ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo পাকিস্তানের অভিযোগ প্রত্যাখান করল ভারত Logo ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে ‘হামলার’ প্রতিবাদে কেএমপি দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ Logo জামায়াত কি ইসলামের ঠিকাদারি নিয়েছে : প্রশ্ন সালাহউদ্দিনের Logo হাসিনার বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করেছেন আল্লামা মামুনুল হক : হাসনাত আব্দুল্লাহ Logo নতুন ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ ছাড়ল ইনকিলাব মঞ্চ Logo ৫ বিষয়ে ভিত্তি করে বিএনপির ইশতেহার: মাহদী আমিন Logo চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত জনগণকে জানিয়ে নিতে হবে: ফরহাদ মজহার Logo আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ জামায়াতের Logo উন্মুক্ত মঞ্চে তারেক রহমানকে সরাসরি আলোচনার আমন্ত্রণ জামায়াত আমিরের Logo মিথ্যাচারের দাঁতভাঙা জবাব দেবে জনগণ: মির্জা আব্বাস

ধুলোয় মিশে গেছে গাজার অধিকাংশ মসজিদ, ধ্বংসস্তূপে চলছে আজান ও নামাজ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:৫০:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫
  • ৭৯ বার পড়া হয়েছে

ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা যুদ্ধের সময় গাজা উপত্যকার অধিকাংশ অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরাইল। আগ্রাসন থেকে রক্ষা পায়নি মসজিদগুলোও।

যেসব মিনার একসময় মানুষকে নামাজের জন্য ডাকত সেগুলোও অদৃশ্য হয়ে গেছে। প্রাচীন মসজিদগুলো পাথর ও ধুলোর স্তূপে পরিণত হয়েছে। দ্য ফিলিস্তিন ইনফরমেশন সেন্টার।

দুই বছরের যুদ্ধের ফলে গাজা উপত্যকা প্রায় মিনারবিহীন হয়ে পড়েছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে স্থাপিত স্থাপত্যগুলোর কোনো চিহ্ন নেই-যেন ইতিহাস নিজেই বোমা হামলার শিকার হয়েছে।

গাজা শহরের শুজাইয়্যা পাড়ার উপকণ্ঠে ৬২ বছর বয়সি আবু খালেদ আল-নাজ্জার ইবনে ওসমান মসজিদের ধ্বংসস্ত‚পের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। সেখানে তিনি শৈশব থেকেই নামাজ পড়ছেন।

তিনি দুঃখ এবং অবিশ্বাসে ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বাবার কণ্ঠস্বর বোঝার আগে আমি মুয়াজ্জিনের কণ্ঠস্বর চিনতাম। আমি পঞ্চাশ বছর ধরে এখানে নামাজ পড়েছি, আর আজ দরজার পাশে থাকা নামাজের গালিচাটিও ধ্বংসস্তূপের নিচে উধাও হয়ে গেছে। আমি কখনো কল্পনাও করিনি, এমন দিন আসবে, যখন আমরা মসজিদ ছাড়া নামাজ পড়ব।’

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস নিশ্চিত করেছে, দুই বছরে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী উপত্যকাজুড়ে মোট ১ হাজার ২৪৪টি মসজিদের মধ্যে ৮৩৫টিরও বেশি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে এবং ১৮০টি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর মধ্যে মামলুক এবং অটোমান মসজিদও রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি সাত শতাব্দীরও বেশি পুরোনো। পুরাতন শহরে গ্রেট ওমারি মসজিদের স্থানে ২৭ বছর বয়সি মাহমুদ কান্দিল ধ্বংসাবশেষের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিবলা দেয়াল থেকে খোদাই করা একটি পাথরের সন্ধান করছেন।

তিনি বলেন, ‘এই মসজিদটি ছিল গাজার প্রাণকেন্দ্র। আমি এখানেই আমার প্রথম শুক্রবারের নামাজ পড়েছিলাম। মামলুক যুগের মার্বেল স্তম্ভগুলো এখানে ছিল। এখন ধুলো ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। মনে হচ্ছে তারা (ইসরাইলি বাহিনী) কেবল এর ভবনগুলো নয়, শহরের স্মৃতিও মুছে ফেলতে চায়।’

