ঢাকা ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শ্বশুরবাড়ি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন তারেক রহমান Logo নির্বাচন ও গণভোটে ১৪ সদস্যের পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে কমনওয়েলথ Logo ক্রিকেটারদের সঙ্গে আজ জরুরি বৈঠক করবেন ক্রীড়া উপদেষ্টা Logo নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ঢাকায় আসছে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৭ সদস্য Logo গাজা ‘শান্তি পর্ষদে’ থাকছে আমিরাত, সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর, জর্দান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও কাতার Logo পানির ট্যাংক থেকে শিশু ননদের মরদেহ উদ্ধার, ভাবি গ্রেপ্তার Logo বিএনপির নির্বাচনি থিম সং প্রকাশ Logo সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন মারা গেছেন Logo আমার মিছিলে কোনো কিশোর গ্যাং থাকবে না: সাঈদ আল নোমান Logo নিউ ইয়র্কে টেক্সওয়ার্ল্ডে ১৫ প্রদর্শক নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সোসাইটির ৫০ বছরপূর্তি উৎসব আভিজাত্যের মোড়কে ‘অগোছালো’ আয়োজন

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:৩০:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

নিউইয়র্কে অভিজাত ব্যাঙ্কুয়েট হল ‘টেরেস অন দ্য পার্ক’-এ অনুষ্ঠিত হলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির ৫০ বছরপূর্তি উৎসব। প্রায় ১০০০ প্রবাসী বাংলাদেশি এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে বাংলাদেশিদের মিলনমেলায় পরিণত হয় অনুষ্ঠানটি। তবে- আভিজাত্যের মোড়কে অনেকটাই ‘অগোছালো’ ছিল আয়োজনটি। অনুষ্ঠানে সোসাইটির কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার ঘাটতি ছিল না। কিন্তু বড় একটি আয়োজনে পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল চোখে পড়ার মত। মাঝপথে অনুষ্ঠানটি খেই হারিয়ে ফেলে। আগে অনুষ্ঠিত সোসাইটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সঙ্গে তুলনা করলে খুব বেশী পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যাবে না।
বর্তমান কমিটির কর্মকর্তারা বিশেষ কৃতিত্বের দাবি রাখেন- বিগত ৫০ বছরে সোসাইটির নেতৃত্বদানকারী সাবেক কর্মকর্তাদের একমঞ্চে হাজির করতে সক্ষম হয়েছিলেন তারা। একইসঙ্গে বেশকিছু নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করেছিলেন এই উৎসবে। অনুষ্ঠানস্থল ও সাজসজ্জা উপস্থিত সবার কাছে প্রশংসিত হয়েছে। সুন্দর ও তথ্যবহুল একটি স্মরণিকা প্রকাশিত হয়েছে। মঞ্চের পরিবেশনা নিয়ে হয়তো পরিকল্পনাও ছিল।
কিন্তু কতিপয় কর্মকর্তার মাইক নিয়ে অতিকথনে অনুষ্ঠানের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। ফলে রাতের খাবার খেয়ে বেশিরভাগ প্রবাসী বাংলাদেশি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। মেষ মুর্হূর্তে উপস্থিতি কম থাকলেও মঞ্চের গুণী শিল্পীদের সঙ্গীত পরিবেশনা উৎসবের প্রাণ ফিরিয়ে এনেছিল।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ছিল পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত। এরপর ছিল গীতা পাঠ। বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত
পরিবেশনের পর বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এই সংগঠনের প্রয়াত সকল কর্মকর্তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সংগঠনের কর্মকর্তা জামিল আনসারী।
জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘নৃত্যাঞ্জলি’র শিল্পীরা ‘আমি বাংলায় গান গাই’র সাথে উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে। স্বাগত বক্তব্য দেন সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের আহবায়ক এবং বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দিন দেওয়ান। এরপর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্যে ৬ ব্যক্তিকে ‘সোসাইটির অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। তারা হলেন সাংবাদিকতায় সৈয়দ মুহাম্মদ উল্লাহ, সমাজকর্মে জীবন উৎসর্গ করা কামাল আহমেদ (তার কন্যা রুমানা আহমেদ অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন), ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব সাইদুর রহমান ডন, সাংস্কৃতিক সংগঠক সেলিমা আশরাফ, শিক্ষা বিস্তারে মোশারফ হোসেন খান চৌধুরী, সংগঠক কাজী আজহারুল হক মিলন এবং বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির সন্তানদের টেকনিক্যাল শিক্ষায় শিক্ষিত করতে ২৫ বছর যাবত কর্মরত ‘দ্য অপ্টিমিস্টস’। সোসাইটির কর্মকর্তারা এসব অ্যাওয়ার্ড হস্তান্তর করেন।
নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি মেম্বার জেনিফার রাজকুমার বাংলাদেশ সোসাইটি এবং এর শীর্ষ কর্মকর্তাগণকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করেছেন কমিউনিটি সার্ভিসে অবদানের জন্যে। কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টের অফিস থেকেও সাইটেশন প্রদান করা হয় বিপুল করতালির মধ্যে।
সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের পরিপূরক হিসেবে নতুন প্রজন্মের চারজনের অনুভূতি ব্যক্ত করার পর্বটি সকলের দৃষ্টি কেড়েছিল। তারা যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে উঠলেও মা-বাবার ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সংস্কৃতি লালন ও বিকাশে কার্পণ্য করেন না বলে উল্লেখ করেন। বহুজাতিক এ সমাজে নিউইয়র্কের বাঙালিদের অবস্থান বিশেষভাবে সমাদৃত হয় বলে তারা সহকর্মী-বন্ধু-বান্ধবের সাথে কথা বলার সময় এক ধরনের অহংবোধে উজ্জীবিত হোন। তাদের মধ্যে ছিলেন হার্ভার্ড থেকে গ্র্যাজুয়েশন করা নামিরা মেহেদি এবং ভিক্টর ঘোষ, সেন্ট জোন্স ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসা-প্রশাসনে উচ্চতর ডিগ্রি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট হিসেবে গ্র্যাজুয়েশন করা আনিকা জেবা।
এরপর সাবেক সভাপতি ও সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি ডা. হামিদুজ্জামান বলেন, সোসাইটির কার্যকরী কমিটিতেও নতুন প্রজন্মের অন্তর্ভুক্তি ঘটাতে হবে। সদস্য হিসেবেও তারা যাতে অগ্রাধিকার পায় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। কারণ তারাই প্রথম প্রজন্মের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হবে। এরপরে প্রজন্মকে অত সহজে বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি আকৃষ্ট করা সহজ হবে না।
ডা. হামিদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটি আজ যেমন ঐক্যের প্রতীক, তেমনি এটি আগামী প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি আধুনিক, সাংষ্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা-যা প্রবাসে আমাদের স্থায়ী পরিচয়ের প্রতিক হয়ে থাকবে।
সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি ডা. মইনুল ইসলাম মিয়া বলেন, আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, গৌরবময় মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।
বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম বলেন, আসুন ঐক্য, ভালবাসা এবং দেশপ্রেমের শক্তিতে বাংলাদেশ সোসাইটিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাই আগামী প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল ও গর্বিত ভবিষ্যতের পথে।
বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সুবর্ণজয়ন্তীর এই ধারাকে নতুন প্রেরণার সূচনা এবং শতবর্ষ উদযাপনের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সোসাইটি সবসময়ই প্রবাসে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ রক্ষায় অগ্রণী ভ’মিকা পালন করে আসছে। আমি আন্তরিক অর্থেই বিশ্বাস করি নতুন প্রজন্ম এই ঐতিহ্য ধারণ করে আরো আধুনিক ও কার্যকর বাংলাদেশ সোসাইটি গড়ে তুলবে, যা শুধু প্রবাসে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশি কমিউনিটির মর্যাদা বৃদ্ধি করবে।
বাংলাদেশ সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ বলেন, ‘অর্ধ শতাব্দীর পথ পেরিয়ে আজ বাংলাদেশ সোসাইটি এমন এক অবস্থানে পৌছেছে, যা আমাদের সকলের গর্ব এবং ভালোবাসার প্রতিক। পঞ্চাশ বছরের এই যাত্রা শুধু একটি সংগঠনের নয়, এটি সকল প্রবাসীর সম্মিলিত সাফল্যের গল্প।’
বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর সহযোগিতায় সমগ্র অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন শারমিনা সিরাজ সোনিয়া।
বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনের স্মৃতিচারণ করেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার, সাবেক সভাপতি ডা. বিল্লাহ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. এম. শাহীন, ফোবানার চেয়ারপারসন এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য গিয়াস আহমেদ, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ও ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এ্যাট লার্জ এটর্নি মঈন চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটির আজীবন সদস্য ও মূলধারার রাজনীতিক আকতার হোসেন বাদল, বিএনপি নেতা মো. গিয়াস উদ্দিন, এম্পায়ার কেয়ার এজেন্সির সিইও নুরুল আজিম, মিডোব্রুকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আকিব হোসেন, আবাসন ব্যবসায়ী মোর্শেদা জামান প্রমুখ।
এ উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বাদশা বুলবুল, প্রতীক হাসান, কালা মিয়া, রানো নেওয়াজ, শাহ মাহবুব, অনিক রাজ, হাসান নীলু প্রমুখ।
৫০ বছরপূর্তি উৎসবকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘অগ্রপথিক’ নামে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। এটি সম্পাদনা করেছেন সাহিত্য সম্পাদক আখতার বাবুল। ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ।
৫০ বছরপূর্তি উৎসব সফল করতে সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ছাড়াও সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, সহ সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ভুইয়া, কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক ডিউক খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিক রাজ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক জামিল আনসারী, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক আশ্রাব আলী খান লিটন, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান জিলানী, কার্যকরী সদস্য হারুন অর রশিদ, জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মোহাম্মদ সিদ্দিক পাটোয়ারী, আবুল কাশেম চৌধুরী, মুনসুর আহমদ ও হাছান খান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

শ্বশুরবাড়ি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন তারেক রহমান

বাংলাদেশ সোসাইটির ৫০ বছরপূর্তি উৎসব আভিজাত্যের মোড়কে ‘অগোছালো’ আয়োজন

আপডেট সময় ০৭:৩০:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

নিউইয়র্কে অভিজাত ব্যাঙ্কুয়েট হল ‘টেরেস অন দ্য পার্ক’-এ অনুষ্ঠিত হলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির ৫০ বছরপূর্তি উৎসব। প্রায় ১০০০ প্রবাসী বাংলাদেশি এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে বাংলাদেশিদের মিলনমেলায় পরিণত হয় অনুষ্ঠানটি। তবে- আভিজাত্যের মোড়কে অনেকটাই ‘অগোছালো’ ছিল আয়োজনটি। অনুষ্ঠানে সোসাইটির কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার ঘাটতি ছিল না। কিন্তু বড় একটি আয়োজনে পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল চোখে পড়ার মত। মাঝপথে অনুষ্ঠানটি খেই হারিয়ে ফেলে। আগে অনুষ্ঠিত সোসাইটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সঙ্গে তুলনা করলে খুব বেশী পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যাবে না।
বর্তমান কমিটির কর্মকর্তারা বিশেষ কৃতিত্বের দাবি রাখেন- বিগত ৫০ বছরে সোসাইটির নেতৃত্বদানকারী সাবেক কর্মকর্তাদের একমঞ্চে হাজির করতে সক্ষম হয়েছিলেন তারা। একইসঙ্গে বেশকিছু নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করেছিলেন এই উৎসবে। অনুষ্ঠানস্থল ও সাজসজ্জা উপস্থিত সবার কাছে প্রশংসিত হয়েছে। সুন্দর ও তথ্যবহুল একটি স্মরণিকা প্রকাশিত হয়েছে। মঞ্চের পরিবেশনা নিয়ে হয়তো পরিকল্পনাও ছিল।
