ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে ইরানের ক্লাস্টার বোমা হামলা Logo ইরান কিছুতেই আত্মসমর্পণ করবে না: পেজেশকিয়ান Logo ইসরায়েলের অস্ত্র উৎপাদন স্থাপনায় ইরানের হামলা Logo চীনের উপহার হাইজ্যাক করে বাপের নাম বসানো হয়েছিল: জামায়াত আমির Logo ইরানকে ‘সন্ত্রাসবাদে সমর্থনকারী রাষ্ট্র’ ঘোষণা আলবেনিয়ার Logo নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের পাশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা Logo ‘আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে পাকিস্তান ইসরায়েলের মতো কাজ করেছে’ Logo ৯ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে কোটি টাকার বেশি টোল আদায় Logo ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা লারিজানি হামলায় নিহত হয়েছেন: ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Logo হরমুজ প্রণালী বন্ধ: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লো ৩ শতাংশের বেশি

ঘুম ৮ ঘণ্টা হলেও কেন সকালে ক্লান্ত লাগে?

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:১৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • ৭৩ বার পড়া হয়েছে

আপনি হয়তো প্রতিদিনই ৮ ঘণ্টা ঘুমাচ্ছেন। আলো নিভিয়ে, বিছানায় শুয়ে, সারা রাত ঘুমিয়েও সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখছেন— শরীর ভারী, মন খারাপ, আর দিনটা শুরু হওয়ার আগেই ক্লান্ত লাগছে। যদি এই অভিজ্ঞতা আপনার হয়ে থাকে তবে এতে আপনি একা নন। বর্তমান সময়ে অনেকেই এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এর কারণ ঘুমের পরিমাণ নয় ঘুমের মানটাই আসল বিষয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে বলা হয়ে থাকে প্রতিদিন অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের পুনরুদ্ধারের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু ঘুমবিজ্ঞান ও শিশু স্নায়ুবিজ্ঞানে ২০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞ ড. ক্রিস্টোফার জে. অ্যালেন বলেছেন— তোমার আরও বেশি সময় ঘুমের দরকার নেই বরং ভালো ঘুমের দরকার।

তিনি বলেন, অনেকেই ৮ ঘণ্টা ঘুমালেও সকালে ক্লান্ত বোধ করেন। এর কারণ হলো ঘুমের মান খারাপ হওয়া— অর্থাৎ ঘুমের চক্র (light sleep, deep sleep, REM) ঠিকভাবে সম্পন্ন না হওয়া

১. নিদ্রাহীনতা/ঘুম-শ্বাস সমস্যা — গোপন শ্বাসবদ্ধতা (Sleep Apnea), শ্বাসের অনিয়ম, বা ঘুমে হঠাৎ শ্বাস থেমে যাওয়া ঘুমের মান নষ্ট করে।

২. স্ক্রীন টাইম বেশি — ঘুমের আগে মোবাইল/ট্যাব বা ল্যাপটপ ব্যবহার ঘুমের গুণমান খারাপ করতে পারে।

৩. অনিয়মিত ঘুমচক্র — রাত এবং দিন মিলিয়ে ঘুমের সময়ের অনিয়ম থাকলে ঘুম ঠিকমতো কাজ করে না।

ভালো ঘুম মানে এমন ঘুম যা গভীর, অবিচ্ছিন্ন এবং পুনরুদ্ধারমূলক (restorative)। এই সময় শরীর কোষ পুনর্গঠন করে, স্মৃতি স্থায়ী হয়, হরমোন ভারসাম্য ঠিক হয় এবং মস্তিষ্ক টক্সিন পরিষ্কার করে। তাই সময় যতই হোক— যদি এই ধাপগুলো সম্পূর্ণ না হয় আপনি সকালে ক্লান্তই থাকবেন।

ঘুমের মান ভালো রাখার ৭টি বৈজ্ঞানিক উপায়:

১. একই সময়ে ঘুমানো ও জাগা: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় মেনে ঘুমালে আবার একই সময়ে উঠলে শরীরের জৈবিক ঘড়ি (circadian rhythm) স্থিতিশীল থাকে।

২. স্ক্রীন টাইম কমানো: ফোন বা ল্যাপটপের নীল আলো melatonin হরমোনের নিঃসরণ কমায় যা ঘুম বিলম্বিত করে। তাই ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে ফোন বা ল্যাপটপের ব্যাবহার বন্ধ করুন।

৩. ঘর ঠান্ডা, অন্ধকার ও নিরব রাখুন: আদর্শ ঘুমের তাপমাত্রা প্রায় ১৮–২০°C। হালকা পর্দা ও আরামদায়ক বিছানা সহায়ক ভালো ঘুমের সহায়ক।

৪. ক্যাফেইন সীমিত করুন: বিকেল বা রাতে চা–কফি এড়িয়ে চলুন। ক্যাফেইন ঘুম ভাঙার প্রধান কারণ।

৫. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন: ব্যায়াম ঘুমের মান উন্নত করে তবে ঘুমানোর অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে শেষ করুন।

৬. মানসিক প্রশান্তি আনুন: ঘুমের আগে হালকা বই পড়া, ধ্যান বা গভীর শ্বাস নেওয়া মস্তিষ্ককে শান্ত করে। এতে ঘুম ভালো হয়।

ভালো ঘুম মানে কেবল দীর্ঘ সময় নয়—এটা এমন এক মানসম্মত বিশ্রাম, যা আপনাকে সকালে শক্তি, মনোযোগ ও ভালো মানসিক অবস্থা দেয়। তাই আজ থেকেই বেশি নয়, ভালো ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে ইরানের ক্লাস্টার বোমা হামলা

ঘুম ৮ ঘণ্টা হলেও কেন সকালে ক্লান্ত লাগে?

