ঢাকা ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এক নারীর দুই স্বামী: বিরোধ মেটাতে থানায় দুই ঘণ্টা হট্টগোল ছাত্রদল নেতার

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:১১:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:
চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি পারিবারিক বিরোধ মীমাংসাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া কথাকাটাকাটি শেষ পর্যন্ত দুই ঘণ্টার হট্টগোল, উত্তেজনা এবং পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। থানার ভেতর এই বিশৃঙ্খলা তৈরি করেন ছাত্রদলের ১৫–২০ জন নেতাকর্মী। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত থানা কার্যক্রমও বিঘ্নিত হয়।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাঁচলাইশ থানায় বসে একটি সালিশ বৈঠক। এক নারীর দুই স্বামীসংক্রান্ত জটিলতা মীমাংসা করতে বৈঠকটির আয়োজন করা হয়। বৈঠকের উদ্যোগ নেন মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর। নারীর একজন স্বামীর পক্ষ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন তিনি। সালিশটি পরিচালনা করছিলেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তসলিম উদ্দিন।

বৈঠকের এক পর্যায়ে ওই নারী ও ছাত্রদল নেতা বাবরের মধ্যে কথা–কাটাকাটি শুরু হয়। নারী দাবি করেন, বাবর তার কথা বাধা দিচ্ছেন। এসময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পাশে থাকা থানার আরেক এসআই মাহফুজ পরিস্থিতি শান্ত করতে বাবরকে পিছু হটতে বলেন। পুলিশ দাবি করছে, কথার এক পর্যায়ে বাবর এসআই মাহফুজকে ধাক্কা দেন। ধাক্কা খেয়ে মাহফুজ একটি গ্লাসের সঙ্গে হাত ঠেকে তার এক আঙুল কেটে যায়।

ঘটনার পর এসআই মাহফুজ ক্ষুব্ধ হয়ে বাবরকে থানা থেকে বের করে দেন। বাবরের সমর্থকরা বিষয়টি ‘অপমান’ হিসেবে দেখেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচলাইশ থানায় জড়ো হতে শুরু করেন। রাত ১০টার দিকে ছাত্রদলের প্রায় ১৫–২০ জন নেতাকর্মী থানার ভেতরে অবস্থান নেন। তারা এসআই মাহফুজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলতে থাকেন। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে ধাক্কাধাক্কি, স্লোগান আর তর্কবিতর্ক। থানা ভবনের ভেতরে সাধারণ সেবাপ্রার্থীরাও আতঙ্কে বাইরে বেরিয়ে যান। একাধিক পুলিশ সদস্য বেষ্টনি তৈরি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

পুলিশের একজন সদস্য বলেন, তারা থানার ভেতর অনেকটা অবরোধ করে রেখেছিল। কাউকে সহজে ঢুকতেও দিচ্ছিল না, বের হতেও দিচ্ছিল না। থানার কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন কাজকর্ম স্থবির হয়ে পড়ে। কিছু সময়ের জন্য ডিউটি অফিসসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কক্ষ বন্ধ রাখতে হয়।

মধ্যরাতের কিছু আগে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। তিনি উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

ওসি সোলাইমান বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকে একটু সমস্যা হয়েছিল। আমি বাইরে ছিলাম, এসে বিষয়টি মিমাংসা করে দিই। তবে ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম বলেন, ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝি থেকেই হয়েছে। পরে সবাই বসে কথা বলেছে। এখন আর কোনো জটিলতা নেই। তবে সালিশ বৈঠকে কেন ছাত্রদলের নেতা উপস্থিত ছিলেন এবং কীভাবে একটি পারিবারিক বিরোধ থানার ভেতরে এমন উত্তেজনার জন্ম দিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, ‘রাজনৈতিক পরিচয়ের বলে’ প্রভাব খাটিয়ে সালিশে অংশ নেওয়া নতুন কিছু নয়, তবে থানার ভেতর হট্টগোল করা ‘অগ্রহণযোগ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

