ঢাকা ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে ৫ পানীয়

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:২০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

প্রকৃতিতে এমন কিছু পানীয় আছে, যাতে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, পলিফেনল এবং নাইট্রেটের মতো উপাদানে থাকে। এসব উপাদান রক্তনালি প্রসারিত ও শিথিল করে, শরীরের প্রদাহ কমায় এবং সার্বিকভাবে হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখে। তাই এমন পাঁচটি পানীয় সম্পর্কে জেনে রাখুন, যেসব রাতে ঘুমানোর আগে খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়ক।

১. গ্রিন–টি: গ্রিন–টির উপকারিতা আমরা কমবেশি সবাই জানি। এর প্রধান গুণ ক্যাটেচিন নামে একধরনের অ্যান্টি–অক্সিডেন্টে। এটি রক্তনালিকে ভালোভাবে কাজ করতে সাহায্য করে এবং প্রদাহ কমায়।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত গ্রিন–টি খেলে সিস্টোলিক চাপ গড়ে প্রায় ২ মিলিমিটারস অব মার্কারি এবং ডায়াস্টোলিক চাপ প্রায় ১.৭ মিলিমিটারস অব মার্কারি পর্যন্ত কমতে পারে।

এ ছাড়া গ্রিন–টিতে আছে এল-থিয়ানিন নামে অ্যামাইনো অ্যাসিড, এটি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। তবে গ্রিন–টিতে সামান্য ক্যাফেইন থাকে। তাই রাতে ঘুমের সমস্যা হলে ক্যাফেইনমুক্ত গ্রিন–টি খাওয়া ভালো।

২. জবা ফুলের

চা: জবা ফুলের পাপড়ি থেকে তৈরি চা বহুদিন ধরেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন ও পলিফেনল নামে শক্তিশালী অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট রক্তনালিকে প্রসারিত করে। ফলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং রক্তচাপ কমে।

জবা ফুলের চা ক্যাফেইনমুক্ত হওয়ায় দিনের যেকোনো সময়, বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে খাওয়া আদর্শ। দেহের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এই চা।

৩. বিটের জুস: উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিটের জুস এককথায় অসাধারণ। বিটের জুসে প্রচুর নাইট্রেট থাকে। এই নাইট্রেট শরীরে গিয়ে নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়, যা রক্তনালিকে প্রশস্ত ও শিথিল করে। ফলে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয় এবং চাপ কমে। ভালো ফলাফলের জন্য চিনি ছাড়া ঘরে তৈরি তাজা বিটের জুস খান।

৪. ডালিমের রস: ডালিমের রসে থাকে প্রচুর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট। হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী। এর মধ্যে থাকা পলিফেনল রক্তনালির ভেতরের আস্তরণ বা এন্ডোথেলিয়ামের কার্যকারিতা বাড়ায়। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য অপরিহার্য।

শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড বাড়ায় ডালিমের রস এবং কোষের ক্ষয় কমিয়ে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। তবে ডালিমের রসে প্রাকৃতিক চিনি থাকে। তাই অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে এবং চিনি ছাড়া খাওয়াই শ্রেয়।

৫. ওট মিল্ক: ওট মিল্ক পুষ্টিকর উদ্ভিজ্জ পানীয়। এটি পরোক্ষভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এতে আছে বিটা-গ্লুকান নামে একপ্রকার দ্রবণীয় ফাইবার, যা কোলেস্টেরল কমাতে ও সার্বিকভাবে হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে কার্যকর।

ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট কিনুন

কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে এটি স্বাস্থ্যকর রক্তচাপ বজায় রাখতে সাহায্য করে। রাতে হালকা গরম ওট মিল্ক খেলে ঘুমও ভালো হয়।

মনে রাখবেন, এসব পানীয় কোনো জাদুকরি সমাধান নয়, স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অংশমাত্র। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক চাপ কমানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার পাশাপাশি এসব প্রাকৃতিক উপাদান আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে শারীরিক অবস্থা বা জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে ৫ পানীয়

