ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানি যুদ্ধবিমানের দিকে ‘রাডার লক’ চীনা সামরিক বিমানের

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:৪৫:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১১০ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রবিবার জানিয়েছে, ওকিনাওয়ার মূল দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে চীনা সামরিক বিমান জাপানি যুদ্ধবিমানগুলোর দিকে রাডার লক করেছে।

রাডার লক মূলত এমন একটি প্রযুক্তিগত অবস্থা, যেখানে কোনো রাডার সিস্টেম নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্যবস্তুকে (যেমন বিমান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র বা জাহাজ) চিহ্নিত করে তার গতি, দিক ও অবস্থান নিরবচ্ছিন্নভাবে অনুসরণ করতে থাকে। এটিকে সম্ভাব্য হামলার পূর্বসংকেত হিসেবে ধরা হয়।

জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এক মন্তব্যের পর টোকিও ও বেইজিংয়ের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।
তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাইওয়ানের ওপর কোনো হামলা হলে টোকিও সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, শনিবার চীনের জে-১৫ যুদ্ধবিমান দুবার জাপানি যুদ্ধবিমানের দিকে রাডার লক করে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

যুদ্ধবিমানগুলো লক্ষ্য শনাক্ত করার জন্য ফায়ার কন্ট্রোলের পাশাপাশি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের ক্ষেত্রেও রাডার ব্যবহার করে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি এই ঘটনাটিকে ‘বিপজ্জনক ও অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেন এবং জানান, জাপান এ বিষয়ে চীনের কাছে ‘কড়া প্রতিবাদ’ জানিয়েছে।

চীনা নৌবাহিনী জানায়, টোকিওর দাবি ‘বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ এবং জাপানকে ‘অবিলম্বে অপপ্রচার ও কুৎসা রটানো বন্ধ করতে’ বলা হয়েছে।

চীন দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরো অংশের ওপর দাবি করে আসছে, যার ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছে।

বেইজিং স্বশাসিত তাইওয়ানকেও নিজের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং তাকাইচির মন্তব্যের পর গত মাসে টোকিওতে নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল।

টোকিও এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরো জোরদার করছে, যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়াও রয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস বর্তমানে জাপান সফর করছেন।

জাপানি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর মার্লেস বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় চীনের কর্মকাণ্ডে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

সরবরাহ শৃঙ্খল বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ক্যানবেরা ‘স্পষ্ট, ধারাবাহিক, শান্ত ও যুক্তিসঙ্গতভাবে আচরণ করার মাধ্যমে’ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ‘স্থিতিশীল’ করেছে।

তিনি বলেন, ‘যেখানে সম্ভব, আমরা চীনের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করব, তবে যেখানে প্রয়োজন, সেখানে আমরা দ্বিমত পোষণ করব।

মার্লেস নাগাসাকিতে মিতসুবিশির জাহাজ নির্মাণ ইয়ার্ডও সফর করেন। এর কয়েক মাস আগেই ক্যানবেরা জাপানি এই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১১টি উন্নত যুদ্ধজাহাজ কেনার জন্য ৬ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনায় আশাবাদী হোয়াইট হাউস

জাপানি যুদ্ধবিমানের দিকে ‘রাডার লক’ চীনা সামরিক বিমানের

আপডেট সময় ০৪:৪৫:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রবিবার জানিয়েছে, ওকিনাওয়ার মূল দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে চীনা সামরিক বিমান জাপানি যুদ্ধবিমানগুলোর দিকে রাডার লক করেছে।

রাডার লক মূলত এমন একটি প্রযুক্তিগত অবস্থা, যেখানে কোনো রাডার সিস্টেম নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্যবস্তুকে (যেমন বিমান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র বা জাহাজ) চিহ্নিত করে তার গতি, দিক ও অবস্থান নিরবচ্ছিন্নভাবে অনুসরণ করতে থাকে। এটিকে সম্ভাব্য হামলার পূর্বসংকেত হিসেবে ধরা হয়।

জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এক মন্তব্যের পর টোকিও ও বেইজিংয়ের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।
তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাইওয়ানের ওপর কোনো হামলা হলে টোকিও সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, শনিবার চীনের জে-১৫ যুদ্ধবিমান দুবার জাপানি যুদ্ধবিমানের দিকে রাডার লক করে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

যুদ্ধবিমানগুলো লক্ষ্য শনাক্ত করার জন্য ফায়ার কন্ট্রোলের পাশাপাশি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের ক্ষেত্রেও রাডার ব্যবহার করে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি এই ঘটনাটিকে ‘বিপজ্জনক ও অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেন এবং জানান, জাপান এ বিষয়ে চীনের কাছে ‘কড়া প্রতিবাদ’ জানিয়েছে।

চীনা নৌবাহিনী জানায়, টোকিওর দাবি ‘বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ এবং জাপানকে ‘অবিলম্বে অপপ্রচার ও কুৎসা রটানো বন্ধ করতে’ বলা হয়েছে।

চীন দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরো অংশের ওপর দাবি করে আসছে, যার ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছে।

বেইজিং স্বশাসিত তাইওয়ানকেও নিজের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং তাকাইচির মন্তব্যের পর গত মাসে টোকিওতে নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল।

টোকিও এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরো জোরদার করছে, যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়াও রয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস বর্তমানে জাপান সফর করছেন।

জাপানি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর মার্লেস বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় চীনের কর্মকাণ্ডে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

সরবরাহ শৃঙ্খল বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ক্যানবেরা ‘স্পষ্ট, ধারাবাহিক, শান্ত ও যুক্তিসঙ্গতভাবে আচরণ করার মাধ্যমে’ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ‘স্থিতিশীল’ করেছে।

তিনি বলেন, ‘যেখানে সম্ভব, আমরা চীনের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করব, তবে যেখানে প্রয়োজন, সেখানে আমরা দ্বিমত পোষণ করব।

মার্লেস নাগাসাকিতে মিতসুবিশির জাহাজ নির্মাণ ইয়ার্ডও সফর করেন। এর কয়েক মাস আগেই ক্যানবেরা জাপানি এই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১১টি উন্নত যুদ্ধজাহাজ কেনার জন্য ৬ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481