ঢাকা ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফারাও যুগের শিলালিপি পাঠের অ্যাপ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:৫৪:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ৭৩ বার পড়া হয়েছে

কায়রোর একটি আলো ঝলমলে কক্ষ। যেখানে পাশাপাশি রয়েছে উজ্জ্বল স্ক্রিন এবং পুরাতন ঐতিহাসিক বই। এই কক্ষে আধুনিক কোডগুলোর সঙ্গে প্রাচীন প্রতীকগুলোর সাক্ষাৎ হচ্ছে। আহমদ এল কোলি এখানে নীরবে ইতিহাসের পুনর্লিখন করে যাচ্ছেন। তিনি মিসরীয় প্রতিষ্ঠান ডার্ক পিরামিডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও তিনি মানেথো তৈরি করছেন। মানেথো হলো এআইয়ের সাহায্যে তৈরি বিশ্বের প্রথম রিয়েল-টাইম হায়ারোগ্লিফিক অনুবাদক। মানেথো শুধু একটি অ্যাপ নয়, বরং তা ফারাও যুগে প্রবেশের ডিজিটাল প্রবেশপথ। এর মাধ্যমে স্ক্যান করে মিসরীয় নাগরিক ও পর্যটকরা ফারাও যুগের শিলালিপি পাঠ করতে পারবে। ফলে প্রাচীন মিসরের কণ্ঠস্বর ভেসে উঠবে বর্তমানে।

আহমদের মাথায় মানেথো প্রস্তুত করার চিন্তা প্রথম আসে ২০২৪ সালে। তখন তিনি কায়রোর একটি প্রাচীন যাদুঘর পরিদর্শন করছিলেন। তিনি দেখেন দর্শনার্থীরা শূন্য দৃষ্টি নিয়ে হায়ারোগ্লিফিক দেয়ালের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা লেখাগুলো নিজের মতো করে হৃদয়াঙ্গম করতে চায়। একবার একজন পর্যটক তাঁকে বলেছিল, তুমি কেন এটা বুঝতে পারছ না? বিষয়টি প্রথমে একটি সাধারণ প্রশ্নের মতো তাঁর স্মৃতি থেকে হারিয়ে যায়, কিন্তু পরবর্তীতে চ্যালেঞ্জ হয়ে ফিরে আসে। আরেক কায়রোর তাহরির স্কয়ারে অবস্থিত মিসরীয় যাদুঘরে একদল আফ্রিকানকে তিনি দেখেছিলেন, তারা দাবি করছে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতা তাদের। তখন আহমদের মনে হয়, প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার রহস্য উন্মোচিত হওয়া প্রয়োজন। আর প্রতিটি মিসরীয়, পর্যটক ও আগ্রহী প্রতিটি মানুষের জন্য প্রাচীন মিসরের ইতিহাস উন্মুক্ত করা আবশ্যক।

আহমদ প্রাচীন যুগের একজন ঐতিহাসিকের নামে অ্যাপের নামকরণ করেছেন। মানেথো ছিলেন প্রথম ঐতিহাসিক যিনি মিসরের ইতিহাসকে পুরাতন রাজত্ব, মধ্যম রাজত্ব, নতুন রাজত্ব ও শেষ যুগে বিভক্ত করেছেন। মানেথো হাজার বছরের ইতিহাসের ভেতর সেতুবন্ধন তৈরি করেছিলেন। মানেথো অ্যাপ ব্যবহার করে মোবাইল ফোনের ছবি, শিল্পকর্ম ও শিলালিপি স্ক্যান করা যাবে। স্ক্যান করলে কাঙ্ক্ষিত ভাষায় তার অনুবাদ চলে আসবে। এই অ্যাপে আরবি, ইংরেজি, ফরাসি, চীনা, জাপানি ইত্যাদি ভাষা আছে। ফলে অ্যাপটি সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ, শিক্ষার প্রসার ও পর্যটকদের জন্য সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

মানেথো তৈরির কাজটি আহমদের জন্য সহজ ছিল না। কেননা হায়ারোগ্লিফিক হলো জটিল চিত্রলিপি, যা রোসেত্তা শিলাখণ্ড থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। যার বেশির ভাগ অর্থ ও উৎস প্রাচীন ও বিদেশি বইয়ে পাওয়া যায়। ফলে এআই প্রকল্পে ব্যবহারের উপযুক্ত তেমন কোনো উপাত্ত তরুণদের হাতে ছিল না। এই শূন্যতার ভেতর আহমদ ও তাঁর দল মিসরবিদদের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। তারা মৌলিক বর্ণমালার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা পিরামিড ও মূর্তিতে পাওয়া বর্ণমালাকে প্রাধান্য দেন। আহমদ বলেন, আমরা ৫০-৬০ মূর্তির গায়ে লিপিবদ্ধ লেখার পরিবর্তে একটি পিরামিডের লিপিকে প্রাধান্য দিয়েছি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনায় আশাবাদী হোয়াইট হাউস

