলো আজ গর্বিত, কারণ তাদের সন্তানরা কুরআনের হেফাজতকারীতে পরিণত হয়েছে।

গিজার মানুষদের চোখে-মুখে ছিল এক অদ্ভুত তৃপ্তি যেন শত বছরের স্বপ্নের পূর্ণতা। যখন সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ছিল, তখনো মঞ্চের আলো নিভছিল না। শিশুরা কণ্ঠে তুলেছিল কুরআনের আয়াত, আর আকাশ জুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল আল্লাহর পবিত্র নাম।

সেই রাতটি আর পাঁচটা রাতের মতো ছিল না। এটি ছিল এমন এক রাত, যখন একটি শহর কুরআনের আলোয় সত্যিই আলোকিত হয়ে উঠেছিল। আল-সাফের মানুষ যেন সেদিন বলেছিল যে সমাজ কুরআনকে হৃদয়ে ধারণ করে, তার অন্ধকার আর থাকে না


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481