ঢাকা ০৬:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত জনগণকে জানিয়ে নিতে হবে: ফরহাদ মজহার

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:১৯:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৩২ বার পড়া হয়েছে

কবি, প্রাবন্ধিক ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর শুধু একটি অর্থনৈতিক স্থাপনা নয়। এটি জনগণের সম্পদ ও সামরিক স্থাপনাও। কোনো গোপনীয় চুক্তি হতে পারে না। বন্দরের বিষয়ে সকল সিদ্ধান্ত জনগণকে জানিয়ে নিতে হবে।’

শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বন্দর সুরক্ষা কমিটির আয়োজনে ‘চট্টগ্রাম বন্দর সুরক্ষা বনাম বন্দর অচলের রাজনীতি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। প্রসঙ্গক্রমে ফরজাদ মাজহার বলেন, ‘বন্দর ইস্যুকে শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকে দেখলে চলবে না। এটি সরাসরি সামরিক প্রশ্ন। জনগণের সম্পদের বিষয়ে চুক্তির ভার আমলাদের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। অবশ্যই জনগণকে পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে। তাদের মত নিতে হবে।’

বন্দর সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ফরহাদ মজাহারের সভাপতিত্বে ও সচস্য সচিব মেজর (অব.) আহমেদন ফেরদৌসের সঞ্চালনায় মতবিনিয়ম সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির চট্টগ্রাম সমন্বয়ক সাংবাদিক সালেহ নোমান। লিখিত বক্তব্য রাখেন আরেক সমন্বয়ক ফিল্ম মেকার মোহাম্মদ রোমেল। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান আন্দোলেনের নেতৃত্বে থাকা শ্রমিক নেতা হুমায়ুন কবির ও ইব্রাহিম খোকন, জুলাই যোদ্ধা তৌহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক আব্দুল্লাহ তুহিন।

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বৃহৎ টার্মিনাল নিউ মুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়াল্ডকে দেওয়ার প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে বৃস্পতিবার পর্যন্ত টানা ছয়দিন কর্মবিরতি ছিল বন্দরজুড়ে। শ্রমিকদের এই কর্মবিরতির ফলে বন্দর অচল হয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তির পেছনে যুক্তি হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কা করছেন চিন্তক ফরহাদ মজহার।

তিনি বলেন, চুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের কারণে বন্দর অচল হয়েছে। এবার শ্রমিকদের দোষী করেই যুক্তি দিয়ে চুক্তির পক্ষের যুক্তি দেওয়া হবে। এটি দ্বিমুখী তলোয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এখন দক্ষতা, অদক্ষতার প্রশ্ন সামনে আনা হয়েছে। আমাদের শ্রমিকদের দক্ষ করে তুলতে পারি না কেন আমরা? বন্দর পিছিয়ে রাখা হচ্ছে কেন?

গণসার্বভৌমত্বের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে ফরহাদ মজাহার বলেন, চব্বিশের পাঁচ আগস্টের পর জনগণের ক্ষমতা ছিল। আমরা সেটাকে আবার ফিরিয়ে দিয়েছি পুরাতন ব্যবস্থায়। এই শব্দের অর্থ বুঝতে না পারায় জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এখন সরকার, সংসদ বা রাষ্ট্র চাইলেই জনগণের মতামত না নিয়ে বিদেশিদের কাছে ইজারা দিতে পারছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনায় আশাবাদী হোয়াইট হাউস

চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত জনগণকে জানিয়ে নিতে হবে: ফরহাদ মজহার

আপডেট সময় ০১:১৯:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কবি, প্রাবন্ধিক ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর শুধু একটি অর্থনৈতিক স্থাপনা নয়। এটি জনগণের সম্পদ ও সামরিক স্থাপনাও। কোনো গোপনীয় চুক্তি হতে পারে না। বন্দরের বিষয়ে সকল সিদ্ধান্ত জনগণকে জানিয়ে নিতে হবে।’

শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বন্দর সুরক্ষা কমিটির আয়োজনে ‘চট্টগ্রাম বন্দর সুরক্ষা বনাম বন্দর অচলের রাজনীতি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। প্রসঙ্গক্রমে ফরজাদ মাজহার বলেন, ‘বন্দর ইস্যুকে শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকে দেখলে চলবে না। এটি সরাসরি সামরিক প্রশ্ন। জনগণের সম্পদের বিষয়ে চুক্তির ভার আমলাদের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। অবশ্যই জনগণকে পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে। তাদের মত নিতে হবে।’

বন্দর সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ফরহাদ মজাহারের সভাপতিত্বে ও সচস্য সচিব মেজর (অব.) আহমেদন ফেরদৌসের সঞ্চালনায় মতবিনিয়ম সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির চট্টগ্রাম সমন্বয়ক সাংবাদিক সালেহ নোমান। লিখিত বক্তব্য রাখেন আরেক সমন্বয়ক ফিল্ম মেকার মোহাম্মদ রোমেল। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান আন্দোলেনের নেতৃত্বে থাকা শ্রমিক নেতা হুমায়ুন কবির ও ইব্রাহিম খোকন, জুলাই যোদ্ধা তৌহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক আব্দুল্লাহ তুহিন।

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বৃহৎ টার্মিনাল নিউ মুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়াল্ডকে দেওয়ার প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে বৃস্পতিবার পর্যন্ত টানা ছয়দিন কর্মবিরতি ছিল বন্দরজুড়ে। শ্রমিকদের এই কর্মবিরতির ফলে বন্দর অচল হয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তির পেছনে যুক্তি হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কা করছেন চিন্তক ফরহাদ মজহার।

তিনি বলেন, চুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের কারণে বন্দর অচল হয়েছে। এবার শ্রমিকদের দোষী করেই যুক্তি দিয়ে চুক্তির পক্ষের যুক্তি দেওয়া হবে। এটি দ্বিমুখী তলোয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এখন দক্ষতা, অদক্ষতার প্রশ্ন সামনে আনা হয়েছে। আমাদের শ্রমিকদের দক্ষ করে তুলতে পারি না কেন আমরা? বন্দর পিছিয়ে রাখা হচ্ছে কেন?

গণসার্বভৌমত্বের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে ফরহাদ মজাহার বলেন, চব্বিশের পাঁচ আগস্টের পর জনগণের ক্ষমতা ছিল। আমরা সেটাকে আবার ফিরিয়ে দিয়েছি পুরাতন ব্যবস্থায়। এই শব্দের অর্থ বুঝতে না পারায় জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এখন সরকার, সংসদ বা রাষ্ট্র চাইলেই জনগণের মতামত না নিয়ে বিদেশিদের কাছে ইজারা দিতে পারছে।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481