ফারাও যুগের শিলালিপি পাঠের অ্যাপ

আপডেট সময় ০৭:৫৪:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

কায়রোর একটি আলো ঝলমলে কক্ষ। যেখানে পাশাপাশি রয়েছে উজ্জ্বল স্ক্রিন এবং পুরাতন ঐতিহাসিক বই। এই কক্ষে আধুনিক কোডগুলোর সঙ্গে প্রাচীন প্রতীকগুলোর সাক্ষাৎ হচ্ছে। আহমদ এল কোলি এখানে নীরবে ইতিহাসের পুনর্লিখন করে যাচ্ছেন। তিনি মিসরীয় প্রতিষ্ঠান ডার্ক পিরামিডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও তিনি মানেথো তৈরি করছেন। মানেথো হলো এআইয়ের সাহায্যে তৈরি বিশ্বের প্রথম রিয়েল-টাইম হায়ারোগ্লিফিক অনুবাদক। মানেথো শুধু একটি অ্যাপ নয়, বরং তা ফারাও যুগে প্রবেশের ডিজিটাল প্রবেশপথ। এর মাধ্যমে স্ক্যান করে মিসরীয় নাগরিক ও পর্যটকরা ফারাও যুগের শিলালিপি পাঠ করতে পারবে। ফলে প্রাচীন মিসরের কণ্ঠস্বর ভেসে উঠবে বর্তমানে।

আহমদের মাথায় মানেথো প্রস্তুত করার চিন্তা প্রথম আসে ২০২৪ সালে। তখন তিনি কায়রোর একটি প্রাচীন যাদুঘর পরিদর্শন করছিলেন। তিনি দেখেন দর্শনার্থীরা শূন্য দৃষ্টি নিয়ে হায়ারোগ্লিফিক দেয়ালের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা লেখাগুলো নিজের মতো করে হৃদয়াঙ্গম করতে চায়। একবার একজন পর্যটক তাঁকে বলেছিল, তুমি কেন এটা বুঝতে পারছ না? বিষয়টি প্রথমে একটি সাধারণ প্রশ্নের মতো তাঁর স্মৃতি থেকে হারিয়ে যায়, কিন্তু পরবর্তীতে চ্যালেঞ্জ হয়ে ফিরে আসে। আরেক কায়রোর তাহরির স্কয়ারে অবস্থিত মিসরীয় যাদুঘরে একদল আফ্রিকানকে তিনি দেখেছিলেন, তারা দাবি করছে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতা তাদের। তখন আহমদের মনে হয়, প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার রহস্য উন্মোচিত হওয়া প্রয়োজন। আর প্রতিটি মিসরীয়, পর্যটক ও আগ্রহী প্রতিটি মানুষের জন্য প্রাচীন মিসরের ইতিহাস উন্মুক্ত করা আবশ্যক।

আহমদ প্রাচীন যুগের একজন ঐতিহাসিকের নামে অ্যাপের নামকরণ করেছেন। মানেথো ছিলেন প্রথম ঐতিহাসিক যিনি মিসরের ইতিহাসকে পুরাতন রাজত্ব, মধ্যম রাজত্ব, নতুন রাজত্ব ও শেষ যুগে বিভক্ত করেছেন। মানেথো হাজার বছরের ইতিহাসের ভেতর সেতুবন্ধন তৈরি করেছিলেন। মানেথো অ্যাপ ব্যবহার করে মোবাইল ফোনের ছবি, শিল্পকর্ম ও শিলালিপি স্ক্যান করা যাবে। স্ক্যান করলে কাঙ্ক্ষিত ভাষায় তার অনুবাদ চলে আসবে। এই অ্যাপে আরবি, ইংরেজি, ফরাসি, চীনা, জাপানি ইত্যাদি ভাষা আছে। ফলে অ্যাপটি সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ, শিক্ষার প্রসার ও পর্যটকদের জন্য সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

মানেথো তৈরির কাজটি আহমদের জন্য সহজ ছিল না। কেননা হায়ারোগ্লিফিক হলো জটিল চিত্রলিপি, যা রোসেত্তা শিলাখণ্ড থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। যার বেশির ভাগ অর্থ ও উৎস প্রাচীন ও বিদেশি বইয়ে পাওয়া যায়। ফলে এআই প্রকল্পে ব্যবহারের উপযুক্ত তেমন কোনো উপাত্ত তরুণদের হাতে ছিল না। এই শূন্যতার ভেতর আহমদ ও তাঁর দল মিসরবিদদের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। তারা মৌলিক বর্ণমালার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা পিরামিড ও মূর্তিতে পাওয়া বর্ণমালাকে প্রাধান্য দেন। আহমদ বলেন, আমরা ৫০-৬০ মূর্তির গায়ে লিপিবদ্ধ লেখার পরিবর্তে একটি পিরামিডের লিপিকে প্রাধান্য দিয়েছি।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481