আপডেট সময় ১০:২০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

প্রকৃতিতে এমন কিছু পানীয় আছে, যাতে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, পলিফেনল এবং নাইট্রেটের মতো উপাদানে থাকে। এসব উপাদান রক্তনালি প্রসারিত ও শিথিল করে, শরীরের প্রদাহ কমায় এবং সার্বিকভাবে হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখে। তাই এমন পাঁচটি পানীয় সম্পর্কে জেনে রাখুন, যেসব রাতে ঘুমানোর আগে খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়ক।

১. গ্রিন–টি: গ্রিন–টির উপকারিতা আমরা কমবেশি সবাই জানি। এর প্রধান গুণ ক্যাটেচিন নামে একধরনের অ্যান্টি–অক্সিডেন্টে। এটি রক্তনালিকে ভালোভাবে কাজ করতে সাহায্য করে এবং প্রদাহ কমায়।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত গ্রিন–টি খেলে সিস্টোলিক চাপ গড়ে প্রায় ২ মিলিমিটারস অব মার্কারি এবং ডায়াস্টোলিক চাপ প্রায় ১.৭ মিলিমিটারস অব মার্কারি পর্যন্ত কমতে পারে।

এ ছাড়া গ্রিন–টিতে আছে এল-থিয়ানিন নামে অ্যামাইনো অ্যাসিড, এটি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। তবে গ্রিন–টিতে সামান্য ক্যাফেইন থাকে। তাই রাতে ঘুমের সমস্যা হলে ক্যাফেইনমুক্ত গ্রিন–টি খাওয়া ভালো।

২. জবা ফুলের

চা: জবা ফুলের পাপড়ি থেকে তৈরি চা বহুদিন ধরেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন ও পলিফেনল নামে শক্তিশালী অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট রক্তনালিকে প্রসারিত করে। ফলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং রক্তচাপ কমে।

জবা ফুলের চা ক্যাফেইনমুক্ত হওয়ায় দিনের যেকোনো সময়, বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে খাওয়া আদর্শ। দেহের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এই চা।

৩. বিটের জুস: উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিটের জুস এককথায় অসাধারণ। বিটের জুসে প্রচুর নাইট্রেট থাকে। এই নাইট্রেট শরীরে গিয়ে নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়, যা রক্তনালিকে প্রশস্ত ও শিথিল করে। ফলে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয় এবং চাপ কমে। ভালো ফলাফলের জন্য চিনি ছাড়া ঘরে তৈরি তাজা বিটের জুস খান।

৪. ডালিমের রস: ডালিমের রসে থাকে প্রচুর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট। হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী। এর মধ্যে থাকা পলিফেনল রক্তনালির ভেতরের আস্তরণ বা এন্ডোথেলিয়ামের কার্যকারিতা বাড়ায়। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য অপরিহার্য।

শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড বাড়ায় ডালিমের রস এবং কোষের ক্ষয় কমিয়ে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। তবে ডালিমের রসে প্রাকৃতিক চিনি থাকে। তাই অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে এবং চিনি ছাড়া খাওয়াই শ্রেয়।

৫. ওট মিল্ক: ওট মিল্ক পুষ্টিকর উদ্ভিজ্জ পানীয়। এটি পরোক্ষভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এতে আছে বিটা-গ্লুকান নামে একপ্রকার দ্রবণীয় ফাইবার, যা কোলেস্টেরল কমাতে ও সার্বিকভাবে হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে কার্যকর।

ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট কিনুন

কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে এটি স্বাস্থ্যকর রক্তচাপ বজায় রাখতে সাহায্য করে। রাতে হালকা গরম ওট মিল্ক খেলে ঘুমও ভালো হয়।

মনে রাখবেন, এসব পানীয় কোনো জাদুকরি সমাধান নয়, স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অংশমাত্র। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক চাপ কমানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার পাশাপাশি এসব প্রাকৃতিক উপাদান আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে শারীরিক অবস্থা বা জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481