ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শাকসু নির্বাচন স্থগিত : কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারি শিক্ষার্থীদের Logo শান্তিতে নোবেল জয়ী মাচাদোর সঙ্গে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প Logo প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ: ‘প্রশ্নফাঁসের বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রমাণ মেলেনি, শিগগির ফল প্রকাশ’ Logo পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে করাচিতে বিক্ষোভ Logo সরকারপন্থী মিছিল ‘বিদেশি শত্রুদের পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে’: খামেনি Logo ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ মানে শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র খর্ব: ভিপি সাদিক কায়েম Logo মুক্তাগাছায় জাতীয় পার্টির ২ শতাধিক নেতার বিএনপিতে যোগদান Logo পূর্ণিমা বললেন, ‘সবকিছুর জন্য আলহামদুলিল্লাহ’ Logo ৭ মাসেই বরখাস্ত আলোনসো, রিয়ালের নতুন কোচ আরবেলোয়া Logo মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আগুন ৫ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি

মামদানির একগুচ্ছ নির্বাহী আদেশ জারি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৪১:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও ধনী শহর নিউইয়র্কের নতুন মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন জোহরান মামদানি। ২০২৬ সালের প্রথম দিনেই ঐতিহাসিক এবং ব্যতিক্রমী এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি শহরের আবাসন সংকট মোকাবিলায় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে একগুচ্ছ নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন।

আজ ২ জানুয়ারি (শুক্রবার) আল জাজিরা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মামদানি তার অভিষেক ভাষণেই ধনীদের ওপর উচ্চহারে কর আরোপ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ‘আমরা আর দেরি করব না’—এই ঘোষণা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তার প্রশাসন প্রগতিশীল পরিবর্তনের পথে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে।

শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল নববর্ষের প্রথম প্রহরে নিউইয়র্ক সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনের একটি ঐতিহাসিক ট্রানজিট হাবে, যা ১৯৪৫ সাল থেকে বন্ধ ছিল। সেখানে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিয়া জেমস তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এরপর দিনের বেলা সিটি হলের সিঁড়িতে এক বিশাল গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, কনকনে শীত উপেক্ষা করে লাখো মানুষ এই উদযাপনে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে ভার্মন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ উপস্থিত ছিলেন। স্যান্ডার্স তার বক্তব্যে বলেন যে, ‘শ্রমজীবী মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে অসাধ্য সাধন সম্ভব’ এবং মামদানিকে শপথ পাঠ করানোর সময় জনতা ‘ধনীদের ওপর কর আরোপ কর’ স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলে।

মামদানির নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রধান স্তম্ভ ছিল কর সংস্কার এবং আবাসন সুরক্ষা। তিনি নিউইয়র্কের কর্পোরেট কর ৭.২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন এবং বছরে ১০ লাখ ডলারের বেশি আয়কারীদের ওপর কর বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপটি এসেছে শপথের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। ব্রুকলিনের একটি ভবনে দাঁড়িয়ে তিনি আবাসন সংক্রান্ত তিনটি নির্বাহী আদেশ ঘোষণা করেন।

এর মধ্যে রয়েছে শহরের মালিকানাধীন জমি আবাসনের জন্য চিহ্নিত করতে একটি টাস্কফোর্স গঠন এবং ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টগুলোর ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধের উদ্যোগ। ডেপুটি মেয়র লেইলা বোর্জর্গ আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন যে, আবাসন সংকটই নিউইয়র্কের মূল সমস্যা এবং তারা খারাপ বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর।

এই অভিষেক অনুষ্ঠানটি কেবল রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং এটি ছিল শহরের বৈচিত্র্যের প্রতিফলন। ইংরেজি, স্প্যানিশ, হিব্রু ও গ্রিক ভাষায় বক্তব্য প্রদানের পাশাপাশি সেখানে ইসলাম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতি এক ঐক্যের বার্তা দিয়েছে। মামদানি তার ভাষণে বলেন যে, তার এই আন্দোলন এসেছে সাধারণ মানুষের ট্যাক্সি গ্যারেজ, আমাজন গুদাম এবং রাজপথের আড্ডা থেকে।