কিন্তু কতিপয় কর্মকর্তার মাইক নিয়ে অতিকথনে অনুষ্ঠানের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। ফলে রাতের খাবার খেয়ে বেশিরভাগ প্রবাসী বাংলাদেশি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। মেষ মুর্হূর্তে উপস্থিতি কম থাকলেও মঞ্চের গুণী শিল্পীদের সঙ্গীত পরিবেশনা উৎসবের প্রাণ ফিরিয়ে এনেছিল।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ছিল পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত। এরপর ছিল গীতা পাঠ। বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত
পরিবেশনের পর বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এই সংগঠনের প্রয়াত সকল কর্মকর্তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সংগঠনের কর্মকর্তা জামিল আনসারী।
জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘নৃত্যাঞ্জলি’র শিল্পীরা ‘আমি বাংলায় গান গাই’র সাথে উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে। স্বাগত বক্তব্য দেন সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের আহবায়ক এবং বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দিন দেওয়ান। এরপর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্যে ৬ ব্যক্তিকে ‘সোসাইটির অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। তারা হলেন সাংবাদিকতায় সৈয়দ মুহাম্মদ উল্লাহ, সমাজকর্মে জীবন উৎসর্গ করা কামাল আহমেদ (তার কন্যা রুমানা আহমেদ অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন), ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব সাইদুর রহমান ডন, সাংস্কৃতিক সংগঠক সেলিমা আশরাফ, শিক্ষা বিস্তারে মোশারফ হোসেন খান চৌধুরী, সংগঠক কাজী আজহারুল হক মিলন এবং বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির সন্তানদের টেকনিক্যাল শিক্ষায় শিক্ষিত করতে ২৫ বছর যাবত কর্মরত ‘দ্য অপ্টিমিস্টস’। সোসাইটির কর্মকর্তারা এসব অ্যাওয়ার্ড হস্তান্তর করেন।
নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি মেম্বার জেনিফার রাজকুমার বাংলাদেশ সোসাইটি এবং এর শীর্ষ কর্মকর্তাগণকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করেছেন কমিউনিটি সার্ভিসে অবদানের জন্যে। কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টের অফিস থেকেও সাইটেশন প্রদান করা হয় বিপুল করতালির মধ্যে।
সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের পরিপূরক হিসেবে নতুন প্রজন্মের চারজনের অনুভূতি ব্যক্ত করার পর্বটি সকলের দৃষ্টি কেড়েছিল। তারা যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে উঠলেও মা-বাবার ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সংস্কৃতি লালন ও বিকাশে কার্পণ্য করেন না বলে উল্লেখ করেন। বহুজাতিক এ সমাজে নিউইয়র্কের বাঙালিদের অবস্থান বিশেষভাবে সমাদৃত হয় বলে তারা সহকর্মী-বন্ধু-বান্ধবের সাথে কথা বলার সময় এক ধরনের অহংবোধে উজ্জীবিত হোন। তাদের মধ্যে ছিলেন হার্ভার্ড থেকে গ্র্যাজুয়েশন করা নামিরা মেহেদি এবং ভিক্টর ঘোষ, সেন্ট জোন্স ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসা-প্রশাসনে উচ্চতর ডিগ্রি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট হিসেবে গ্র্যাজুয়েশন করা আনিকা জেবা।
এরপর সাবেক সভাপতি ও সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি ডা. হামিদুজ্জামান বলেন, সোসাইটির কার্যকরী কমিটিতেও নতুন প্রজন্মের অন্তর্ভুক্তি ঘটাতে হবে। সদস্য হিসেবেও তারা যাতে অগ্রাধিকার পায় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। কারণ তারাই প্রথম প্রজন্মের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হবে। এরপরে প্রজন্মকে অত সহজে বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি আকৃষ্ট করা সহজ হবে না।
ডা. হামিদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটি আজ যেমন ঐক্যের প্রতীক, তেমনি এটি আগামী প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি আধুনিক, সাংষ্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা-যা প্রবাসে আমাদের স্থায়ী পরিচয়ের প্রতিক হয়ে থাকবে।
সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি ডা. মইনুল ইসলাম মিয়া বলেন, আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, গৌরবময় মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।
বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম বলেন, আসুন ঐক্য, ভালবাসা এবং দেশপ্রেমের শক্তিতে বাংলাদেশ সোসাইটিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাই আগামী প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল ও গর্বিত ভবিষ্যতের পথে।
বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সুবর্ণজয়ন্তীর এই ধারাকে নতুন প্রেরণার সূচনা এবং শতবর্ষ উদযাপনের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সোসাইটি সবসময়ই প্রবাসে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ রক্ষায় অগ্রণী ভ’মিকা পালন করে আসছে। আমি আন্তরিক অর্থেই বিশ্বাস করি নতুন প্রজন্ম এই ঐতিহ্য ধারণ করে আরো আধুনিক ও কার্যকর বাংলাদেশ সোসাইটি গড়ে তুলবে, যা শুধু প্রবাসে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশি কমিউনিটির মর্যাদা বৃদ্ধি করবে।
বাংলাদেশ সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ বলেন, ‘অর্ধ শতাব্দীর পথ পেরিয়ে আজ বাংলাদেশ সোসাইটি এমন এক অবস্থানে পৌছেছে, যা আমাদের সকলের গর্ব এবং ভালোবাসার প্রতিক। পঞ্চাশ বছরের এই যাত্রা শুধু একটি সংগঠনের নয়, এটি সকল প্রবাসীর সম্মিলিত সাফল্যের গল্প।’
বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর সহযোগিতায় সমগ্র অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন শারমিনা সিরাজ সোনিয়া।
বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনের স্মৃতিচারণ করেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার, সাবেক সভাপতি ডা. বিল্লাহ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. এম. শাহীন, ফোবানার চেয়ারপারসন এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য গিয়াস আহমেদ, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ও ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এ্যাট লার্জ এটর্নি মঈন চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটির আজীবন সদস্য ও মূলধারার রাজনীতিক আকতার হোসেন বাদল, বিএনপি নেতা মো. গিয়াস উদ্দিন, এম্পায়ার কেয়ার এজেন্সির সিইও নুরুল আজিম, মিডোব্রুকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আকিব হোসেন, আবাসন ব্যবসায়ী মোর্শেদা জামান প্রমুখ।
এ উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বাদশা বুলবুল, প্রতীক হাসান, কালা মিয়া, রানো নেওয়াজ, শাহ মাহবুব, অনিক রাজ, হাসান নীলু প্রমুখ।
৫০ বছরপূর্তি উৎসবকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘অগ্রপথিক’ নামে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। এটি সম্পাদনা করেছেন সাহিত্য সম্পাদক আখতার বাবুল। ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ।
৫০ বছরপূর্তি উৎসব সফল করতে সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ছাড়াও সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, সহ সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ভুইয়া, কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক ডিউক খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিক রাজ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক জামিল আনসারী, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক আশ্রাব আলী খান লিটন, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান জিলানী, কার্যকরী সদস্য হারুন অর রশিদ, জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মোহাম্মদ সিদ্দিক পাটোয়ারী, আবুল কাশেম চৌধুরী, মুনসুর আহমদ ও হাছান খান।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481