ঢাকা ০৩:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

ভারতকে বাদ দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় ইন্টারনেট আনছে বাংলাদেশ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৪১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২২১ বার পড়া হয়েছে

পিএনএস ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথে ভারতের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে বাংলাদেশ। ক্রমবর্ধমান ইন্টারনেটের চাহিদা মেটানো এবং মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার এখন সরাসরি সাবমেরিন কেবল সংযোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

এরই অংশ হিসেবে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন কেবল সংযোগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং নতুন আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বর্তমানে দেশের মোট ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ চাহিদার প্রায় অর্ধেক পূরণ করছে রাষ্ট্রায়ত্ত দুটি সাবমেরিন কেবল। বাকি অংশ আমদানি করতে হয় ভারত থেকে স্থলভিত্তিক সংযোগের মাধ্যমে। এতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছিল।

প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের মতে, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সাবমেরিন কেবল কনসোর্টিয়ামে যুক্ত করা গেলে বছরে প্রায় ২৪ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সরকার ইতোমধ্যে তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সাবমেরিন কেবল স্থাপন ও পরিচালনার লাইসেন্স দিয়েছে।

বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত সাবমেরিন কেবলের মধ্যে প্রথমটির মেয়াদ দুই বছরের মধ্যে শেষ হচ্ছে। অন্যদিকে দ্বিতীয়টির মেয়াদ থাকলেও বাড়তি চাহিদার কারণে এর সক্ষমতা নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বড় ধরনের ব্যান্ডউইথ সংকটের ঝুঁকি রয়েছে।

প্রযুক্তিবিদ আমিনুল হাকিম জানান, ২০২৬ সালে তৃতীয় সাবমেরিন কেবল ‘এসএমডব্লিউ-৬’ কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই দুই বছর সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময়। এই শূন্যতা পূরণ করতেই বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আনা হয়েছে।

লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, তারা ২০২৩ সালের মাঝামাঝি কিংবা ২০২৪ সালের শুরুতেই সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা চালু করতে চায়।

এ লক্ষ্যে ভারত ছাড়াও জাপান ও সিঙ্গাপুর ভিত্তিক একাধিক আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ আমদানির প্রয়োজন উল্লেখযোগ্য ভাবে কমবে।

তবে শুধু আন্তর্জাতিক সংযোগ নয়, দেশের ভেতরে ব্যান্ডউইথ বিতরণ ও তৃণমূল পর্যায়ে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডাররা।

আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, টেকসই ইন্টারনেট ব্যবস্থার জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ প্রথমবার আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কেবল কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হয় ২০০৬ সালে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

ভারতকে বাদ দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় ইন্টারনেট আনছে বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০৬:৪১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

পিএনএস ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথে ভারতের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে বাংলাদেশ। ক্রমবর্ধমান ইন্টারনেটের চাহিদা মেটানো এবং মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার এখন সরাসরি সাবমেরিন কেবল সংযোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

এরই অংশ হিসেবে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন কেবল সংযোগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং নতুন আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বর্তমানে দেশের মোট ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ চাহিদার প্রায় অর্ধেক পূরণ করছে রাষ্ট্রায়ত্ত দুটি সাবমেরিন কেবল। বাকি অংশ আমদানি করতে হয় ভারত থেকে স্থলভিত্তিক সংযোগের মাধ্যমে। এতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছিল।

প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের মতে, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সাবমেরিন কেবল কনসোর্টিয়ামে যুক্ত করা গেলে বছরে প্রায় ২৪ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সরকার ইতোমধ্যে তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সাবমেরিন কেবল স্থাপন ও পরিচালনার লাইসেন্স দিয়েছে।

বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত সাবমেরিন কেবলের মধ্যে প্রথমটির মেয়াদ দুই বছরের মধ্যে শেষ হচ্ছে। অন্যদিকে দ্বিতীয়টির মেয়াদ থাকলেও বাড়তি চাহিদার কারণে এর সক্ষমতা নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বড় ধরনের ব্যান্ডউইথ সংকটের ঝুঁকি রয়েছে।

প্রযুক্তিবিদ আমিনুল হাকিম জানান, ২০২৬ সালে তৃতীয় সাবমেরিন কেবল ‘এসএমডব্লিউ-৬’ কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই দুই বছর সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময়। এই শূন্যতা পূরণ করতেই বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আনা হয়েছে।

লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, তারা ২০২৩ সালের মাঝামাঝি কিংবা ২০২৪ সালের শুরুতেই সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা চালু করতে চায়।

এ লক্ষ্যে ভারত ছাড়াও জাপান ও সিঙ্গাপুর ভিত্তিক একাধিক আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ আমদানির প্রয়োজন উল্লেখযোগ্য ভাবে কমবে।

তবে শুধু আন্তর্জাতিক সংযোগ নয়, দেশের ভেতরে ব্যান্ডউইথ বিতরণ ও তৃণমূল পর্যায়ে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডাররা।

আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, টেকসই ইন্টারনেট ব্যবস্থার জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ প্রথমবার আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কেবল কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হয় ২০০৬ সালে।