ঢাকা ০২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধানের পদত্যাগের দবিতে বিক্ষোভ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৫৭:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০২ বার পড়া হয়েছে

রাজধানী কুয়ালালামপুর শহরের কেন্দ্রস্থলে কালো পোশাক পরিহিত একদল বিক্ষোভকারী সমবেত হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (এমএসি‌সি)–এর প্রধান কমিশনার আজম বাকি এর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তিনি বর্তমানে শেয়ার মালিকানা সংক্রান্ত একটি বিতর্কে জড়িয়ে রয়েছেন।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারপন্থী সংগঠন বারসিহ–এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, বিতর্কের বিষয়ে সরকারের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত নরম এবং আজম বাকির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী রাফিজি রামলী। তিনি বক্তব্যে বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভই বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে।

কালো পোশাক পরে সংহতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, আপনারা বলেন আমরা অভিযোগ করি, সমালোচনা করি। কিন্তু ক্ষমতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ২২ বছরের এই প্রতিবাদই আপনাকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের কালো পোশাক তাদের দৃষ্টিতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের গভীর পচন ও জোট সরকারের সংস্কারবাদী ভাবমূর্তির ওপর হুমকির প্রতীক।

আজম বাকির বিরুদ্ধে জনসমালোচনা তীব্র হয় যখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৫ সালে তিনি সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যের শেয়ার ধারণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ ১ লাখ রিঙ্গিত (ক্রয়ের সময়কার মূল্য) অথবা কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধনের ৫ শতাংশ—যেটি কম—এর বেশি শেয়ার রাখতে পারেন না।

রাফিজিসহ কয়েকজন সংসদ সদস্য বলেন, এই অভিযোগ এমএসি‌সির ভাবমূর্তিতে গুরুতর দাগ ফেলেছে, কারণ সংস্থাটির প্রধান দায়িত্বই হলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা।

অভিযোগ অস্বীকার করে আজম বাকি মামলা দায়ের করেছেন এবং দাবি করেছেন তিনি কোনো আইন ভঙ্গ করেননি। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন প্রকাশের পর গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স তদন্ত শুরু করলেও তিনি তদন্তকালীন ছুটিতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

সেতিয়াওয়াংসা আসনের সংসদ সদস্য নাইক নাজমি নাইক আহমেদ, যিনি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাবেক মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন, বলেন—২০২২ সালেও একই কারণে একটি সমাবেশ হয়েছিল, যেখানে আনোয়ার ইব্রাহিম নিজেও অংশ নিয়েছিলেন। তখন প্রথমবারের মতো আজমের শেয়ার মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

নিক নাজমি বলেন, দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাকে অবশ্যই প্রভাবমুক্ত থাকতে হবে। আজ আমাদের হাতে ক্ষমতা আছে, কিন্তু পরিবর্তন না আনতে পারলে সেই ক্ষমতার অর্থ কী? তিনি এমএসি‌সিতে সংস্কারের আহ্বান জানান।

রাফিজি, নিক নাজমি এবং পার্টি কাদিলান রাকায়াত (পিকেআর)–এর আরও ছয়জন সংসদ সদস্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, বিশেষ টাস্কফোর্সের তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে এমন অভিযোগও খতিয়ে দেখতে—যেখানে বলা হয়েছে, একদল ব্যবসায়ী এমএসি‌সিকে ব্যবহার করে কোম্পানি মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মালিকানা ছাড়তে বাধ্য করছে।

ব্লুমবার্গ তাদের প্রতিবেদনে এমএসি‌সি ও পুলিশের সূত্র উদ্ধৃত করে এসব অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরে। তবে কমিশন এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনায় আশাবাদী হোয়াইট হাউস

মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধানের পদত্যাগের দবিতে বিক্ষোভ

আপডেট সময় ০১:৫৭:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানী কুয়ালালামপুর শহরের কেন্দ্রস্থলে কালো পোশাক পরিহিত একদল বিক্ষোভকারী সমবেত হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (এমএসি‌সি)–এর প্রধান কমিশনার আজম বাকি এর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তিনি বর্তমানে শেয়ার মালিকানা সংক্রান্ত একটি বিতর্কে জড়িয়ে রয়েছেন।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারপন্থী সংগঠন বারসিহ–এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, বিতর্কের বিষয়ে সরকারের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত নরম এবং আজম বাকির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী রাফিজি রামলী। তিনি বক্তব্যে বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভই বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে।

কালো পোশাক পরে সংহতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, আপনারা বলেন আমরা অভিযোগ করি, সমালোচনা করি। কিন্তু ক্ষমতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ২২ বছরের এই প্রতিবাদই আপনাকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের কালো পোশাক তাদের দৃষ্টিতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের গভীর পচন ও জোট সরকারের সংস্কারবাদী ভাবমূর্তির ওপর হুমকির প্রতীক।

আজম বাকির বিরুদ্ধে জনসমালোচনা তীব্র হয় যখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৫ সালে তিনি সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যের শেয়ার ধারণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ ১ লাখ রিঙ্গিত (ক্রয়ের সময়কার মূল্য) অথবা কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধনের ৫ শতাংশ—যেটি কম—এর বেশি শেয়ার রাখতে পারেন না।

রাফিজিসহ কয়েকজন সংসদ সদস্য বলেন, এই অভিযোগ এমএসি‌সির ভাবমূর্তিতে গুরুতর দাগ ফেলেছে, কারণ সংস্থাটির প্রধান দায়িত্বই হলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা।

অভিযোগ অস্বীকার করে আজম বাকি মামলা দায়ের করেছেন এবং দাবি করেছেন তিনি কোনো আইন ভঙ্গ করেননি। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন প্রকাশের পর গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স তদন্ত শুরু করলেও তিনি তদন্তকালীন ছুটিতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

সেতিয়াওয়াংসা আসনের সংসদ সদস্য নাইক নাজমি নাইক আহমেদ, যিনি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাবেক মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন, বলেন—২০২২ সালেও একই কারণে একটি সমাবেশ হয়েছিল, যেখানে আনোয়ার ইব্রাহিম নিজেও অংশ নিয়েছিলেন। তখন প্রথমবারের মতো আজমের শেয়ার মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

নিক নাজমি বলেন, দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাকে অবশ্যই প্রভাবমুক্ত থাকতে হবে। আজ আমাদের হাতে ক্ষমতা আছে, কিন্তু পরিবর্তন না আনতে পারলে সেই ক্ষমতার অর্থ কী? তিনি এমএসি‌সিতে সংস্কারের আহ্বান জানান।

রাফিজি, নিক নাজমি এবং পার্টি কাদিলান রাকায়াত (পিকেআর)–এর আরও ছয়জন সংসদ সদস্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, বিশেষ টাস্কফোর্সের তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে এমন অভিযোগও খতিয়ে দেখতে—যেখানে বলা হয়েছে, একদল ব্যবসায়ী এমএসি‌সিকে ব্যবহার করে কোম্পানি মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মালিকানা ছাড়তে বাধ্য করছে।

ব্লুমবার্গ তাদের প্রতিবেদনে এমএসি‌সি ও পুলিশের সূত্র উদ্ধৃত করে এসব অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরে। তবে কমিশন এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছ।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481