ঢাকা ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শ্বশুরবাড়ি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন তারেক রহমান Logo নির্বাচন ও গণভোটে ১৪ সদস্যের পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে কমনওয়েলথ Logo ক্রিকেটারদের সঙ্গে আজ জরুরি বৈঠক করবেন ক্রীড়া উপদেষ্টা Logo নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ঢাকায় আসছে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৭ সদস্য Logo গাজা ‘শান্তি পর্ষদে’ থাকছে আমিরাত, সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর, জর্দান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও কাতার Logo পানির ট্যাংক থেকে শিশু ননদের মরদেহ উদ্ধার, ভাবি গ্রেপ্তার Logo বিএনপির নির্বাচনি থিম সং প্রকাশ Logo সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন মারা গেছেন Logo আমার মিছিলে কোনো কিশোর গ্যাং থাকবে না: সাঈদ আল নোমান Logo নিউ ইয়র্কে টেক্সওয়ার্ল্ডে ১৫ প্রদর্শক নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশ

অনলাইন জুয়ার ফাঁদে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন গ্রামের মানুষ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:৫৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার গ্রামাঞ্চলে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়া নামক সামাজিক ব্যাধি। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে এখন গ্রামের তরুণ থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক অনেকেই অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, স্থানীয় বিকাশ দোকান, হাট-বাজার কিংবা চায়ের দোকানেও মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়া খেলার দৃশ্য। এক বিকাশ এজেন্টের দোকানে দেখা যায়, অটোরিকশা চালক নিজের একাউন্টে টাকা জমা দিতে এসে ফোনে ব্যস্ত। তার মোবাইল স্ক্রিনে খোলা ছিল একটি অনলাইন জুয়ার সাইট। বোঝা যায়, তিনি টাকা রিচার্জ করে জুয়া খেলছেন। দেখতে ভিডিও গেমের মতো হলেও, সেখানে প্রতিনিয়ত হারাচ্ছেন তার কষ্টার্জিত টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, লোভের বশবর্তী হয়ে অনেক যুবক এই জুয়ার জগতে পা রেখেছেন। কেউ কেউ ভাগ্যের জোরে কিছু টাকা জিতে হঠাৎ ধনী হয়ে পড়ছেন, আবার অনেকেই সব হারিয়ে পথে বসছেন। এলাকায় এমন অনেকের দেখা মেলে যারা কোনো দৃশ্যমান কাজ না করেও হঠাৎ বাড়ি, গাড়ির মালিক হয়েছেন। ফলে অনেক তরুণ তাদের অনুকরণ করে লোভে পড়ে সব হারিয়ে ফেলছেন।

সিএনজি চালক আব্দুল হালিম বলেন, আগে আমার দুটি সিএনজি ছিল। এক পরিচিত বন্ধুর মাধ্যমে অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়ি। প্রথমে কিছু টাকা জিতেছিলাম, পরে হারতে হারতে সব শেষ। এখন আমি একেবারে নিঃস্ব।

দিনমজুর রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন কাজ করে ১২০০ টাকা আয় করতাম, যা দিয়ে সংসার ভালোভাবেই চলতো। একদিন এক বন্ধুকে দেখি ১০ মিনিটে ১০০ টাকার বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা জিতলো। এটা দেখে লোভে পড়ে আমিও জুয়া খেলতে শুরু করি। এখন ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আমি পালিয়ে বেড়াই।

স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, জুয়া খেলার পেছনে কাজ করছে একাধিক স্থানীয় এজেন্ট। তারা মূলত অনলাইন জুয়া সাইটের প্রতিনিধিত্ব করে। একজন খেলোয়াড় যত বেশি টাকা হারান, তার নির্দিষ্ট একটি শতাংশ সরাসরি ওই এজেন্টের একাউন্টে জমা হয়। ফলে দিন দিন এজেন্টের সংখ্যা বাড়ছে এবং তারাই এই জুয়ার নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে গ্রামে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অনলাইন জুয়া বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক ভূমিকা নিতে হবে। একই সঙ্গে টেলিকম ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে এসব অবৈধ অ্যাপ ও লেনদেন বন্ধ করা যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

শ্বশুরবাড়ি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন তারেক রহমান

অনলাইন জুয়ার ফাঁদে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন গ্রামের মানুষ

আপডেট সময় ০২:৫৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার গ্রামাঞ্চলে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়া নামক সামাজিক ব্যাধি। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে এখন গ্রামের তরুণ থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক অনেকেই অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, স্থানীয় বিকাশ দোকান, হাট-বাজার কিংবা চায়ের দোকানেও মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়া খেলার দৃশ্য। এক বিকাশ এজেন্টের দোকানে দেখা যায়, অটোরিকশা চালক নিজের একাউন্টে টাকা জমা দিতে এসে ফোনে ব্যস্ত। তার মোবাইল স্ক্রিনে খোলা ছিল একটি অনলাইন জুয়ার সাইট। বোঝা যায়, তিনি টাকা রিচার্জ করে জুয়া খেলছেন। দেখতে ভিডিও গেমের মতো হলেও, সেখানে প্রতিনিয়ত হারাচ্ছেন তার কষ্টার্জিত টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, লোভের বশবর্তী হয়ে অনেক যুবক এই জুয়ার জগতে পা রেখেছেন। কেউ কেউ ভাগ্যের জোরে কিছু টাকা জিতে হঠাৎ ধনী হয়ে পড়ছেন, আবার অনেকেই সব হারিয়ে পথে বসছেন। এলাকায় এমন অনেকের দেখা মেলে যারা কোনো দৃশ্যমান কাজ না করেও হঠাৎ বাড়ি, গাড়ির মালিক হয়েছেন। ফলে অনেক তরুণ তাদের অনুকরণ করে লোভে পড়ে সব হারিয়ে ফেলছেন।

সিএনজি চালক আব্দুল হালিম বলেন, আগে আমার দুটি সিএনজি ছিল। এক পরিচিত বন্ধুর মাধ্যমে অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়ি। প্রথমে কিছু টাকা জিতেছিলাম, পরে হারতে হারতে সব শেষ। এখন আমি একেবারে নিঃস্ব।

দিনমজুর রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন কাজ করে ১২০০ টাকা আয় করতাম, যা দিয়ে সংসার ভালোভাবেই চলতো। একদিন এক বন্ধুকে দেখি ১০ মিনিটে ১০০ টাকার বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা জিতলো। এটা দেখে লোভে পড়ে আমিও জুয়া খেলতে শুরু করি। এখন ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আমি পালিয়ে বেড়াই।

স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, জুয়া খেলার পেছনে কাজ করছে একাধিক স্থানীয় এজেন্ট। তারা মূলত অনলাইন জুয়া সাইটের প্রতিনিধিত্ব করে। একজন খেলোয়াড় যত বেশি টাকা হারান, তার নির্দিষ্ট একটি শতাংশ সরাসরি ওই এজেন্টের একাউন্টে জমা হয়। ফলে দিন দিন এজেন্টের সংখ্যা বাড়ছে এবং তারাই এই জুয়ার নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে গ্রামে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অনলাইন জুয়া বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক ভূমিকা নিতে হবে। একই সঙ্গে টেলিকম ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে এসব অবৈধ অ্যাপ ও লেনদেন বন্ধ করা যায়।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481