আল-দারাজপাড়ায় একসময় আল-সাইয়্যিদ হাশিম মসজিদ ছিল। স্থানটির কয়েক মিটার দূরে ৭৪ বছর বয়সি উম্মে ওয়ায়েল ধসে পড়া সবুজ গম্বুজের ধ্বংসাবশেষের সামনে একটি প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে আছেন। তিনি হাত তুলে বলেন, ‘আমি অসুস্থ থাকাকালীনও প্রতি বৃহস্পতিবার মসজিদে সুরা আল-কাহফ পড়তে যেতাম। এখন আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তবে আমরা আমাদের ঘর থেকে কুরআন পড়তে থাকব, আমরা যেখানেই থাকি না কেন, আল্লাহ আমাদের কথা শোনেন।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানের অভিযোগ প্রত্যাখান করল ভারত

ধুলোয় মিশে গেছে গাজার অধিকাংশ মসজিদ, ধ্বংসস্তূপে চলছে আজান ও নামাজ

আপডেট সময় ০৭:৫০:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা যুদ্ধের সময় গাজা উপত্যকার অধিকাংশ অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরাইল। আগ্রাসন থেকে রক্ষা পায়নি মসজিদগুলোও।

যেসব মিনার একসময় মানুষকে নামাজের জন্য ডাকত সেগুলোও অদৃশ্য হয়ে গেছে। প্রাচীন মসজিদগুলো পাথর ও ধুলোর স্তূপে পরিণত হয়েছে। দ্য ফিলিস্তিন ইনফরমেশন সেন্টার।

দুই বছরের যুদ্ধের ফলে গাজা উপত্যকা প্রায় মিনারবিহীন হয়ে পড়েছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে স্থাপিত স্থাপত্যগুলোর কোনো চিহ্ন নেই-যেন ইতিহাস নিজেই বোমা হামলার শিকার হয়েছে।

গাজা শহরের শুজাইয়্যা পাড়ার উপকণ্ঠে ৬২ বছর বয়সি আবু খালেদ আল-নাজ্জার ইবনে ওসমান মসজিদের ধ্বংসস্ত‚পের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। সেখানে তিনি শৈশব থেকেই নামাজ পড়ছেন।

তিনি দুঃখ এবং অবিশ্বাসে ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বাবার কণ্ঠস্বর বোঝার আগে আমি মুয়াজ্জিনের কণ্ঠস্বর চিনতাম। আমি পঞ্চাশ বছর ধরে এখানে নামাজ পড়েছি, আর আজ দরজার পাশে থাকা নামাজের গালিচাটিও ধ্বংসস্তূপের নিচে উধাও হয়ে গেছে। আমি কখনো কল্পনাও করিনি, এমন দিন আসবে, যখন আমরা মসজিদ ছাড়া নামাজ পড়ব।’

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস নিশ্চিত করেছে, দুই বছরে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী উপত্যকাজুড়ে মোট ১ হাজার ২৪৪টি মসজিদের মধ্যে ৮৩৫টিরও বেশি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে এবং ১৮০টি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর মধ্যে মামলুক এবং অটোমান মসজিদও রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি সাত শতাব্দীরও বেশি পুরোনো। পুরাতন শহরে গ্রেট ওমারি মসজিদের স্থানে ২৭ বছর বয়সি মাহমুদ কান্দিল ধ্বংসাবশেষের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিবলা দেয়াল থেকে খোদাই করা একটি পাথরের সন্ধান করছেন।

তিনি বলেন, ‘এই মসজিদটি ছিল গাজার প্রাণকেন্দ্র। আমি এখানেই আমার প্রথম শুক্রবারের নামাজ পড়েছিলাম। মামলুক যুগের মার্বেল স্তম্ভগুলো এখানে ছিল। এখন ধুলো ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। মনে হচ্ছে তারা (ইসরাইলি বাহিনী) কেবল এর ভবনগুলো নয়, শহরের স্মৃতিও মুছে ফেলতে চায়।’

আল-দারাজপাড়ায় একসময় আল-সাইয়্যিদ হাশিম মসজিদ ছিল। স্থানটির কয়েক মিটার দূরে ৭৪ বছর বয়সি উম্মে ওয়ায়েল ধসে পড়া সবুজ গম্বুজের ধ্বংসাবশেষের সামনে একটি প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে আছেন। তিনি হাত তুলে বলেন, ‘আমি অসুস্থ থাকাকালীনও প্রতি বৃহস্পতিবার মসজিদে সুরা আল-কাহফ পড়তে যেতাম। এখন আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তবে আমরা আমাদের ঘর থেকে কুরআন পড়তে থাকব, আমরা যেখানেই থাকি না কেন, আল্লাহ আমাদের কথা শোনেন।’


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481