ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শাকসু নির্বাচন স্থগিত : কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারি শিক্ষার্থীদের Logo শান্তিতে নোবেল জয়ী মাচাদোর সঙ্গে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প Logo প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ: ‘প্রশ্নফাঁসের বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রমাণ মেলেনি, শিগগির ফল প্রকাশ’ Logo পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে করাচিতে বিক্ষোভ Logo সরকারপন্থী মিছিল ‘বিদেশি শত্রুদের পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে’: খামেনি Logo ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ মানে শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র খর্ব: ভিপি সাদিক কায়েম Logo মুক্তাগাছায় জাতীয় পার্টির ২ শতাধিক নেতার বিএনপিতে যোগদান Logo পূর্ণিমা বললেন, ‘সবকিছুর জন্য আলহামদুলিল্লাহ’ Logo ৭ মাসেই বরখাস্ত আলোনসো, রিয়ালের নতুন কোচ আরবেলোয়া Logo মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আগুন ৫ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি

কুরআন পড়তে আটকে গেলে কি তেলাওয়াতকারী সওয়াব পাবেন?

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৪৫:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

মানুষের জীবনে এমন অনেক মুহূর্ত আসে, যখন ভালো কিছু করতে গিয়েও হোঁচট খায়। বিশেষ করে কুরআন তেলাওয়াতের সময়— উচ্চারণে জড়তা, আয়াত মনে রাখতে না পারা, বারবার থেমে যাওয়া— এসব কারণে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। কেউ কেউ তো লজ্জা বা ভয় থেকে কুরআন পড়াই ছেড়ে দেন। কিন্তু না, ইসলাম আমাদের শেখায়— আল্লাহ তাআলা শুধু ফলাফল দেখেন না, তিনি দেখেন চেষ্টা, কষ্ট আর নিয়ত। আর সেই কষ্টের মধ্যেই লুকিয়ে আছে বিশাল পুরস্কার। কষ্ট করে আটকে আটকে কুরআন তেলাওয়াতের সেই বিশাল পুরস্কার কী?

হাদিসের আলোয় কুরআন তেলাওয়াতের মর্যাদা

রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন এক সুসংবাদ দিয়েছেন, যা দুর্বল পাঠকদের জন্য আশার আলো। হাদিসে পাকে এসেছে, হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَهُوَ مَاهِرٌ بِهِ، مَعَ السَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ وَالَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيَتَتَعْتَعُ فِيهِ وَهُوَ عَلَيْهِ شَاقٌّ، لَهُ أَجْرَانِ

‘যে ব্যক্তি কুরআন সুন্দরভাবে ও দক্ষতার সাথে তেলাওয়াত করে, সে সম্মানিত ও নেক ফেরেশতাদের সঙ্গে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পড়তে গিয়ে আটকে যায়, কষ্ট অনুভব করে—তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব।’ (বুখারি ৪৯৩৭, মুসলিম ৭৯৮, মুসনাদে আহমাদ ২৪৭২১)

কেন দ্বিগুণ সওয়াব?

কষ্ট করে বা আটকে আটকে কুরআন তেলাওয়াতকারীর জন্য কেন দ্বিগুণ সওয়াব? এ প্রসঙ্গে ইমাম নববি (রহ.) বলেন—

‘একটি সওয়াব কুরআন তেলাওয়াতের জন্য, আর আরেকটি সওয়াব কষ্ট ও ধৈর্য ধারণ করার জন্য।’ অর্থাৎ— আপনি যদি সাবলীল না হন, যদি বারবার থামতে হয়, যদি কষ্ট হয়, তবুও আপনি কুরআন তেলাওয়াত ছাড়েন না। এই চেষ্টা ও অভ্যাস মহান আল্লাহ তাআলার কাছে অত্যন্ত প্রিয়।

 

কুরআনের আলোয় চেষ্টা ও ধৈর্যের মর্যাদা

কুরআন শেখার চেষ্টা করা একটি মহা সংগ্রাম। কেননা এই সংগ্রাম আল্লাহর পথেই চলার একটি মহৎ চেষ্টা। দুর্বল পাঠকদের জন্য প্রেরণার বার্তা। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا ۚ وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ

‘আর যারা আমার পথে চেষ্টা-সংগ্রাম করে, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথসমূহ দেখিয়ে দেব। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সঙ্গে আছেন।’ ( সুরা আল-আনকাবুত: আয়াত ৬৯)

ইসলাম প্রিয় ভাই ও বোনদের প্রতি আহ্বান—

> কুরআন পড়তে পারি না বলে হতাশ হবেন না

> ভুল হয় বলে লজ্জা পাবেন না

> দেরিতে শিখছি বলে নিজেকে ছোট ভাববেন না

> আপনার প্রতিটি কষ্টের অক্ষর আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত।

এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের আশ্বস্ত করেছেন— যে কুরআন তেলাওয়াত করতে বা শিখতে আগ্রহী ও কষ্ট করে প্রাণান্তকর চেষ্টা করে তারা পিছিয়ে নেই, বরং তারা দ্বিগুণ পুরস্কারের পথে আছেন।

সুতরাং কুরআন তেলাওয়াতকে কষ্টকর মনে করে এই কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন নয়, বরং দৃঢ় করুন। কুরআন শুধু সাবলীল কণ্ঠের জন্য নয়, কুরআন তাদের জন্যও— যারা কাঁপা কণ্ঠে, ভাঙা উচ্চারণে তেলাওয়াত করে, তবুও ভালোবাসা নিয়ে পড়ে। আজ যদি একটি আয়াত পড়তে কষ্ট হয়, তাহলে আগামীকাল আল্লাহ তাতে সহজতা এনে দেবেন—ইনশাআল্লাহ। তাই কুরআনের পথ ছেড়ে দেবেন না। কারণ এই পথেই রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

শাকসু নির্বাচন স্থগিত : কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারি শিক্ষার্থীদের

কুরআন পড়তে আটকে গেলে কি তেলাওয়াতকারী সওয়াব পাবেন?