হাসপাতাল থেকে মায়ের বাসায় জোবাইদা রহমান

এক নারীর দুই স্বামী: বিরোধ মেটাতে থানায় দুই ঘণ্টা হট্টগোল ছাত্রদল নেতার

আপডেট সময় ০৫:১১:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

নিউজ ডেস্ক:
চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি পারিবারিক বিরোধ মীমাংসাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া কথাকাটাকাটি শেষ পর্যন্ত দুই ঘণ্টার হট্টগোল, উত্তেজনা এবং পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। থানার ভেতর এই বিশৃঙ্খলা তৈরি করেন ছাত্রদলের ১৫–২০ জন নেতাকর্মী। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত থানা কার্যক্রমও বিঘ্নিত হয়।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাঁচলাইশ থানায় বসে একটি সালিশ বৈঠক। এক নারীর দুই স্বামীসংক্রান্ত জটিলতা মীমাংসা করতে বৈঠকটির আয়োজন করা হয়। বৈঠকের উদ্যোগ নেন মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর। নারীর একজন স্বামীর পক্ষ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন তিনি। সালিশটি পরিচালনা করছিলেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তসলিম উদ্দিন।

বৈঠকের এক পর্যায়ে ওই নারী ও ছাত্রদল নেতা বাবরের মধ্যে কথা–কাটাকাটি শুরু হয়। নারী দাবি করেন, বাবর তার কথা বাধা দিচ্ছেন। এসময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পাশে থাকা থানার আরেক এসআই মাহফুজ পরিস্থিতি শান্ত করতে বাবরকে পিছু হটতে বলেন। পুলিশ দাবি করছে, কথার এক পর্যায়ে বাবর এসআই মাহফুজকে ধাক্কা দেন। ধাক্কা খেয়ে মাহফুজ একটি গ্লাসের সঙ্গে হাত ঠেকে তার এক আঙুল কেটে যায়।

ঘটনার পর এসআই মাহফুজ ক্ষুব্ধ হয়ে বাবরকে থানা থেকে বের করে দেন। বাবরের সমর্থকরা বিষয়টি ‘অপমান’ হিসেবে দেখেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচলাইশ থানায় জড়ো হতে শুরু করেন। রাত ১০টার দিকে ছাত্রদলের প্রায় ১৫–২০ জন নেতাকর্মী থানার ভেতরে অবস্থান নেন। তারা এসআই মাহফুজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলতে থাকেন। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে ধাক্কাধাক্কি, স্লোগান আর তর্কবিতর্ক। থানা ভবনের ভেতরে সাধারণ সেবাপ্রার্থীরাও আতঙ্কে বাইরে বেরিয়ে যান। একাধিক পুলিশ সদস্য বেষ্টনি তৈরি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

পুলিশের একজন সদস্য বলেন, তারা থানার ভেতর অনেকটা অবরোধ করে রেখেছিল। কাউকে সহজে ঢুকতেও দিচ্ছিল না, বের হতেও দিচ্ছিল না। থানার কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন কাজকর্ম স্থবির হয়ে পড়ে। কিছু সময়ের জন্য ডিউটি অফিসসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কক্ষ বন্ধ রাখতে হয়।

মধ্যরাতের কিছু আগে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। তিনি উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

ওসি সোলাইমান বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকে একটু সমস্যা হয়েছিল। আমি বাইরে ছিলাম, এসে বিষয়টি মিমাংসা করে দিই। তবে ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম বলেন, ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝি থেকেই হয়েছে। পরে সবাই বসে কথা বলেছে। এখন আর কোনো জটিলতা নেই। তবে সালিশ বৈঠকে কেন ছাত্রদলের নেতা উপস্থিত ছিলেন এবং কীভাবে একটি পারিবারিক বিরোধ থানার ভেতরে এমন উত্তেজনার জন্ম দিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, ‘রাজনৈতিক পরিচয়ের বলে’ প্রভাব খাটিয়ে সালিশে অংশ নেওয়া নতুন কিছু নয়, তবে থানার ভেতর হট্টগোল করা ‘অগ্রহণযোগ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ।’


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481