ঢাকা ১১:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শ্বশুরবাড়ি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন তারেক রহমান Logo নির্বাচন ও গণভোটে ১৪ সদস্যের পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে কমনওয়েলথ Logo ক্রিকেটারদের সঙ্গে আজ জরুরি বৈঠক করবেন ক্রীড়া উপদেষ্টা Logo নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ঢাকায় আসছে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৭ সদস্য Logo গাজা ‘শান্তি পর্ষদে’ থাকছে আমিরাত, সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর, জর্দান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও কাতার Logo পানির ট্যাংক থেকে শিশু ননদের মরদেহ উদ্ধার, ভাবি গ্রেপ্তার Logo বিএনপির নির্বাচনি থিম সং প্রকাশ Logo সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন মারা গেছেন Logo আমার মিছিলে কোনো কিশোর গ্যাং থাকবে না: সাঈদ আল নোমান Logo নিউ ইয়র্কে টেক্সওয়ার্ল্ডে ১৫ প্রদর্শক নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশ

মাদুরো যেভাবে ব্যর্থ করছেন ভবিষ্যদ্বাণী

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:১৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বহু বছর ধরে তাঁর সমালোচকদের ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণ করে ক্ষমতায় টিকে আছেন। তিনি প্রায়ই উদ্ভট বক্তব্য দেন। তাঁর সিদ্ধান্তকে অনেকে উপহাস করে ‘মাদুরাদাস’ বলেন। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রয়াত নেতা হুগো শ্যাভেজ একটি পাখি ও প্রজাপতির রূপে তাঁর কাছে এসেছিলেন। সিএনএনের এই বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মাদুরোর টিকে থাকার কৌশল।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে শ্যাভেজ যখন গুরুতর অসুস্থ, তখন তিনি মাদুরোকে উত্তরসূরি ঘোষণা করেন। তাঁকে ‘শ্যাভেজের সন্তান’ উপাধি দেন। মাদুরো রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন বাসচালক এবং ইউনিয়ন নেতা হিসেবে। তিনি শ্যাভেজের প্রতি সর্বদা অনুগত ছিলেন এবং ‘ভালো দ্বিতীয়’ নেতা হিসেবে পরিচিতি পান।

২০১৩ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তিনি ১২ বছর লাতিন আমেরিকার দীর্ঘতম সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট। বছরের পর বছর ধরে তিনি নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা, বিক্ষোভ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অভ্যুত্থানের চেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা সত্ত্বেও টিকে আছেন।

মাদুরো তাঁর ক্ষমতা ধরে রাখতে এক জটিল কৌশল ব্যবহার করেছেন। ২০১৯ সালের এপ্রিলে বিরোধীদের অভ্যুত্থানের চেষ্টা কিউবার নিরাপত্তা পরিষেবার সহায়তায় দমন করা সম্ভব হয়েছিল। তিনি ক্ষমতায় থাকার জন্য চীন, রাশিয়া এবং ইরানের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর নির্ভর করেন।

দেশে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের পাশাপাশি ভিন্নমতের ওপর কঠোর দমনপীড়ন চালান। এ ছাড়া সশস্ত্র আধা সামরিক গোষ্ঠী ‘কোলেক্টিভোস’-এর মাধ্যমে তিনি অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা ধরে রাখেন।

মাদুরো ক্ষমতা ধরে রাখায় ভেনেজুয়েলার জনগণকে অনেক বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে। তাঁর শাসনামলে দেশটির অর্থনীতির ৭২ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্য এবং সংকটের কারণে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহলে ভেনেজুয়েলা গণতান্ত্রিক বৈধতা হারিয়েছে।

বর্তমানে মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র তাঁর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে নৌ ও বিমান অবরোধ আরোপ করেছে। মাদুরো আবার ভবিষ্যদ্বাণী ব্যর্থ করে চাপ মোকাবিলা করার চেষ্টা করছেন। তিনি কি এবারও সফল হবেন?

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

শ্বশুরবাড়ি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন তারেক রহমান

মাদুরো যেভাবে ব্যর্থ করছেন ভবিষ্যদ্বাণী

আপডেট সময় ০১:১৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বহু বছর ধরে তাঁর সমালোচকদের ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণ করে ক্ষমতায় টিকে আছেন। তিনি প্রায়ই উদ্ভট বক্তব্য দেন। তাঁর সিদ্ধান্তকে অনেকে উপহাস করে ‘মাদুরাদাস’ বলেন। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রয়াত নেতা হুগো শ্যাভেজ একটি পাখি ও প্রজাপতির রূপে তাঁর কাছে এসেছিলেন। সিএনএনের এই বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মাদুরোর টিকে থাকার কৌশল।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে শ্যাভেজ যখন গুরুতর অসুস্থ, তখন তিনি মাদুরোকে উত্তরসূরি ঘোষণা করেন। তাঁকে ‘শ্যাভেজের সন্তান’ উপাধি দেন। মাদুরো রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন বাসচালক এবং ইউনিয়ন নেতা হিসেবে। তিনি শ্যাভেজের প্রতি সর্বদা অনুগত ছিলেন এবং ‘ভালো দ্বিতীয়’ নেতা হিসেবে পরিচিতি পান।

২০১৩ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তিনি ১২ বছর লাতিন আমেরিকার দীর্ঘতম সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট। বছরের পর বছর ধরে তিনি নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা, বিক্ষোভ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অভ্যুত্থানের চেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা সত্ত্বেও টিকে আছেন।

মাদুরো তাঁর ক্ষমতা ধরে রাখতে এক জটিল কৌশল ব্যবহার করেছেন। ২০১৯ সালের এপ্রিলে বিরোধীদের অভ্যুত্থানের চেষ্টা কিউবার নিরাপত্তা পরিষেবার সহায়তায় দমন করা সম্ভব হয়েছিল। তিনি ক্ষমতায় থাকার জন্য চীন, রাশিয়া এবং ইরানের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর নির্ভর করেন।

দেশে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের পাশাপাশি ভিন্নমতের ওপর কঠোর দমনপীড়ন চালান। এ ছাড়া সশস্ত্র আধা সামরিক গোষ্ঠী ‘কোলেক্টিভোস’-এর মাধ্যমে তিনি অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা ধরে রাখেন।

মাদুরো ক্ষমতা ধরে রাখায় ভেনেজুয়েলার জনগণকে অনেক বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে। তাঁর শাসনামলে দেশটির অর্থনীতির ৭২ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্য এবং সংকটের কারণে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহলে ভেনেজুয়েলা গণতান্ত্রিক বৈধতা হারিয়েছে।

বর্তমানে মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র তাঁর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে নৌ ও বিমান অবরোধ আরোপ করেছে। মাদুরো আবার ভবিষ্যদ্বাণী ব্যর্থ করে চাপ মোকাবিলা করার চেষ্টা করছেন। তিনি কি এবারও সফল হবেন?


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481