আপডেট সময় ১২:৪৫:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

মানুষের জীবনে এমন অনেক মুহূর্ত আসে, যখন ভালো কিছু করতে গিয়েও হোঁচট খায়। বিশেষ করে কুরআন তেলাওয়াতের সময়— উচ্চারণে জড়তা, আয়াত মনে রাখতে না পারা, বারবার থেমে যাওয়া— এসব কারণে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। কেউ কেউ তো লজ্জা বা ভয় থেকে কুরআন পড়াই ছেড়ে দেন। কিন্তু না, ইসলাম আমাদের শেখায়— আল্লাহ তাআলা শুধু ফলাফল দেখেন না, তিনি দেখেন চেষ্টা, কষ্ট আর নিয়ত। আর সেই কষ্টের মধ্যেই লুকিয়ে আছে বিশাল পুরস্কার। কষ্ট করে আটকে আটকে কুরআন তেলাওয়াতের সেই বিশাল পুরস্কার কী?

হাদিসের আলোয় কুরআন তেলাওয়াতের মর্যাদা

রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন এক সুসংবাদ দিয়েছেন, যা দুর্বল পাঠকদের জন্য আশার আলো। হাদিসে পাকে এসেছে, হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَهُوَ مَاهِرٌ بِهِ، مَعَ السَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ وَالَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيَتَتَعْتَعُ فِيهِ وَهُوَ عَلَيْهِ شَاقٌّ، لَهُ أَجْرَانِ

‘যে ব্যক্তি কুরআন সুন্দরভাবে ও দক্ষতার সাথে তেলাওয়াত করে, সে সম্মানিত ও নেক ফেরেশতাদের সঙ্গে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পড়তে গিয়ে আটকে যায়, কষ্ট অনুভব করে—তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব।’ (বুখারি ৪৯৩৭, মুসলিম ৭৯৮, মুসনাদে আহমাদ ২৪৭২১)

কেন দ্বিগুণ সওয়াব?

কষ্ট করে বা আটকে আটকে কুরআন তেলাওয়াতকারীর জন্য কেন দ্বিগুণ সওয়াব? এ প্রসঙ্গে ইমাম নববি (রহ.) বলেন—

‘একটি সওয়াব কুরআন তেলাওয়াতের জন্য, আর আরেকটি সওয়াব কষ্ট ও ধৈর্য ধারণ করার জন্য।’ অর্থাৎ— আপনি যদি সাবলীল না হন, যদি বারবার থামতে হয়, যদি কষ্ট হয়, তবুও আপনি কুরআন তেলাওয়াত ছাড়েন না। এই চেষ্টা ও অভ্যাস মহান আল্লাহ তাআলার কাছে অত্যন্ত প্রিয়।

 

কুরআনের আলোয় চেষ্টা ও ধৈর্যের মর্যাদা

কুরআন শেখার চেষ্টা করা একটি মহা সংগ্রাম। কেননা এই সংগ্রাম আল্লাহর পথেই চলার একটি মহৎ চেষ্টা। দুর্বল পাঠকদের জন্য প্রেরণার বার্তা। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا ۚ وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ

‘আর যারা আমার পথে চেষ্টা-সংগ্রাম করে, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথসমূহ দেখিয়ে দেব। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সঙ্গে আছেন।’ ( সুরা আল-আনকাবুত: আয়াত ৬৯)

ইসলাম প্রিয় ভাই ও বোনদের প্রতি আহ্বান—

> কুরআন পড়তে পারি না বলে হতাশ হবেন না

> ভুল হয় বলে লজ্জা পাবেন না

> দেরিতে শিখছি বলে নিজেকে ছোট ভাববেন না

> আপনার প্রতিটি কষ্টের অক্ষর আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত।

এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের আশ্বস্ত করেছেন— যে কুরআন তেলাওয়াত করতে বা শিখতে আগ্রহী ও কষ্ট করে প্রাণান্তকর চেষ্টা করে তারা পিছিয়ে নেই, বরং তারা দ্বিগুণ পুরস্কারের পথে আছেন।

সুতরাং কুরআন তেলাওয়াতকে কষ্টকর মনে করে এই কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন নয়, বরং দৃঢ় করুন। কুরআন শুধু সাবলীল কণ্ঠের জন্য নয়, কুরআন তাদের জন্যও— যারা কাঁপা কণ্ঠে, ভাঙা উচ্চারণে তেলাওয়াত করে, তবুও ভালোবাসা নিয়ে পড়ে। আজ যদি একটি আয়াত পড়তে কষ্ট হয়, তাহলে আগামীকাল আল্লাহ তাতে সহজতা এনে দেবেন—ইনশাআল্লাহ। তাই কুরআনের পথ ছেড়ে দেবেন না। কারণ এই পথেই রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481