আপডেট সময় ০৯:১৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

আপনি হয়তো প্রতিদিনই ৮ ঘণ্টা ঘুমাচ্ছেন। আলো নিভিয়ে, বিছানায় শুয়ে, সারা রাত ঘুমিয়েও সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখছেন— শরীর ভারী, মন খারাপ, আর দিনটা শুরু হওয়ার আগেই ক্লান্ত লাগছে। যদি এই অভিজ্ঞতা আপনার হয়ে থাকে তবে এতে আপনি একা নন। বর্তমান সময়ে অনেকেই এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এর কারণ ঘুমের পরিমাণ নয় ঘুমের মানটাই আসল বিষয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে বলা হয়ে থাকে প্রতিদিন অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের পুনরুদ্ধারের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু ঘুমবিজ্ঞান ও শিশু স্নায়ুবিজ্ঞানে ২০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞ ড. ক্রিস্টোফার জে. অ্যালেন বলেছেন— তোমার আরও বেশি সময় ঘুমের দরকার নেই বরং ভালো ঘুমের দরকার।

তিনি বলেন, অনেকেই ৮ ঘণ্টা ঘুমালেও সকালে ক্লান্ত বোধ করেন। এর কারণ হলো ঘুমের মান খারাপ হওয়া— অর্থাৎ ঘুমের চক্র (light sleep, deep sleep, REM) ঠিকভাবে সম্পন্ন না হওয়া

১. নিদ্রাহীনতা/ঘুম-শ্বাস সমস্যা — গোপন শ্বাসবদ্ধতা (Sleep Apnea), শ্বাসের অনিয়ম, বা ঘুমে হঠাৎ শ্বাস থেমে যাওয়া ঘুমের মান নষ্ট করে।

২. স্ক্রীন টাইম বেশি — ঘুমের আগে মোবাইল/ট্যাব বা ল্যাপটপ ব্যবহার ঘুমের গুণমান খারাপ করতে পারে।

৩. অনিয়মিত ঘুমচক্র — রাত এবং দিন মিলিয়ে ঘুমের সময়ের অনিয়ম থাকলে ঘুম ঠিকমতো কাজ করে না।

ভালো ঘুম মানে এমন ঘুম যা গভীর, অবিচ্ছিন্ন এবং পুনরুদ্ধারমূলক (restorative)। এই সময় শরীর কোষ পুনর্গঠন করে, স্মৃতি স্থায়ী হয়, হরমোন ভারসাম্য ঠিক হয় এবং মস্তিষ্ক টক্সিন পরিষ্কার করে। তাই সময় যতই হোক— যদি এই ধাপগুলো সম্পূর্ণ না হয় আপনি সকালে ক্লান্তই থাকবেন।

ঘুমের মান ভালো রাখার ৭টি বৈজ্ঞানিক উপায়:

১. একই সময়ে ঘুমানো ও জাগা: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় মেনে ঘুমালে আবার একই সময়ে উঠলে শরীরের জৈবিক ঘড়ি (circadian rhythm) স্থিতিশীল থাকে।

২. স্ক্রীন টাইম কমানো: ফোন বা ল্যাপটপের নীল আলো melatonin হরমোনের নিঃসরণ কমায় যা ঘুম বিলম্বিত করে। তাই ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে ফোন বা ল্যাপটপের ব্যাবহার বন্ধ করুন।

৩. ঘর ঠান্ডা, অন্ধকার ও নিরব রাখুন: আদর্শ ঘুমের তাপমাত্রা প্রায় ১৮–২০°C। হালকা পর্দা ও আরামদায়ক বিছানা সহায়ক ভালো ঘুমের সহায়ক।

৪. ক্যাফেইন সীমিত করুন: বিকেল বা রাতে চা–কফি এড়িয়ে চলুন। ক্যাফেইন ঘুম ভাঙার প্রধান কারণ।

৫. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন: ব্যায়াম ঘুমের মান উন্নত করে তবে ঘুমানোর অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে শেষ করুন।

৬. মানসিক প্রশান্তি আনুন: ঘুমের আগে হালকা বই পড়া, ধ্যান বা গভীর শ্বাস নেওয়া মস্তিষ্ককে শান্ত করে। এতে ঘুম ভালো হয়।

ভালো ঘুম মানে কেবল দীর্ঘ সময় নয়—এটা এমন এক মানসম্মত বিশ্রাম, যা আপনাকে সকালে শক্তি, মনোযোগ ও ভালো মানসিক অবস্থা দেয়। তাই আজ থেকেই বেশি নয়, ভালো ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481