ডেমোক্রেটিক কৌশলবিদ নোমিকি কনস্টের মতে, এই বিশাল ব্লক পার্টি বা গণশপথ ছিল সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষমতার বদ্ধ দুয়ার খুলে দেওয়ার একটি প্রতীক। মামদানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তার প্রশাসন ব্যক্তিগত স্বার্থের বদলে সমষ্টিগত উষ্ণতা দিয়ে শহর পরিচালনা করবে এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিউইয়র্ককে আরও বাসযোগ্য করে তুলবে। সূত্র: আল জাজিরা

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

শাকসু নির্বাচন স্থগিত : কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারি শিক্ষার্থীদের

মামদানির একগুচ্ছ নির্বাহী আদেশ জারি

আপডেট সময় ০৬:৪১:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও ধনী শহর নিউইয়র্কের নতুন মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন জোহরান মামদানি। ২০২৬ সালের প্রথম দিনেই ঐতিহাসিক এবং ব্যতিক্রমী এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি শহরের আবাসন সংকট মোকাবিলায় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে একগুচ্ছ নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন।

আজ ২ জানুয়ারি (শুক্রবার) আল জাজিরা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মামদানি তার অভিষেক ভাষণেই ধনীদের ওপর উচ্চহারে কর আরোপ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ‘আমরা আর দেরি করব না’—এই ঘোষণা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তার প্রশাসন প্রগতিশীল পরিবর্তনের পথে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে।

শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল নববর্ষের প্রথম প্রহরে নিউইয়র্ক সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনের একটি ঐতিহাসিক ট্রানজিট হাবে, যা ১৯৪৫ সাল থেকে বন্ধ ছিল। সেখানে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিয়া জেমস তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এরপর দিনের বেলা সিটি হলের সিঁড়িতে এক বিশাল গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, কনকনে শীত উপেক্ষা করে লাখো মানুষ এই উদযাপনে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে ভার্মন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ উপস্থিত ছিলেন। স্যান্ডার্স তার বক্তব্যে বলেন যে, ‘শ্রমজীবী মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে অসাধ্য সাধন সম্ভব’ এবং মামদানিকে শপথ পাঠ করানোর সময় জনতা ‘ধনীদের ওপর কর আরোপ কর’ স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলে।

মামদানির নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রধান স্তম্ভ ছিল কর সংস্কার এবং আবাসন সুরক্ষা। তিনি নিউইয়র্কের কর্পোরেট কর ৭.২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন এবং বছরে ১০ লাখ ডলারের বেশি আয়কারীদের ওপর কর বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপটি এসেছে শপথের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। ব্রুকলিনের একটি ভবনে দাঁড়িয়ে তিনি আবাসন সংক্রান্ত তিনটি নির্বাহী আদেশ ঘোষণা করেন।

এর মধ্যে রয়েছে শহরের মালিকানাধীন জমি আবাসনের জন্য চিহ্নিত করতে একটি টাস্কফোর্স গঠন এবং ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টগুলোর ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধের উদ্যোগ। ডেপুটি মেয়র লেইলা বোর্জর্গ আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন যে, আবাসন সংকটই নিউইয়র্কের মূল সমস্যা এবং তারা খারাপ বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর।

এই অভিষেক অনুষ্ঠানটি কেবল রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং এটি ছিল শহরের বৈচিত্র্যের প্রতিফলন। ইংরেজি, স্প্যানিশ, হিব্রু ও গ্রিক ভাষায় বক্তব্য প্রদানের পাশাপাশি সেখানে ইসলাম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতি এক ঐক্যের বার্তা দিয়েছে। মামদানি তার ভাষণে বলেন যে, তার এই আন্দোলন এসেছে সাধারণ মানুষের ট্যাক্সি গ্যারেজ, আমাজন গুদাম এবং রাজপথের আড্ডা থেকে।

ডেমোক্রেটিক কৌশলবিদ নোমিকি কনস্টের মতে, এই বিশাল ব্লক পার্টি বা গণশপথ ছিল সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষমতার বদ্ধ দুয়ার খুলে দেওয়ার একটি প্রতীক। মামদানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তার প্রশাসন ব্যক্তিগত স্বার্থের বদলে সমষ্টিগত উষ্ণতা দিয়ে শহর পরিচালনা করবে এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিউইয়র্ককে আরও বাসযোগ্য করে তুলবে। সূত্র: আল জাজিরা


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481